
কানাডায় বসত গড়েছেন বছর পাঁচেক আগে। দিন কয়েক আগে দেশে ফিরেই নিজের শহরে পেয়ে গেলেন শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ। বেশ উপভোগও করছেন এফ আই কামাল (ফখরুল ইসলাম কামাল)। এই টুর্নামেন্ট নিয়ে জানা যাক সাবেক তারকা ফুটবলারের উপলব্ধি
* দেশে এলেন আর এমন একটা আয়োজন আপনার উঠোনে। কেমন লাগছে?
এফ আই কামাল: দারুণ লাগছে। সত্যিই আমি খুব উৎফুল্ল। একটা ক্লাবের আয়োজনে এমন টুর্নামেন্ট ভাবাই যায় না। চট্টগ্রাম আবাহনী অসাধারণ একটা কাজ করেছে। এই সুযোগে আয়োজক ক্লাবের সব কর্মকর্তাকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
* কিন্তু আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজনই তো সব নয়। ঘরের খেলা তো নিষ্প্রাণ হয়ে পড়েছে...
কামাল: ঘরের খেলা চাঙা করতে এই টুর্নামেন্টটা সহায়ক হবে। এই যে এত এত দর্শক আসছেন এঁদের তো মাঠে আসার অভ্যাস ছিল না। সেই অভ্যাসটা ফিরিয়ে আনার ফলে ভবিষ্যতেও দর্শক আসবেন। ফুটবল জমে উঠবে। শেখ কামাল টুর্নামেন্টটা প্রতিবছর হবে শুনে খুব ভালো লাগছে। আমার বিশ্বাস, চট্টগ্রামের ফুটবলে সুদিন ফিরবেই।
* আপনার সময়ের সেই ফুটবলের কথা এখনো লোকের মুখে মুখে। আপনি তাতে কতটা আলোড়িত হন?
কামাল: আমার তো সারাক্ষণই মনে পড়ে। প্রবাসে থাকলে কী হবে দেশের খেলাধুলার খোঁজখবর তো সবই পাই। আমার ঘরে বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলগুলো আছে। অনলাইনে পত্রিকা পড়ি। লোকে আশির দশকের কথা বলে, আমি এখানে চট্টগ্রাম আবাহনীতে খেলতাম। আমাদের অনুশীলন দেখতেই কয়েক হাজার লোক দাঁড়িয়ে থাকত। সে সবই এখন স্মৃতি।
* আপনি ঢাকায় গেলেন, এফ আই কামাল হলেন। আবাহনীর জার্সিতে আপনাকে উজ্জ্বল দেখাল। কী সব দিন ছিল, তাই না?
কামাল: হ্যাঁ, অসাধারণ সব দিন। মনে আছে আমাকে পঁচাশিতে আবাহনীতে নিয়ে গিয়েছিলেন সালাউদ্দিন ভাই। এর আগের বছরই খেলা ছেড়ে তিনি কোচ হন আবাহনীর। ফেনীর সঙ্গে ফেনীতে চট্টগ্রাম আবাহনীর একটা প্রীতি ম্যাচে খেলতে গিয়েছিলাম, ওই ম্যাচটা হারুন ভাই, সালাউদ্দিন ভাই দেখেন। সালাউদ্দিন ভাই আমার খেলা দেখে খুশি, পরে ঝন্টু ভাইকে চট্টগ্রাম পাঠালেন আমাকে ঢাকায় নিতে যেতে।
* কিন্তু তার আগেই তো ঢাকায় আপনি খেলে ফেলেছেন কয়েক বছর...
কামাল: একাশিতে ধানমন্ডি দিয়ে শুরু, তিরাশিতে ব্রাদার্স, চুরাশিতে আবার ধানমন্ডিতে। তারপর তো ৭ বছরের আবাহনী অধ্যায়। চুরাশিতেই জাতীয় দলে কল পাই, তারপর জাতীয় দলে স্ট্রাইকার, লেফট-রাইট আউটে খেলেছি। একানব্বই পর্যন্ত টানা আবাহনীতে খেলে অবসর নেওয়া পর্যন্ত শেষ দিকে জাতীয় দলে রাইটব্যাকেও খেলানো হয়েছে। আবাহনীতেও ডিফেন্সে খেলেছি (হা হা)
* আপনাদের সময়ের সেই জমজমাট ফুটবল, জাতীয় দলের প্রতি আকর্ষণ, এখন তো সব কমে গেছে। এই বিষয়গুলো কেমন লাগে?
কামাল: খারাপ লাগে। কিন্তু কী করার। ফুটবল এগিয়ে দিতে ব্যক্তিগত নৈপুণ্য দরকার। আমাদের সময়ে ওই ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের অনেক খেলোয়াড় ছিল, যাদের খেলা দেখত সবাই। চট্টগ্রামের ছেলে যেমন আশীষ ভদ্রেরই বিশাল একটা সমর্থক ছিল। এখন এসব খুব কম। এখন ফুটবল দলীয় খেলা হয়ে পড়েছে।
* শেখ কামাল টুর্নামেন্টে ফিরে আসি। আপনি খেলা কেমন দেখলেন? ফাইনালে কোন দলকে এগিয়ে রাখবেন?
কামাল: খেলার মান বেশ ভালো। আমার পছন্দ হয়েছে। আফগানিস্তানের দলটা ফাইনালে যেতে পারেনি, তবে ওদের খেলাটা আমার মনে আলাদাভাবে দাগ কেটেছে। ফাইনালে কে জিতবে বলা কঠিন। ইস্টবেঙ্গল ভালো দল, তবে চট্টগ্রাম আবাহনীও আস্তে আস্তে খেলাটা ধরেছে। আমি তো চাইব ঘরের দলই জিতুক। উপভোগ্য একটা ফাইনাল হোক।