ঈদের ছুটিতে কি ফোনেই সময় কাটাচ্ছেন
ঈদের ছুটিতে কী করছেন আপনি? নিশ্চয়ই নতুন পোশাক পরেছেন ঈদের দিন। সুস্বাদু খাবারে রসনার তৃপ্তি মেটাচ্ছেন হয়তো। অতিথি আপ্যায়ন আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একে অন্যকে শুভেচ্ছা জানানোর কাজেও হয়তো ব্যয় করছেন বেশ কিছু মুহূর্ত। কিন্তু বাকিটা সময়? মুঠোফোন কিংবা অন্য কোনো ডিজিটাল ডিভাইসে সময়টাকে আটকে রাখছেন না তো?
কাজের ফাঁকে কিংবা কাজের পরে মুঠোফোনটা হাতে নিয়ে ‘একটু’ দেখতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দেওয়ার অভ্যাস রয়েছে অনেকেরই। তাতে সাময়িকভাবে ভালো লাগলেও রাতের ঘুম পালিয়ে যায়, হারিয়ে যায় আপনজনের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগটাও। সময়ের কী নিদারুণ অপচয়! ঈদের ছুটিতেও যদি এভাবে সময় চলে যায় ডিজিটাল ডিভাইসের স্ক্রিনে, তা হবে নিতান্তই দুঃখজনক। এমনটাই বলছিলেন রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেডের চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানী শারমিন হক।
সময়টা খুব দামি
পরিবারের সবাই হয়তো নতুন পোশাক পরে সেজেগুজে ছবি তুলেছেন। সাজগোজ কিংবা খাবারদাবারের ছবি ‘আপলোড’ও করেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তাতে শত শত রিঅ্যাকশন পড়ছে। কমেন্টও আসছে প্রচুর। ভালোই লাগছে আপনার। স্ক্রল করে দেখছেন বহু কিছু। ছবি, রিলস ও অন্যান্য। সবই ঠিক আছে, যদি সময়ের হিসাবটা ঠিক রাখেন আপনি। পরিবারের সবার সঙ্গে বসে খাওয়া কিংবা ছবি তোলার মতো কিছু আনুষ্ঠানিকতার বাইরেও পরিবারের প্রতি আন্তরিক থাকুন। সময় কাটান তাঁদের সঙ্গে।
ঘরের সময়, মনের সময়
আড্ডা দিন পরিবারের সবাই মিলে। ছাদে, বারান্দায় কিংবা ঘরে। সময়টাকে করে তুলুন আনন্দময়। সাদামাটা বিষয়েই নাহয় কথা বলুন। ইতিবাচক থাকুন। মজার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিন সবার সঙ্গে। শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলা করুন। তাদের নিয়ে সাংস্কৃতিক আয়োজন করতে পারেন। বড়রা মিলেও কিছু খেলতে পারেন। নতুন নতুন খেলা তৈরি করতে পারেন। বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্যদেরও অবশ্যই যুক্ত করুন এমন আনন্দে। সিনেমা দেখতে চাইলেও একসঙ্গে দেখুন। ঘরের কাজে একে অন্যের সহযোগী হোন। এভাবে সময় কাটালে সম্পর্ক দৃঢ় হয়।
সবাই মিলে বাইরে যান
কাছেপিঠে যেকোনো জায়গায় যেতে পারেন। যেতে পারেন দূরদূরান্তেও। প্রকৃতির কাছে সময় কাটান। ঈদ উপলক্ষে অনেক জায়গায় মেলা হয়। সেখানেও যেতে পারেন। আত্মীয়–বন্ধুদের বাসায় যান। কেউ অসুস্থ থাকলে তাঁকে অবশ্যই দেখতে যান। বয়োজ্যেষ্ঠ স্বজনদেরও দেখে আসুন ঈদের ছুটিতে। নিজের বাড়ির কোনো সদস্য অসুস্থ থাকলে তাঁর জন্য কেউ বাইরে যেতে পারছেন না, এমনটা যাতে না ঘটে। অসুস্থ ব্যক্তির দেখভালের দায়িত্বটা ভাগ করে নিন সবাই মিলে। পালাক্রমে সবাই ঘুরতে যান। অসুস্থ মানুষটার জন্যও ছোট্ট কিছু উপহার নিয়ে আসুন বেড়াতে গেলে। ঘরে থেকেও তিনি যেন বাইরের একটু আমেজ অনুভব করতে পারেন।