চ্যাম্পিয়নস ট্রফি দিয়ে আইসিসি টুর্নামেন্টে অভিষেক হয়ে গেল আপনার। অনুভূতিটা কেমন?
নাহিদ রানা: খুব আলাদা কিছু মনে হয়নি। স্বাভাবিকই লেগেছে সবকিছু। আসলে নিজের দেশের জন্য খেলার অনুভূতি সব সময়ই একই। আমি যখন প্রথম আফগানিস্তানের সঙ্গে খেলার জন্য জাতীয় দলে ডাক পেলাম, ভেতরে একটা অন্য রকম ভালো লাগা কাজ করেছে। আইসিসি টুর্নামেন্টেও ওই একই অনুভূতি। এভাবে দেখিনি যে অন্য একটা সিরিজ আর এটা আলাদা। আগের সিরিজে যেভাবে সফল হয়েছি, ওটাই করার চেষ্টা করেছি।
টুর্নামেন্টে যাওয়ার পর তো নিশ্চয়ই টের পেয়েছেন যে আপনার দিকে সবার একটা বাড়তি চোখ আছে...
নাহিদ: এগুলো নিয়ে আমি কখনো ভাবি না। ভালো করলে যেমন মানুষ কথা বলবে, খারাপ করলেও বলবে। ভালো বা খারাপ যা–ই করি, কথা চলতেই থাকবে। আমার কাজ একটাই, কীভাবে দলের জন্য আমার সেরা পারফরম্যান্সটা করতে পারি।
অনেক কিংবদন্তিও আপনাকে নিয়ে অনেক কথা বলেছে, এটা কেমন লেগেছে?
নাহিদ: আগে মনে হতো, যাদের খেলা টিভিতে দেখেছি, তারা এখন আমাকে নিয়ে কথা বলছে। কিন্তু এখন আর তেমন মনে হয় না। সবকিছু স্বাভাবিক লাগে। মনে হয় যে কথা তো চলতেই থাকবে!
বছরখানেক আগে আপনি জাতীয় দলে এসেছিলেন। এই এক বছরে জীবন তো নিশ্চয়ই অনেক বদলে গেছে?
নাহিদ: একটু বদলাবে, এটাই তো স্বাভাবিক। এক দুনিয়া থেকে আরেকটাতে চলে এসেছি। এখানে অনেক নিয়মকানুন মানতে হয়। খাদ্যাভ্যাস বদলে গেছে। নিয়মিত সাঁতার কাটতে হয় নিজের শরীরকে ফিট রাখতে। আরও অনেক কিছুই করতে হয়। টিকে থাকতে হলে এটা করতেই হবে।
আপনার বলের গতি নিয়েই চারদিকে শোরগোল। গতিটা কোত্থেকে পান বলে মনে হয়?
নাহিদ: কিছুটা তো ওপরওয়ালা প্রদত্ত। এর সঙ্গে কঠোর পরিশ্রম আর নিয়মানুবর্তিতা, এসব থেকেই গতিটা আসে বলে আমার ধারণা।
আপনি যে অনেক জোরে বল করেন, এটা কখন আবিষ্কার করলেন?
নাহিদ: যখন খেলতে শুরু করলাম, তখন থেকেই বুঝতে পারতাম। ওই সময় রাবার বলে খেলতাম। এলাকার সবাই বলত যে জোরে বল করি। আমি নিজেও তখনই টের পাই। এরপর তো ক্লাবে ভর্তি হলাম, দিন দিন গতি বাড়ল।
আপনার বোলিংয়ে সবচেয়ে শক্তির জায়গাটা কী?
নাহিদ: গতি তো আমার আছেই। এর সঙ্গে লাইন–লেন্থটা ঠিক রাখতে যদি পারি, তাহলে সফল হওয়া যাবে।
আপনার গতি নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশে গতি থাকলে চোটে পড়া একরকম নিয়ম। আপনি এ নিয়ে কতটা সচেতন?
