বাংলাদেশে ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্রের লক্ষণসমূহ

চারদিকে এখন বই-বই গন্ধ। আগামীকাল ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা। এ মেলায় প্রকাশিত হবে অজস্র বই। এর মধ্য থেকে নির্বাচিত তিনটি বইয়ের পাণ্ডুলিপির অংশবিশেষ নিয়ে আয়োজন

প্রকাশক: প্রথমা প্রকাশন, ঢাকাপ্রচ্ছদ: মাসুক হেলাল

ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের যেসব বৈশিষ্ট্য বিশ্বের অন্যত্র সহজেই দেখা যায়, বাংলাদেশে ২০১১ সাল থেকেই তার কিছু লক্ষণ শেখ হাসিনার বক্তব্য এবং আচরণের মধ্যে দৃশ্যমান হয়ে উঠতে থাকে। ২০১৪ সাল নাগাদ এগুলো কার্যত রাখঢাক ছাড়াই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। হাসিনা বাংলাদেশের নাগরিকদের এটা বুঝিয়ে দেন যে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে তিনিই একচ্ছত্র এবং তাঁর এই কর্তৃত্ব প্রশ্নের ঊর্ধ্বে। ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্রের এই বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে সব ধরনের প্রতিষ্ঠান এবং নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় ব্যক্তির একক কর্তৃত্ব, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অন্য কাউকে শরিক না করা, রাজনৈতিক দলগুলো, এমনকি তাঁর নিজেরও দল থাকলে তাকেও কার্যত ক্ষমতাহীন করে ফেলা। এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে বিপ্রাতিষ্ঠানিকীকরণ, অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষমতা ও প্রভাব হ্রাস।

এ ধরনের শাসকেরা তাঁদের শাসনের কাঠামোটি তৈরি করেন অন্যদের সুবিধা প্রদানের মধ্য দিয়ে, অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিকল্প হিসেবে একধরনের ব্যক্তিগত আনুগত্যভিত্তিক কাঠামো তৈরি করা হয়, যাকে আমরা পেট্রোনেজ নেটওয়ার্ক বলে চিহ্নিত করতে পারি। এই ক্ষেত্রে স্বৈরশাসক দেশ ও রাষ্ট্রের সম্পদকে নিজস্ব বলেই বিবেচনা করেন এবং এর মধ্য দিয়ে দুর্নীতি ব্যাপকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। দুর্নীতিকে এতটাই প্রাতিষ্ঠানিক করে ফেলা হয় যে এগুলো শুধু ‘গ্র্যান্ড করাপশন’ বলে বর্ণনা করলেও যথেষ্ট হয় না, অনেক ক্ষেত্রেই তা একটি ক্লেপ্টোক্রেটিক ব্যবস্থায় রূপ নেয়। যেটা উল্লেখ করা দরকার, তা হচ্ছে ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্র সব সময়ই ক্লেপ্টোক্রেটিক ব্যবস্থায় রূপ নেয় না বিভিন্ন কারণে, এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে স্বৈরশাসকেরা যখন তুলনামূলকভাবে মধ্য মেয়াদেও বিবেচনা করেন, তখন তাঁরা এ ব্যবস্থার বিপদটি বুঝতে সক্ষম হন। কিন্তু যাঁরা হয় স্বল্প মেয়াদে বিবেচনা করেন কিংবা এটা নিশ্চিত হন যে ক্ষমতায় তাঁর স্থায়িত্ব আর কখনোই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে না, তখনই এ ধরনের ক্লেপ্টোক্রেটিক শাসন বা চুরিতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়, রাষ্ট্রের আনুকূল্যে দুর্নীতির প্রসার ঘটে। শেখ হাসিনা দীর্ঘ মেয়াদেও তাঁর শাসনের কোনো চ্যালেঞ্জ দেখতে পাননি। এখানে যে একটি ক্লেপ্টোক্রেটিক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন, তার প্রমাণ মেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের বক্তব্যে, ‘হাসিনার ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা তাঁর শাসনামলে দেশটির একটি গোয়েন্দা সংস্থার কিছু সদস্যের সঙ্গে যোগসাজশ করে ব্যাংক খাত থেকে ১৭ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৭০০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ অর্থ সরিয়েছেন’ (প্রথম আলো, ২০২৪)। অন্তর্বর্তী সরকারের নিয়োগকৃত একটি টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ১৫ বছরে প্রতিবছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে (ভোরের কাগজ, ২০২৪)।

