জিমে না গিয়েও ভুঁড়ি কমাবেন যেভাবে
মধ্যবয়সে পা দিতে না দিতেই অনেকের সঙ্গী হয়ে উঠেছে ভুঁড়ি। এই ভুঁড়ি যে ভীষণ অস্বস্তিকর, তা আর বলতে! মেদ বা ভুঁড়ি কমাতে অনেকে যান জিমে। কিন্তু কাজের চাপে তা ধরে রাখেন না অনেকেই। তবে জিমে না গিয়েও ভুঁড়ি কমানো সম্ভব। কীভাবে?
ভুঁড়ি কমানোর আগে জানা প্রয়োজন শরীরে বা পেটে কেন অতিরিক্ত মেদ জমে। পেটে যে মেদ জমে, তাকে বলে ‘সাবকুটেনিয়াস ফ্যাট’। এটি মূলত ত্বকের নিচের চর্বি। প্রতিদিন যে পরিমাণ ক্যালরি গ্রহণ করা হয়, দিন শেষে যদি সে পরিমাণ ক্যালরি বার্ন না হয়, তবে তা শরীরে জমা হয়ে থাকে। এই সঞ্চিত ক্যালরি চর্বি আকারে জমা হয় পেট ও পেটের আশপাশে। তবে নিয়মিত কিছু কাজ করলেই মেদ কেটে যাবে।
চিনি কমান
মেদ বা ভুঁড়ি কমানোর জন্য সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো চিনি কমিয়ে ফেলা। চিনিজাতীয় যেকোনো খাবার, যেমন চা, কফি, কোমল পানীয়, মিষ্টিজাতীয় খাবার পরিহার করুন। চেষ্টা করুন চিনিবিহীন পানীয় খেতে। যেমন র চা, ব্ল্যাক কফি, গ্রিন-টি ইত্যাদি। চিনিযুক্ত খাবারের পরিবর্তে চেষ্টা করুন প্রাকৃতিক খাবার খেতে। ফলমূল, শাকসবজি, যেখানে প্রাকৃতিক চিনি আছে, এমন খাবারে অভ্যাস করুন।
তৈলাক্ত খাবার পরিহার করুন
অফিসে কাজের ফাঁকে স্ন্যাকস হিসেবে অনেকেই প্রাধান্য দেন তৈলাক্ত খাবারকে। অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার শরীরে অতিরিক্ত চর্বি যুক্ত করে, তা ঝরাতেও করতে হয় বাড়তি কষ্ট। ফাস্ট ফুড অথবা অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার করাই শ্রেয়।
প্রোটিন ও ফাইবারযুক্ত খাবার খান
পেটের মেদ বা ভুঁড়ি কমাতে প্রোটিন ও ফাইবারযুক্ত খাবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফাইবারযুক্ত খাবার হজমে যেমন সাহায্য করে, তেমনই দীর্ঘ সময় ধরে পেট ভরা থাকে। ফলে সময়ে অসময়ে এটা-সেটা খাওয়ার অভ্যাস কমে আসে।
শরীর চাঙা রাখুন
জিমে না গিয়ে প্রতিদিন কিছু কাজ করলেই শরীর চাঙা রাখা সম্ভব। যেমন নিয়ম করে প্রতিদিন হাঁটা, ঘরের বিভিন্ন কাজ করা, অফিসের কাজের ফাঁকে ফাঁকে শরীর সচল রাখা। ছোট ছোট এসব কাজের ফলে শরীর সচল থাকে। অতিরিক্ত মেদ শরীরে জমতে পারে না।
পর্যাপ্ত পানি খান
ওজন কমাতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে পানি। কাজের চাপে অনেকেই পানি খেতে ভুলে যান, ফলে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হয়। পানিশূন্য শরীর অতিরিক্ত চর্বি বার্ন করতে পারে না। নিয়মিত পানি খেলে পেট ভরা ভরা লাগে। কিছুক্ষণ পর পর খিদা লাগে না।
পর্যাপ্ত ঘুমান
একটা বয়সের পর অনেকে পর্যাপ্ত ঘুমান না বা ঘুমাতে পারেন না, বিশেষ করে যৌবনে পা দেওয়ার পর থেকে রাতে ঘুমের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে কমতে থাকে। ঘুমের অভাব পেটের ওপর প্রভাব ফেলে। শরীর পর্যাপ্ত বিশ্রাম পেলে সহজে চর্বি বার্ন করতে পারে।
মনের ওপর চাপ কমান
চাপের সঙ্গে ওজন বাড়ার বেশ ভালো সম্পর্ক আছে। প্রতিদিন যত কাজই করুন না কেন, চেষ্টা করবেন মনের ওপর থেকে চাপ কমিয়ে রাখার। কাজের মধ্যে বিরতি নিয়ে অথবা ব্রিদিং প্র্যাকটিসের মাধ্যমে চেষ্টা করবেন চাপ কমিয়ে ফেলার। চাপমুক্ত মন ওজন কমাতে বড় ভূমিকা রাখে।
সূত্র: হেলথলাইন