রিংয়ে ঝুললে কি সত্যিই লম্বা হওয়া যায়
অনেকেই মনে করে রিংয়ে ঝুললেই লম্বা হওয়া যায়। অনেক অভিভাবকও এ জন্য শিশুকে রিংয়ে ঝোলার ব্যবস্থা করে দেন। আদতেই কি রিংয়ে ঝুলে লম্বা হওয়া যায়? এ ধরনের ব্যায়াম কি আদৌ শিশুর জন্য উপকারী?
আসলে একটি শিশু কতটা লম্বা হবে, অনেকগুলো বিষয়ের ওপর তা নির্ভর করে। নিয়মিত শরীরচর্চা ও সঠিক দেহভঙ্গি সেগুলোর অন্যতম। উঁচু জায়গায় আটকানো রিং ধরে যখন কেউ ঝোলে, তখন তার হাত, কাঁধ আর পিঠের পেশি টান টান হয়। নিয়মিত এই ব্যায়াম করা হলে দেহের এসব অংশের পেশি মজবুত হয়ে ওঠে। এই ব্যায়ামের সময় দেহের বাকি অংশও সোজা ভঙ্গিতে থাকে।
সব মিলিয়ে তা একটি শিশুর বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। এমনটাই বলছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. তাসনুভা খান।
তার মানে এই নয় যে কেউ রিংয়ে ঝুললে অবশ্যই লম্বা হবে। কারণ, একটি শিশু বংশগতভাবে তার পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে নিজের উচ্চতার যে জিন পেয়েছে, সেটির ওপরেই তার উচ্চতা অনেকাংশে নির্ভর করে। আবার একটি শিশু বেশ লম্বা হওয়ার জিন পেয়ে থাকলেও যদি তার গ্রোথ হরমোনের ঘাটতি থাকে, তাহলে তার বৃদ্ধি ব্যাহত হবে।
আবার হরমোন ও জিনগত দিক ঠিক থাকলেও যদি তার আমিষ, ক্যালসিয়াম কিংবা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি থাকে কিংবা সে সারা দিন ডিজিটাল ডিভাইস নিয়ে কুঁজো হয়ে বসে থাকে, তাহলে কিন্তু সে খুব একটা লম্বা হবে না।
দেহভঙ্গি হোক সোজা, ঘুম হোক ঠিকঠাক
স্বাভাবিক দেহভঙ্গি বজায় রাখার চর্চা গড়ে তোলা আবশ্যক। বইয়ের ব্যাগের ভারে শিশু যেন নুয়ে না পড়ে। পড়ার সময় যাতে সে ঘাড় নুইয়ে না ফেলে। এমনকি শোয়ার সময়ও জবুথবু হয়ে থাকতে নেই। আর পর্যাপ্ত ঘুমও জরুরি। কারণ, ঘুমের সময় গ্রোথ হরমোন নিঃসৃত হয়। এই হরমোনের প্রভাবেই শিশুর দেহ বাড়তে থাকে। তাই ঘুমের ঘাটতির জন্য কারও কারও বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
এভাবেও শরীরচর্চা হতে পারে
লম্বা হওয়ার জন্য শরীরচর্চা খুব গুরুত্বপূর্ণ। স্বাভাবিক দৌড়ঝাঁপ বা খেলাধুলায় শিশুর পর্যাপ্ত শরীরচর্চা হয়ে যায়। তবে আজকাল শহুরে জীবনে সেই সুযোগ থেকে অনেক শিশুই বঞ্চিত। সে ক্ষেত্রে শিশুর জন্য এমনভাবে শরীরচর্চার ব্যবস্থা করে দিন, যা তার জীবনধারার উপযোগী। বাড়ির নিচে ঝোলার জন্য একটা রিং বসিয়ে নিলে সে আনন্দের সঙ্গেই খানিকটা সময় কাটাতে পারবে রোজ। স্বাস্থ্যকর সময়যাপনে তার লম্বা হওয়ার সুযোগও থাকবে।
আরও যা
রিংয়ে ঝোলার ব্যবস্থা করা ছাড়াও তার বৃদ্ধির জন্য লাগিয়ে নিতে পারেন বাস্কেটবল রিং। অল্প জায়গায় শিশুর জন্য এ রকম একটি রিং লাগিয়ে নেওয়া সম্ভব। নিরাপদ ছাদে, বাড়ির গ্যারেজে কিংবা পার্কে সাইকেল চালাতে দিতে পারেন।
দড়িলাফ কিংবা ব্যাডমিন্টন খেলার সুযোগ করে দিতে পারেন বাড়ির সামনে। তায়কোয়ান্দো, কারাতে, ক্রিকেট বা ফুটবলের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ব্যবস্থাও করতে পারেন। আর অন্তত ছুটির দিনগুলোয় হুটোপাটি কিংবা দৌড়ঝাঁপ করে খেলাধুলার সুযোগ পেলে তো কথাই নেই।
মোটকথা, তাকে কোনো একটা শরীরচর্চার সঙ্গে যুক্ত রাখতে হবে। রঙিন শৈশবের দিনগুলোয় উচ্ছলতা নিয়েই বাড়ুক শিশু।