শেখ হাসিনা যখন প্রতিষ্ঠানগুলোকে, এমনকি সিভিল সোসাইটির সংগঠনগুলোকে ধ্বংস করে ফেলতে সক্ষম হয়েছেন, সমাজে ও রাজনীতিতে আদর্শিকভাবে একধরনের আধিপত্য আছে বলে মনে করছেন, সেই সময় তিনি নিজেকে অপরাজেয় বিবেচনা করেই এই ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক করে তুলেছিলেন। এটা বোঝা যায় ২০১৮ সালে দলের (আওয়ামী লীগ) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের বক্তব্যে, ‘শেখ হাসিনা যত দিন বেঁচে থাকবেন, তত দিন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকবে’ (বাংলা ট্রিবিউন, ২০২৪)। হানিফের এই বক্তব্য বিতর্কের সৃষ্টি করে, কিন্তু তা হাসিনা বা তাঁর দলের নেতাদের কোনোভাবেই প্রভাবিত করে না।

শেখ হাসিনার ব্যক্তিতান্ত্রিক মনোভাবের সবচেয়ে বড় উদাহরণ হচ্ছে তাঁর বক্তৃতাগুলোয় ‘আমি’র ব্যবহার। তিনি এটা বারবার এমনভাবেই বলেছেন, যা এই ধারণাই দেয় যে সরকার ও রাষ্ট্র নাগরিকদের যা প্রদান করে, তা যেন তিনি ব্যক্তিগতভাবে নাগরিকদের প্রদান করছেন। নাগরিকের প্রাপ্য বা অধিকার তাঁর কাছে বিবেচ্য বিষয় হয় না।

একসময় তিনি পরোক্ষভাবে এবং তাঁর পক্ষে তাঁর দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এই দাবি করেন যে হাসিনা বাংলাদেশের মানুষের হাতে ১৪ কোটি মোবাইল ফোন তুলে দিয়েছেন (ডিডব্লিউ, ২০১৮)। এ বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঠাট্টাতামাশা হলেও এবং একে হালকা ধরনের রসিকতার মধ্যে যুক্ত করে ফেললেও এর মধ্য দিয়ে নাগরিকেরা যা পান, তা যে তাঁরই দেওয়া, সেটাই বলার প্রবণতা স্পষ্ট। এ ধরনের বক্তব্যের তালিকা দীর্ঘ না করেও আমরা উদাহরণের কথা উল্লেখ করতে পারি। ২০২৩ সালে তিনি বলেন, ‘আমাকে বেশি কথা বললে সব বন্ধ করে দিয়ে বসে থাকব। ইলেকশনের পরে, যদি আসতে পারি, আবার করব। তারপর দেখি কে সাহস পায় নিতে...ক্ষমতা।’ এই বক্তব্য একাদিক্রমে নাগরিকের কথা বলার অধিকারকে চ্যালেঞ্জ করে এবং তাঁর একক সিদ্ধান্তেই যে মন্ত্রণালয়গুলো চলে এবং নাগরিকেরা কী পাবেন কী পাবেন না, তার সিদ্ধান্ত হয়, তা-ও সুস্পষ্ট করে।

