লাল-সবুজের টানে আরেকবার

রিয়াসাত ইসলাম
রিয়াসাত ইসলাম

পৈতৃক বাড়ি নোয়াখালীতে কখনোই যাননি। ১৯৮৯ সালে ঢাকায় জন্ম, তারপর মা-বাবার সঙ্গী হয়ে জার্মানিতে বসত গড়া ১৯৯৬ সালে। সেই থেকেই পরিবারের সঙ্গে মা-বাবার একমাত্র সন্তান রিয়াসাতেরও ঠিকানা জার্মানি, ওই দেশের পাসপোর্টেই ভ্রমণ করেন। বাংলা বোঝেন, কিন্তু বলতে পারেন না সেভাবে। তবে এখন লাল-সবুজ জার্সির টানে বাঙালিয়ানায় অভ্যস্ত হওয়ার চেষ্টা করছেন।
বছর দুয়েক আগে ঢাকায় এসেছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলে খেলার স্বপ্ন নিয়ে। কিন্তু চোট থাকায় বিফল মনোরথে ফিরে যান। পরশু রাতে আবারও এসেছেন। বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে মূল স্কোয়াডে সুযোগ পাওয়ার আশায় গতকালই ২৫ বছরের তরুণ যোগ দিয়েছেন অনুশীলনে। কাল দুপুরে বাফুফে ভবনে কথা বলার শুরুতেই নিজের নামের একটা সংশোধনী দিলেন। রিয়াসাত খাতন থেকে এখন তিনি রিয়াসাত ইসলাম। কারণ কী? ‘নাম নিয়ে বিভ্রান্তি এড়াতে দ্বিতীয় অংশটা বদল করেছি।’ ভাগ্যবদলও কি হবে এবার? রিয়াসাত হাসেন, ‘দেখা যাক, চেষ্টা তো করছি।’
ফিলিপাইন প্রিমিয়ার লিগে খেলেন পাচাংগা দিলিমান এফসির হয়ে। সর্বশেষ তিনটি ম্যাচে খেলছেন এই মিডফিল্ডার। তার আগে দলে অনিয়মিত ছিলেন। এখন পর্যন্ত নামের পাশে গোল নেই। ফিলিপাইন লিগে প্রতিটি দল বিদেশি নিবন্ধন করাতে পারে ১০ জন, ম্যাচে খেলতে পারেন সর্বোচ্চ পাঁচজন। রিয়াসাত এবারই ওই লিগে নাম লিখিয়েছেন। ৯ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে ১০ দলের লিগে তাঁর দল আছে সাতে। ২০ জুন পরবর্তী লিগ ম্যাচের ফাঁকেই জন্মভূমিতে ছুটে আসা।
ঠিক যেভাবে বছর দুয়েক আগে এসেছিলেন ডেনমার্কপ্রবাসী ফুটবলার জামাল ভূঁইয়া। বাংলাদেশ দলের প্রথম একাদশে যিনি এখন নিয়মিতই। কাকতালীয়ই বলতে হবে, গত পরশু জামাল ভূঁইয়াও প্রায় একই সময়ে ডেনমার্ক থেকে ঢাকা এসেছেন।
দুজনের আসাটা দুই রকম। একজন দলে জায়গা নিশ্চিত বলে জানেন। আরেকজন অপেক্ষায় আছেন। সেসব নিয়ে বলতে বলতে লাল-সবুজের প্রতি রিয়াসাতের আকুতিটা বেরিয়ে আসে, ‘ছোটবেলা থেকেই বাংলাদেশ দলে খেলার স্বপ্ন দেখে আসছি। এর চেয়ে বড় গর্ব আর কিছু নেই।’ ফুটবলে মায়ের উৎসাহ নেই। তবে বাবা আবিদ হোসেনের আগ্রহ প্রবল। সেটিকে সঙ্গী করেই জার্মানির কাসেল শহরে বেড়ে উঠেছেন। বুন্দেসলিগা থেকে সদ্য অবনমিত এসসি ফ্রেইবুর্গের যুবদলে খেলেছেন অনূর্ধ্ব-১৬ থেকে অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে। দিলেন একটা তথ্যও, ‘যুব ফুটবলে টমাস মুলারকে প্রতিপক্ষ দলে পেয়েছি।’
ফুটবলার হিসেবে আদর্শ মানেন রিভালদোকে। উচ্চতা মোটামুটি ভালো হলেও রিয়াসাতের গড়ন হালকা-পাতলা। তবে এটিকে এগিয়ে চলার পথে কোনো বাধা মানেন না, ‘ফুটবলে শক্তিই সব নয়। স্কিলের খেলাও এটি। আমি তো আশা করি কোচকে সন্তুষ্ট করতে পারব।’
ততক্ষণে বাফুফে ভবন থেকে শেখ জামাল ধানমন্ডি মাঠে অনুশীলনে যাওয়ার তাড়া আসে। রিয়াসাত নেমে পড়েন স্বপ্নপূরণের পরীক্ষায়।