নাহিদ: আমার তরফ থেকে শতভাগ চেষ্টা করছি কীভাবে ফিট থাকা যায়। চোটে না পড়ার জন্য যে কাজগুলো করা দরকার, সেগুলো করছি। নিজের স্কিল বলেন, ফিটনেস বলেন, সবকিছুই আরও ওপরে নিতে চেষ্টা করছি। বিসিবি থেকেও আমাকে বলে দেওয়া হয়, তুমি আজকে এতগুলো ওভার করবে, এতটুকু সময় জিম করবে; এই রুটিন অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করি।
বোলিংয়ের সময় আপনার মানসিক ব্যাপারটা কেমন থাকে। ধরুন, দুই বলে দুটি ছক্কা খেলেন। তখন মাথায় কী কাজ করে?
নাহিদ: ক্রিকেট খেলতে গেলে মার খাবই। ব্যাটসম্যান আসে মারার জন্য, আমি বল করি উইকেট নেওয়ার জন্য। হয় ব্যাটসম্যান আউট হবে, নয়তো মার খাব। এগুলো নিয়ে কখনো ভড়কে যাই না। চেষ্টা করি, একটা বল মেরে দিলে কীভাবে শান্ত থাকা যায়, আর পরের বলটা ভালো করা যায়।
জাতীয় দলে আসার আগে আপনি দুই মৌসুম প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন, ওই অভিজ্ঞতাটা কি কাজে দিয়েছে?
নাহিদ: প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলায় আমার জন্য বুঝতে সহজ হয়েছে কী ঘাটতি আছে। বুঝতে পেরেছি, কোথায় উন্নতি করলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টিকতে পারব। ওখানে যে স্কিলগুলো দিয়ে সফল হয়েছি, এখানে হয়তো হই না। তার মানে আমার নতুন একটা স্কিলে উন্নতি করতে হবে। প্রথম শ্রেণির ম্যাচ যদি এত না খেলতাম, তাহলে হয়তো বোঝাটা আরেকটু কঠিন হতো।
এখন যে ভিন্ন ভিন্ন কন্ডিশনে খেলেন, কীভাবে মানিয়ে নেন?
নাহিদ: যখন যে দেশে যাবেন, আবহাওয়া, উইকেট, কন্ডিশন সবকিছু আলাদা হবে। আমরা পেশাদার ক্রিকেটার, এটা বলার সুযোগ নেই যে এখানে কঠিন। আমরা যেহেতু খেলছি, সব জায়গায় মানিয়ে নিতে হবে। বলা যাবে না এটা ব্যাটিং উইকেট কিংবা বোলিং উইকেট। যখন, যেখানে যাব, সব জায়গায় মানিয়ে নিতে হবে। আমার একটা ভাবনা হলো, অজুহাত দেওয়া বন্ধ করতে হবে। যখন কেউ অজুহাত দেওয়া বন্ধ করতে পারবে, সে একদিন না একদিন সফল হবেই।
উইকেট পাওয়ার পর আপনাকে তেমন উদ্যাপন করতে দেখা যায় না কেন?
নাহিদ: কোনো কারণ নেই। উদ্যাপন এটা কখনো ভেতর থেকে আসে, কখনো আসে না। এটা নিয়ে কখনো আলাদা করে ভাবি না।
বাংলাদেশ দলে এখন অনেক পেসার। তাঁরা আপনাকে কীভাবে সাহায্য করেন?
নাহিদ: তাদের খেলা দেখে বড় হয়েছি। এখন তাদের সঙ্গে খেলছি। যখন আমার কোনো কিছু ঘাটতি মনে হয়, অথবা তাদেরও যদি এমন কিছু মনে হয়—তারা এসে বলে। আমি যদি কোনো কাজ করি, তাদের দেখতে বলি। সাহায্য লাগলে কোনো দ্বিধা ছাড়া চলে যাই।
এখন তো ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের যুগ। এ নিয়ে আপনার ভাবনা কী?
নাহিদ: আমার নজর শুধু জাতীয় দলে। বিসিবি যদি অনুমতি দেয়, তাহলে যাব। না হলেও কোনো সমস্যা নেই।