বিপ্রাতিষ্ঠানিকীকরণের বা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর করে তাঁর নিজের সিদ্ধান্তকেই চূড়ান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রথম উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটে ২০১১ সালে, যখন তিনি সংসদীয় কমিটির ২৬টি বৈঠকের পর তৈরি করা সুপারিশকে একাই বদলে দেন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর এই একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রবণতা জাতীয় স্বার্থকে জলাঞ্জলি দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহারের আরেকটি উদাহরণ হচ্ছে ভারতীয় বিদ্যুৎ কোম্পানি আদানির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরে তাঁর ভূমিকা। ২০১৭ সালে বাংলাদেশ ভারতের ঝাড়খন্ডের গোড্ডায় নির্মিত একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ১ হাজার ৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেনার জন্য ২৫ বছরের চুক্তি করে। এই কেন্দ্র তৈরি করাই হয় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার জন্য। এই চুক্তির বিস্তারিত বাংলাদেশের জনগণের কাছে গোপন রাখা হলেও ২০২২ সালে ওয়াশিংটন পোস্ট -এর এক প্রতিবেদনে এই চুক্তির বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করা হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনে সিডনিভিত্তিক জ্বালানি বিশ্লেষক টিম বাকলিকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ‘গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে যাওয়ার পর কোনো বিদ্যুৎ উৎপাদন না করলেও আদানিকে ক্যাপাসিটি চার্জ হিসেবে বছরে প্রায় সাড়ে ৪০০ মিলিয়ন ডলার দিতে হবে বাংলাদেশকে। বিদ্যুৎ খাতের বৈশ্বিক মান অনুসারে যা “উচ্চ মূল্য”।’ টিম বাকলি ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেছিলেন যে ‘আদানির সঙ্গে করা এই চুক্তিটি অবশ্যই প্রতারণা’ (ডেইলি স্টার বাংলা, ২০২২)। [...] 

ব্যক্তিতান্ত্রিক শাসনের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে পরিবারতন্ত্র। পরিবারতন্ত্র দক্ষিণ এশিয়ায় বিরল ঘটনা নয়। কিন্তু বাংলাদেশে শেখ হাসিনার শাসনামলে পরিবারতন্ত্রের দুটো দিক আছে। প্রথমত, তাঁর এবং তাঁর পরিবারের সুবিধা লাভ ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ কুক্ষিগত করা; অন্যদিকে তাঁর নিজের ক্ষমতার উত্তরাধিকারের দাবি এবং রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা ও দেশপ্রেমের সঙ্গে তাঁর পরিবারের সংশ্লিষ্টতাকে এমনভাবে যুক্ত করা, যাতে পরিবারতন্ত্রের বিরোধিতা দেশদ্রোহ বলেই উপস্থিত করা যায়।

শেখ হাসিনা যদিও ২০১৯ সালে এই মর্মে দাবি করেন যে ‘আমার পরিবার বলতে আমি, আমার ছোট বোন রেহানা আর আমাদের পাঁচ ছেলেমেয়ে। এর বাইরে আমাদের কোনো পরিবার নেই’ (সারা বাংলা, ২০১৯)। কিন্তু তাঁর শাসনে পরিবারের প্রাধান্য এবং তাঁর শাসনের সুবিধাভোগীরা যে পরিবারের অংশ, তা স্পষ্ট হয় এই তথ্যে যে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত হাসিনা পরিবারের ১৫ জন সংসদ সদস্য হয়েছিলেন, অন্তত আটজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় ছিলেন (ইত্তেফাক, ২০২৪)। শেখ হাসিনা পরিবারের সদস্যদের সুবিধা ভোগের একটি উদাহরণ হচ্ছে তাঁর পরিবারের নাম ব্যবহারের মাত্রা; গণমাধ্যমের সূত্রে জানা যায়, ‘শেখ পরিবারের সদস্যদের নামে গত ১৫ বছরে ৫১ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে ৮২টি উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়।’ এই পরিবার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আর্থিক সুবিধা লাভের ক্ষেত্রে পিছিয়ে ছিলেন না। এমন অভিযোগ আছে যে হাসিনা পরিবারের সদস্যরা নয়টি বড় আকারের প্রকল্পে ৮০ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন (বাংলাদেশ প্রতিদিন, ২০২৪)।

