ফ্রান্সজুড়ে ডানপন্থীদের বিক্ষোভের ডাক

ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সান্না মারিনএএফপি ফাইল ছবি

ফ্রান্সের ডানপন্থী পার্টি ন্যাশনাল র‍্যালি (আরএন) নেতা জর্ডান বারডেলা দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন। দলটির প্রধান মারিন লো পেনের বিরুদ্ধে আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে এ সপ্তাহে বড় বিক্ষোভ করার ডাক দেন তিনি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মারিন লো পেনকে সাজা দিয়েছেন ফ্রান্সের একটি আদালত।

আদালত লোর ওপর সরকারি দায়িত্ব পালনে পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি তাঁকে চার বছরের কারাদণ্ড এবং এক লাখ ইউরো জরিমানা করেছেন। গত সোমবার প্যারিসের একটি আদালত এ রায় দেন। এর ফলে তিনি ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়তে পারবেন না। তবে আদালতে আপিল করে জিতে গেলে তাঁর জন্য নির্বাচনে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

মাইকেল বি জর্ডান

আদালতের এ আদেশ ফ্রান্সের ন্যাশনাল র‍্যালি (আর এন) দলটির প্রধান লো পেনের

জন্য বড় ধরনের ধাক্কা। ২০২৭ সালে অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জনপ্রিয়তার দিক থেকে তিনি এগিয়ে ছিলেন।

লো পেনের বিরুদ্ধে আদালতের দেওয়া রায়কে অতি-ডানপন্থী নেতারা পক্ষপাতদুষ্ট এবং অগণতান্ত্রিক বলে অভিহিত করেছেন। বারডেলা ইউরোপ ওয়ান রেডিও ও সিনিউজ টিভিকে বলেছেন, ‘আমি মনে করি, আদালতের এ রায়ে ফরাসিদের অবশ্যই ক্ষুব্ধ হতে হবে। আমি তাদের বলছি, ক্ষুব্ধ হোন।’

বারডেলা হুমকি দিয়ে বলেন, ‘এ সপ্তাহে আমরা রাজপথে নামব। আমরা লিফলেট বিতরণ থেকে শুরু করে গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ আয়োজন করছি।’

বিক্ষোভ বিষয়ে অবশ্য বিস্তারিত প্রকাশ করেননি ডানপন্থী এই নেতা। তবে ফ্রান্সের বিভিন্ন এলাকায় লিফলেট বিতরণ শুরু হয়ে গেছে। এর মধ্যে উত্তর ফ্রান্সে ডানপন্থীদের সমর্থনপুষ্ট এলাকা হেনিন-বিউমাউন্টে আরএনের নেতারা লিফলেট বিতরণ করছেন। এসব লিফলেটে লেখা আছে ‘চলো গণতন্ত্র রক্ষা করি। লো পেনকে সমর্থন করুন।’

আদালতের রায় কার্যকর হলে ২০২৭ সালে লো পেন নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। তাঁর পরিবর্তে অংশ নিতে পারেন বারডেলা। তবে লো পেন শিগগিরই হার মানছেন না। সোমবার তিনি বরেন, ‘আমি এভাবে নিজেকে হারিয়ে যেতে দিতে পারি না।’ গতকাল মঙ্গলবার বারডেলার পক্ষ থেকে লো পেনকে সমর্থন জানানো হয়। লো পেন বলেন, তিনি শিগগিরই আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। তিনি আদালতের রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, তাঁকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বাধা দিতে এ রায় দেওয়া হয়েছে।

এর আগে তিনবার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেন ডানপন্থী নেতা লো পেন। তিনি বলেন, ২০২৭ সালে তিনি শেষবার অংশ নিতে চান। গতকাল দলের নেতা-কর্মীদের তিনি বলেন, ‘আমরা হাল ছাড়ব না।’ তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন সেনাবাহিনী তাঁর বিরুদ্ধে পারমাণবিক বোমাহামলা করেছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) তহবিলের অর্থ আত্মসাৎ করে নিজ দল ফ্রেঞ্চ ন্যাশনাল র‌্যালিকে (আরএন) দেওয়ার দায়ে লো পেনসহ তাঁর দলের ১২ সংসদীয় সহযোগীকে (পার্লামেন্টারি অ্যাসিস্ট্যান্ট) দোষী সাব্যস্ত করেছেন আদালত। তাঁদের দাবি, অর্থ বৈধভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল। আদালত বলেছেন, তাঁর দল আরএন এবং তাঁদের দুই ডজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে ইইউ পার্লামেন্টের তহবিল থেকে ৪০ লাখ ইউরোর বেশি অর্থ দিয়ে তাঁরা ফ্রান্সে থাকা দলের কর্মীদের বেতনভাতা দিয়েছেন। তবে আরএনের দাবি, তারা বৈধ উপায়েই ওই অর্থ ব্যবহার করেছে এবং অভিযোগগুলোতে সংসদীয় সহযোগীর কাজকে সংকীর্ণভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

বিচারক বেনেডিক্ট দ্য পের্তুই বলেন, লো পেন অর্থ আত্মসাৎ পরিকল্পনার মূলে ছিলেন।

২০১৭ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এমানুয়েল মাখোঁর কাছে পরাজয়ের পর থেকে লো পেন তাঁর দলকে রাজনৈতিক মূলধারার দিকে নিয়ে গেছেন। তিনি এখন জাতীয় পরিষদের একক বৃহত্তম দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

বিচারক পের্তুই বলেন, এটা প্রমাণিত হয়েছে যে এঁরা সবাই মূলত দলের হয়ে কাজ করেছেন, তাঁদের (ইইউ) আইনপ্রণেতারা তাঁদের কোনো কাজই দেননি। তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে যে এগুলো মোটেই প্রশাসনিক কোনো ত্রুটি নয়, বরং প্রণীত একটি ব্যবস্থার কাঠামোর মধ্যে আত্মসাৎ, যা করা হয়েছে দলের খরচ কমানোর জন্য।