শীতে বাতের ব্যথা কেন বাড়ে

বাতের ব্যথার রোগীদের জন্য শীতকাল অনেকটা বিভীষিকার মতো। এ সময় অনেকেরই ব্যথা-বেদনা প্রকট হয়ে ওঠে। কেন এমন হয়?

শীতে ব্যথা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ-ই বা কী?

  • শীতল তাপমাত্রা বা ঠান্ডা আবহাওয়ায় পেশি ও অস্থিসন্ধির চারপাশের টিস্যু সংকুচিত হয়ে যায়, যা অস্থিসন্ধিতে চাপ বৃদ্ধি করে, এতে ব্যথা অনুভূত হয়।

  • শীতে রক্তনালিগুলো সংকুচিত হয়, ফলে রক্ত সঞ্চালন কমে অস্থিসন্ধির তরল পদার্থ শক্ত হয়ে যেতে পারে। এতে ব্যথা বাড়ে। যাঁদের রেনোড ফেনোমেনন আছে, শীতে তাঁদের আঙুলে রক্ত সঞ্চালন কমে যায় এবং নীল হয়ে যেতে পারে।

  • ঠান্ডা আবহাওয়ায় স্নায়ুর সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি পায় বলে ব্যথার অনুভূতি বেড়ে যায়।

  • শীতে শারীরিক কার্যকলাপ কমে যায়। বয়স্ক ব্যক্তিরা লেপ-কাঁথা মুড়ি দিয়ে বসে বা শুয়ে থাকতে পছন্দ করেন। এতে ব্যথা বৃদ্ধি পায়।

  • শীতকালে আর্দ্রতা কমে অস্থিসন্ধির চারপাশের টিস্যু শুকিয়ে যায়, এতে ব্যথা বৃদ্ধি পায়।

কী করবেন

  • জীবনযাত্রার পরিবর্তন: উষ্ণ পরিবেশে থাকার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে রুম হিটার ব্যবহার করা যায়। যথেষ্ট গরম কাপড় পরুন, বিশেষ করে পায়ে মোজা পরা ভালো। শরীর গরম রাখার চেষ্টা করুন। সন্ধি ঢেকে রাখুন, বিশেষত হাঁটু ও হাতের অস্থিসন্ধি। যথেষ্ট পানি পান করুন, যাতে শরীর হাইড্রেটেডেট থাকে।

  • ব্যায়াম ও গরম সেঁক: নিয়মিত হালকা স্ট্রেচিং বা যোগব্যায়াম অস্থিসন্ধিকে নমনীয় রাখতে ও রক্তপ্রবাহ বাড়াতে সাহায্য করে।

  • গরম পানিতে শরীর ডুবিয়ে ব্যায়াম করা ব্যথা কমাতে সহায়ক।

  • হালকা হাঁটা: রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে এবং অস্থিসন্ধি সক্রিয় রাখতে প্রতিদিন হাঁটা গুরুত্বপূর্ণ।

  • ব্যথার স্থানে গরম সেঁক দিলে অস্থিসন্ধির ব্যথা কমে।

  • চিকিৎসা: চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যথানাশক ওষুধ গ্রহণ করা যেতে পারে।

  • ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করতে পারেন। কারণ, শীতে ভিটামিন ডি কমে যায়। ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞের পরামর্শে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নিতে পারেন।

  • ডায়েট: ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড যেমন মাছ, বাদাম ও নানা রকম বীজ খাবারে যোগ করুন।

  • প্রদাহ-প্রতিরোধী খাবার যেমন হলুদ, আদা, রসুন ও সবুজ শাকসবজি।

  • অস্থিসন্ধির সুরক্ষাদানকারী খাবার যেমন দুধ, দই ও ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার।

সতর্কতা

  • দীর্ঘ সময় ঠান্ডা পরিবেশে থাকা থেকে বিরত থাকুন। ডায়াবেটিস ও স্নায়ুর রোগীরা বেশি গরম পানিতে পা ডুবিয়ে বা সেঁক দিয়ে পা পুড়িয়ে ফেলতে পারেন, সেদিকে সতর্ক থাকবেন। গোসলের জন্য কুসুম গরম পানি ব্যবহার করুন, অতিরিক্ত গরম পানি
    আর্দ্রতা কমাবে।

  • ব্যথা খুব বেশি বৃদ্ধি পেলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

এম. ইয়াছিন আলী, চেয়ারম্যান ও চিফ কনসালট্যান্ট, ঢাকা সিটি, ফিজিওথেরাপি হাসাপাতাল, ধানমন্ডি, ঢাকা।

আগামীকাল পড়ুন: মোটর নিউরোন রোগ হলে কী করবেন