শোয়েবের আঙুল পাকিস্তানের ‘নির্বোধ’ ম্যানেজমেন্টের দিকে, বদলের ডাক আকরামের
আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আয়োজক পাকিস্তান। অথচ তারাই কি না টুর্নামেন্ট শুরুর ছয় দিনের মধ্যে ছিটকে পড়ার শঙ্কায়।
রাওয়ালপিন্ডিতে আজ বাংলাদেশের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ড জিতলেই অথবা কোনোভাবে ১ পয়েন্ট পেলেই পাকিস্তানের বাদ পড়া নিশ্চিত। কোনো বৈশ্বিক ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় আয়োজক দেশ এত দ্রুততম সময়ে সর্বশেষ কবে বিদায় নিয়েছে, তা নিয়ে গবেষণা হতেই পারে। তবে গত রাত থেকে পাকিস্তানের ক্রিকেট মহলে আলোচনায় রিজওয়ান-বাবর-আফ্রিদিদের হতাশাজনক পারফরম্যান্স।
করাচিতে গত বুধবার চ্যাম্পিয়নস ট্রফির উদ্বোধনী ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের কাছে ৬০ রানে হারে পাকিস্তান। দুবাইয়ে কাল ভারতের কাছেও একরকম অসহায় আত্মসমর্পণ। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে হেরেছে ৬ উইকেটে। বাংলাদেশের পর পাকিস্তানকেও হেসেখেলে হারিয়ে সেমিফাইনালে প্রায় পা দিয়ে রেখেছে ভারত। ওদিকে টানা দুই হারে বিদায়ের দোরগোড়ায় পাকিস্তান।
অথচ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি শুরুর আগে শোয়েব আখতার ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, ভারত ও পাকিস্তানই ফাইনালে মুখোমুখি হবে। এমনকি গত রাতে ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে রিজওয়ানদের দল রোহিত-কোহলিদের হারিয়ে দেবে—এ কথাও বলেছিলেন।
সেই শোয়েব আখতার কালকের হারের পর ফুঁসে উঠেছেন। ক্রিকেট ইতিহাসের দ্রুততম এই বোলার পাকিস্তান টিম ম্যানেজমেন্টকে ‘নির্বোধ’ বলেছেন। আরেক কিংবদন্তি ওয়াসিম আকরাম পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি) ‘সাহসী পদক্ষেপ’ নিতে বলেছেন। অর্থাৎ যাঁরা ব্যর্থ হয়েছেন, তাঁরা যত বড় তারকাই হোন না কেন, দল থেকে বাদ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আকরাম।
ম্যাচের ফল কী হতে চলেছে, সেটাও নাকি আগে থেকেই জানতেন শোয়েব। আর আকরাম জানিয়েছেন, ভারতের বিপক্ষে এমন হার দেখতে দেখতে তিনি অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা ভিডিওতে শোয়েব আখতারের চোখেমুখে হতাশার ছাপ স্পষ্ট বোঝা গেলেও তিনি বলেছেন, ‘আমি মোটেও হতাশ নই। কারণ, আমি জানতাম (ম্যাচের ফল) কী হবে। পুরো বিশ্ব ছয় বোলার নিয়ে খেলছে। আর তোমরা (পাকিস্তান টিম ম্যানেজমেন্ট) পাঁচ বোলার একাদশে রাখতে পারলে না...তোমরা দুই অলরাউন্ডার নিয়ে খেলতে নামলে। এটা পুরোপুরি নির্বোধ ম্যানেজমেন্ট, এদের কোনো ধারণাই নেই।’
ভারতের বিপক্ষে হারে পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের কোনো দায় দেখছেন না শোয়েব, ‘বাচ্চাদের (খেলোয়াড়দের) আমি দোষারোপ করতে পারি না। তারা এই ম্যানেজমেন্টের মতোই। জানে না, তাদের কী করতে হবে। ইনটেন্ট একটি ভিন্ন জিনিস। ওদের রোহিত (শর্মা), বিরাট (কোহলি), শুবমানের (গিল) মতো দক্ষতা নেই। সুস্পষ্ট নির্দেশনা ছাড়াই তারা খেলতে নেমেছে। কেউ জানে না, তাদের কী করা উচিত।’
ইউটিউব চ্যানেল স্পোর্টস সেন্ট্রালের ড্রেসিংরুম অনুষ্ঠানের ম্যাচ-পরবর্তী বিশ্লেষণে ওয়াসিম আকরাম বলেছেন, ‘আসলে এ ধরনের হারের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। হয়েছে, যথেষ্ট হয়েছে। আমরা গত দুই বছর ধরে এই খেলোয়াড়দের নিয়ে হেরেই চলেছি। এখন সাহসী পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এসেছে।’
সাহসী পদক্ষেপ বলতে কী বুঝিয়েছেন, সেই ব্যাখ্যাও দিয়েছেন আকরাম, ‘আপনাকে তরুণ ও ভয়ডরহীন ক্রিকেটারদের নিতে হবে। দলে যদি পাঁচ-ছয়টা পরিবর্তন আনতে হয়, তাহলে সেটাই করুন। কোনো সমস্যা নেই। তাদের ছয় মাস সময় দিন ও সমর্থন করুন। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দল এখন থেকেই প্রস্তুত করতে শুরু করুন। ওদেরকে (বর্তমান দলের খেলোয়াড়দের) আমার দেখা হয়ে গেছে। ওরা অনেক সুযোগ পেয়েছে।’
চ্যাম্পিয়নস ট্রফির গ্রুপ পর্বে পাকিস্তানের শেষ ম্যাচ আগামী বৃহস্পতিবার রাওয়ালপিন্ডিতে, প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ। তবে আজ নিউজিল্যান্ড জিতলেই বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচ হয়ে দাঁড়াবে নিছক আনুষ্ঠানিকতার।