ট্রাম্পের করপোরেট কর হ্রাসের ঘোষণায় রেকর্ড চাঙা মার্কিন পুঁজিবাজার, কমল তেলের দাম
যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজার সূচক ‘এসঅ্যান্ডপি ৫০০’ গতকাল বৃহস্পতিবার এযাবৎকালের রেকর্ড ভেঙে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর মধ্য দিয়ে দেশটির পুঁজিবাজার প্রাথমিক মন্দা কাটিয়ে চাঙা হয়ে উঠল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প করপোরেট কর হ্রাসের প্রতিশ্রুতি দিলে পুঁজিবাজারে এ ইতিবাচক প্রবণতা দেখা দেয়।
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সম্মেলনে গতকাল ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তৃতা দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এ সময় তিনি স্বল্প সুদহারের ওপর জোর দেন। বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ করা কোম্পানিগুলোর জন্য তিনি কর হ্রাস করবেন ও যারা বিনিয়োগ করবে না, তাদের শুল্ক বাড়াবেন।
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে দেওয়া বক্তৃতায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্বল্প সুদহারের ওপর জোর দেন। বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ করা কোম্পানিগুলোর জন্য তিনি কর হ্রাস করবেন ও যারা বিনিয়োগ করবে না, তাদের শুল্ক বাড়াবেন।
ট্রাম্প তাঁর বক্তৃতায় সৌদি আরব ও পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেকের প্রতিও তেলের দাম কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর এসব পদক্ষেপে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে।
ট্রাম্পের করপোরেট কর হ্রাসের ঘোষণায় গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারের সূচক ‘এসঅ্যান্ডপি ৫০০’ শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৬,১১৮ দশমিক ৭১ এ শেষ হয়েছে, যা এক নতুন রেকর্ড।
ট্রাম্পের কর হ্রাসের বার্তায় আনন্দ প্রকাশ করেছেন বিনিয়োগকারীরা। ক্রিসেট ক্যাপিটালের জ্যাক অ্যাবলিন বলেন, ‘ট্রাম্পের শুল্কসংক্রান্ত বার্তাকে নিশ্চিতভাবে সবাই বুঝবেন এবং আমরা এখন কর সুবিধা নিয়ে আরও কিছু শুনতে চাই।’
প্রসঙ্গত, নির্বাচনী প্রচারণায় ডোনাল্ড ট্রাম্প যেসব অঙ্গীকার করেছিলেন, সেগুলো বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের করপোরেট মুনাফা বাড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তাঁর অঙ্গীকারের মধ্যে আছে বাণিজ্য সংস্কার, কর হ্রাস ও সরকারি বিধিবিধানের লাগাম আলগা করা।
ট্রাম্পের শুল্কসংক্রান্ত বার্তাকে নিশ্চিতভাবে সবাই বুঝবেন এবং আমরা এখন কর–সুবিধা নিয়ে আরও কিছু শুনতে চাই।জ্যাক অ্যাবলিন, ক্রিসেট ক্যাপিটালের কর্মকর্তা
তবে অনেক অর্থনীতিবিদ বলছেন, ট্রাম্পের এসব অঙ্গীকার বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির হার উল্টো বেড়ে যেতে পারে। তখন ফেডারেল রিজার্ভ আবার নীতি সুদহার বাড়াতে বাধ্য হতে পারে।
ধারণা করা হচ্ছিল, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে প্রথম দিনই ট্রাম্প কানাডা ও মেক্সিকোর পণ্যে আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি করতে পারেন, কিন্তু শেষমেশ তা হয়নি। সম্ভবত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ট্রাম্প কানাডার পণ্যে শুল্ক আরোপ করবেন। গত সোমবার ওভাল অফিসে বসে কোন কোন দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সম্পর্কে অন্যায্যতা আছে, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
নির্বাচনী প্রচারণায় ডোনাল্ড ট্রাম্প যেসব অঙ্গীকার করেছিলেন, সেগুলো বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের করপোরেট মুনাফা বাড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তাঁর অঙ্গীকারের মধ্যে আছে বাণিজ্য সংস্কার, কর হ্রাস ও সরকারি বিধিবিধানের লাগাম আলগা করা।
কানাডা ও মেক্সিকো থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। হয়তো সে জন্য ট্রাম্প বলেছেন, কানাডা ও মেক্সিকোর পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের চিন্তা আছে। বিশেষ করে কানাডার সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশটি অনেক সুযোগের অপব্যবহার করে।
এ ছাড়া নির্বাচনী প্রচারের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সব আমদানি পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা বলেছিলেন ট্রাম্প। পাশাপাশি চীনের পণ্যে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি।
ট্রাম্পের ধারণা, আমদানি পণ্যে শুল্ক আরোপ করলে যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে। সমালোচকেরা অবশ্য মনে করেন, এসব শুল্কের ভার শেষমেশ ভোক্তাদের ঘাড়েই বর্তাবে।