খরচ কমাতে চান, কিন্তু সঙ্গী মানছেন না?

ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয়ের উদ্দেশ্যে আপনি হয়তো খরচের লাগাম টেনে ধরতে চান। আপনার এই ভালো উদ্যোগ কেবল তখনই সফল হবে, যখন আপনার পরিবারের বাকিরাও আপনার ভাবনাটি উপলব্ধি করবেন। তবে বাস্তবতা হলো, পরিবারের কল্যাণ চাইলেও খরচের বিষয়ে প্রত্যেকে একইভাবে না-ও ভাবতে পারেন। আপনার জীবনসঙ্গীই যদি খরচের বিষয়ে আপস করতে রাজি না হন, তখন কী করবেন?

পরিবারের কল্যাণ চাইলেও খরচের বিষয়ে প্রত্যেকে একইভাবে না-ও ভাবতে পারেনছবি: পেক্সেলস

সাংসারিক সমস্যার সমাধানে আলোচনার বিকল্প নেই। আপনি নিজের ভাবনা আপনার সঙ্গীর ওপর চাপিয়ে দিচ্ছেন, এমনটা যেন মনে না হয়। অর্থ নিয়ে যেন অনর্থ না ঘটে, সেদিকে খেয়াল রাখুন। তা ছাড়া এক দিনেই আপনি সাংসারিক সব খাতের ব্যয় সংকোচন করতে পারবেন, এমনটাও ধরে নেবেন না।

আলোচনার জন্য সময় রাখুন

জীবনসঙ্গীর সঙ্গে আর্থিক বিষয়ে আলোচনার জন্য একটি সময় নির্দিষ্ট করুন। সাংসারিক প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতি সপ্তাহ কিংবা মাসের একটি দিন নির্ধারণ করুন। কেন আপনি খরচ কমাতে চান এবং তা পরিবারের জন্য কেন ভালো, তা এই সময় বুঝিয়ে বলুন সঙ্গীকে। কোন খাতে কতটা খরচ কমাবেন, কীভাবে কমাবেন, এসব নিয়ে নিজের পরিকল্পনার বিস্তারিত জানান। সঙ্গীর বক্তব্যও মন দিয়ে শুনুন। আলোচনার সময় উত্তেজিত হবেন না। সঙ্গী আপনার পরিকল্পনামাফিক কিছুটা খরচ কমাতে সমর্থ হলে তাঁর উদ্যোগের প্রশংসা করুন পরবর্তী সময়ে আলোচনার সময়।

দোষারোপ নয়, বুঝুন এবং বোঝান

সঙ্গী বেশ খরুচে হলেও এ নিয়ে তাঁকে দোষারোপ করবেন না। প্রত্যেকের বেড়ে ওঠার একটা আলাদা গল্প থাকে। খরুচে জীবনযাপনে অভ্যস্ত ব্যক্তি হুট করে খরচ কমাতে পারবেন না, এটি আপনাকে মেনে নিতে হবে। আবার অতীতে আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য না পাওয়া মানুষও জীবনের কোনো পর্যায়ে সুযোগ পেলে একটু খরুচে হতে চাইতেই পারেন। এই বাস্তবতাও আপনাকে উপলব্ধি করতে হবে। তাই সঙ্গীর মানসিকতাটা বুঝতে চেষ্টা করুন। তাঁর জায়গায় নিজেকে কল্পনা করে দেখুন। সেই জায়গা থেকে পরিবারের কল্যাণ–ভাবনাটা কেমন হতে পারে, তা ধারণা করতে চেষ্টা করুন। আলোচনার সময় সেই আঙ্গিকেই আপনার ভবিষ্যৎ-ভাবনাটি ব্যাখ্যা করুন তাঁর সামনে।

আরও পড়ুন

‘টাকা’ শব্দটির ওপর জোর দেবেন না

খরচ কমানো মানে অবশ্যই ‘টাকা’র খরচ কমানো। কিন্তু আলোচনার সময় টাকা শব্দটিতে জোর দেবেন না। বরং পরিবারের কল্যাণের ওপর জোর দিন। এই ইতিবাচক ভাবনার সঙ্গে নিশ্চয়ই আপনার আবেগ জড়িয়ে আছে। আলোচনার সময় সেই আবেগ প্রকাশ করুন সঙ্গীর কাছে। সংসারে কিছু টাকা কম খরচ করলেও সঙ্গীর প্রতি আপনার ভালোবাসা প্রকাশে যেন কোনো কমতি না থাকে।

দুজনে মিলেই মাসিক আয় ব্যয়ের পরিকল্পনা করুন
ছবি: পেক্সেলস

হুট করে বড় পরিবর্তন নয়

সংসারের প্রয়োজনেই তো রোজগার। তাই খরচ কমানোর পরিকল্পনা এমনভাবে করুন, যাতে সংসারের কোনো প্রয়োজন অপূর্ণ না থাকে। সংসারের বিভিন্ন খাতে এমনভাবে বিকল্প পরিকল্পনা করুন, যাতে খরচ কম হয়। এভাবেই হবে সংসারের নতুন বিকল্প বাজেট। রান্নাবান্না, শিশুর খরচসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব খরচে ছোট ছোট পরিবর্তন আনুন। পরিবারের কারও ওপর হুট করে কড়া কোনো নিয়ম চাপিয়ে দেবেন না।

আরও পড়ুন

সঙ্গীর স্বাধীনতায় বাধা দেবেন না

একা হাতে পুরো পরিবারের বাজেট সামলাবেন না। সঙ্গীর মতামতকে কোনো গুরুত্বই দেওয়া হচ্ছে না, এমনটা যেন মনে না হয়। তা ছাড়া সঙ্গীর শখ–আহ্লাদের দিকটা পুরোপুরি বাতিলের খাতায় ফেলে দেওয়া যাবে না। অন্তত কিছুটা অর্থ বরাদ্দ রাখুন তাঁর জন্য, যা তিনি নিজের খুশিমতো ব্যয় করতে পারবেন। সেই ব্যয় প্রসঙ্গে ভবিষ্যতেও কখনো কথা তুলবেন না।

সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট ও সিএনবিসি

আরও পড়ুন