পাকিস্তানের বিপক্ষে কে বেশি ভালো—টেন্ডুলকার নাকি কোহলি
প্রজন্ম এক নয়, তবে একসঙ্গে খেলেছেন তাঁরা। বলা হচ্ছে শচীন টেন্ডুলকার ও বিরাট কোহলির কথা। ভারতের সর্বকালের অন্যতম সেরা দুই ব্যাটসম্যানও তাঁরা। কিংবদন্তি টেন্ডুলকারের সঙ্গেও কোহলির তুলনাও করা হয় হরদম।
সব মিলিয়ে ছন্দহীন কোহলি গতকাল চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে অসাধারণ এক সেঞ্চুরি করে দলকে জেতানোর পর একটি প্রশ্নও ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে হয়তো উঁকি দিচ্ছে—পাকিস্তানের বিপক্ষে কে বেশি ভালো; টেন্ডুলকার, নাকি কোহলি।
আগেই এটা বলে নেওয়া ভালো, দুই প্রজন্মের দুই খেলোয়াড়ের তুলনা করাটা এমনিতেই খুব কঠিন। তার ওপর এখানে তুলনাটা হচ্ছে পাকিস্তানের বিপক্ষে পারফরম্যান্স দিয়ে। প্রতিপক্ষ এক থাকলেও বোলিং আক্রমণ তো আর তা থাকেনি। তুলনা তাই কীভাবে হয়!
পাকিস্তানের বিপক্ষে টেন্ডুলকার ও কোহলির পারফরম্যান্সের তুলনা করতে যাওয়াটা কারও কারও কাছে বেমানান লাগতে পারে আরও কিছু কারণে—পাকিস্তানের বিপক্ষে কোহলি কখনো টেস্ট খেলেননি, টেন্ডুলকার আবার খেলেননি টি–টোয়েন্টি। তাই দুজনের তুলনাটা ওয়ানডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। সেখানেও আরেক সমস্যা—টেন্ডুলকার পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে খেলেছেন ৬৯টি (৬৭ ইনিংস) আর কোহলির মাত্র ১৭টি (১৭ ইনিংস)।
এসব মেনে নিয়েও যদি ওয়ানডেতে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুজনের পারফরম্যান্স তুলনা করা যায়, তাহলে আমরা কী দেখি! পাকিস্তানের বিপক্ষে ৬৭ ইনিংসে টেন্ডুলকার ৪০.০৯ গড়ে করেছেন ২৫২৬ রান, স্ট্রাইক রেট ৮৭.৪৯। সেঞ্চুরি করেছেন ৫টি, ফিফটি ১৬টি। চারবার ছিলেন অপরাজিত, শূন্য রানে আউট হয়েছেন পাঁচবার। ২৯৪টি চার মারার পাশাপাশি ওপর দিয়ে দড়ির ওপারে বল পাঠিয়েছেন ২৯ বার, সর্বোচ্চ ইনিংসটি ১৪১ রানের।
পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলা ১৭ ইনিংসে কোহলির রান ৭৭৮। সেটি প্রায় অবিশ্বাস্য ৫৯.৮৪ গড়ে, স্ট্রাইক রেটও দারুণ—৯৮.৮৫। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে সর্বশেষটিসহ পাকিস্তানের বিপক্ষে কোহলির সেঞ্চুরি ৪টি, ফিফটি দুটি। চারবার ছিলেন অপরাজিত, শূন্য রানে আউট হয়েছেন একবার। ৭০টি চার মেরেছেন, ছয় ৭টি। সর্বোচ্চ ইনিংসটি ১৮৩ রানের।
পাকিস্তানের বিপক্ষে টেন্ডুলকার ও কোহলির পারফরম্যান্স তো জেনেই গেলেন। পাঠক, এবার আপনিই তুলনা করে বলুন—পাকিস্তানের বিপক্ষে কে বেশি ভালো; টেন্ডুলকার, নাকি কোহলি?