কোলাজ: আপন জোয়ার্দার

অবৈধ উপায়েই কেবল বিত্ত ও সম্পত্তি অর্জন করার ঘটনা ঘটেনি, অনেক ক্ষেত্রেই তা করার জন্য আইন ভাঙা হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে আইনই বদলে ফেলা হয়েছে। শেখ হাসিনা একাধিক সময়ে এই দাবি করেছেন যে তিনি বৈষয়িক কিছু আশা করেন না, তাঁর ভাষায় ‘আমার ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই’ (বিডিনিউজ২৪, ২০১৯)। কিন্তু রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) পূর্বাচল নামের যে শহরতলি গড়ে তোলে, সেই এলাকা পরিবর্ধিত করে প্রকল্পের ডিপ্লোমেটিক জোনের ভেতরে শেখ হাসিনা, তাঁর দুই সন্তান—যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, শেখ রেহানার দুই সন্তান—রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি ও আজমিনা সিদ্দিককে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ ধরনের বরাদ্দ দেওয়ার জন্য জমি বরাদ্দের সাধারণ নিয়ম সংশোধন করা হয়েছিল। মূল নিয়ম অনুযায়ী, জমি বরাদ্দ করার কথা আবেদনকারীদের মধ্যে লটারির মাধ্যমে। কিন্তু ‘সরকারি সিদ্ধান্তে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নামে প্লট বরাদ্দ দিতে আইনে একটি ধারা যোগ করা হয়।’ উল্লেখ্য যে এই সুবিধা আওয়ামী লীগের নেতা এবং সরকার–সমর্থক সচিবদেরও দেওয়া হয়েছিল (আমাদের সময়, ২০২৪)। [...]

হাসিনা পরিবারের এসব বৈষয়িক লাভ এবং প্রভাব বিস্তারের বিষয়গুলো নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো ক্ষমতার শীর্ষে অধিষ্ঠিত এক ব্যক্তির হাতে একচ্ছত্র ক্ষমতার এককেন্দ্রীকরণের প্রমাণও বটে এবং ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্রের চিরায়ত লক্ষণ। কিন্তু পরিবারতন্ত্রের প্রভাব কেবল বৈষয়িক লাভের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে পারিবারিক উত্তরাধিকার ছিল তাঁর ক্ষমতার বৈধতার উপাদান। তিনি বারবার বলেছেন যে তাঁর বাবাই বাংলাদেশ স্বাধীন করে দিয়েছেন (‘ডেইলি স্টার বাংলা’ ২০২৪)। এই দাবি কেবল একটি জনযুদ্ধের সব কৃতিত্ব এক ব্যক্তিকেই দেয় না, এমনকি যুদ্ধের সময় শেখ মুজিবের অনুপস্থিতিতে যাঁরা দেশ পরিচালনায় নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাঁদের ভূমিকাকেও অস্বীকার করে। [...]

এর পাশাপাশি সারা দেশে শেখ মুজিবের ভাস্কর্য, ছবি, ম্যুরাল স্থাপন করা শুরু হয়। ২০২১ সালে পুলিশ দপ্তরের দেওয়া এক হিসাবে দেখা যায়, সারা দেশে শেখ মুজিবের ১ হাজার ২২টি ভাস্কর্য এবং ম্যুরাল স্থাপন করা হয়েছে (ডেইলি স্টার বাংলা, ২০২১)। ২০২০ সালে শেখ মুজিবের জন্মশতবার্ষিকী উদ্​যাপনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে শেখ মুজিবকে এক অবশ্য-লক্ষযোগ্য বিষয়ে পরিণত করা হয়। হাসিনা তাঁর পিতাকে এই প্রক্রিয়ায় একধরনের পারসোনালিটি কাল্টে পরিণত করেন। একজন গবেষক দেশের পরিবেশ এইভাবে বর্ণনা করেন, ‘প্রতিটি স্কুল ও সরকারি অফিসে, মুদ্রা নোটে এবং প্রতিটি রাস্তায় তাঁর ছবি রয়েছে। সেতু, হাসপাতাল, সরকারি অনুষ্ঠান, ক্রীড়া প্রতিযোগিতার নামকরণ করা হয়েছে তাঁর নামে। ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসনে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ব্যক্তি সাধারণত নিজেকে ব্যক্তিপূজার জায়গায় স্থাপন করেন, কিন্তু হাসিনার ক্ষেত্রে তিনি একদিকে রাজনীতিতে তাঁর একচ্ছত্র আধিপত্য তৈরি করেন, অন্যদিকে তাঁর ক্ষমতার বৈধতার একটি উপাদান হিসেবে শেখ মুজিবকে অধিষ্ঠিত করেন।