হার্ট অ্যাটাকের আগেই কি শরীর বিশেষ কিছু জানান দেয়

হার্ট অ্যাটাক হলে হঠাৎ প্রচণ্ড বুকে ব্যথা হয়, এই ধারণাটুকু কমবেশি সবারই রয়েছে।মডেল: টুটুল, ছবি: প্রথম আলো

আপনি এমন অনেকের কথাই শুনে থাকতে পারেন, যাঁদের কম বয়সে হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। যেকোনো বয়সেই আকস্মিক মৃত্যুর অন্যতম কারণ হার্ট অ্যাটাক। এমন মৃত্যুর অর্থ তো কেবল একটি জীবনপ্রদীপ নিভে যাওয়াই নয়; বরং একটি পরিবারের শত স্বপ্ন হারিয়ে যাওয়া। হার্ট অ্যাটাক হলে হঠাৎ প্রচণ্ড বুকে ব্যথা হয়, এই ধারণাটুকু কমবেশি সবারই রয়েছে। কিন্তু চরমতম এই লক্ষণ ছাড়া হার্ট অ্যাটাকের আরও অনেক লক্ষণ দেখা দেয়। এমনকি হার্ট অ্যাটাক হয়ে যাওয়ার আগেও কিছু ‘ছোটখাটো’ লক্ষণ দেখা দিতে পারে, যা থেকে আপনি ধারণা পেতে পারেন, দেহযন্ত্রের কোথাও হয়তো কোনো গোলমাল হচ্ছে। এ সময়েই চিকিৎসা নিতে পারলে অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতা এড়ানোর সুযোগ পাওয়া যায়।
হৃৎপিণ্ডের নিজস্ব রক্তনালির কোনো শাখার কোনো এক অংশে ব্লক অর্থাৎ বাধা সৃষ্টি হলে হৃৎপিণ্ডের কিছু অংশে আর ঠিকভাবে রক্তসঞ্চালন হতে পারে না। আর তাতেই বাধে বিপত্তি। সাধারণভাবে একেই বলা হয় হার্ট অ্যাটাক। কিন্তু রক্তনালিতে তো আর একদিনে ব্লক হয় না। দীর্ঘদিন ধরে রক্তনালির ভেতরে চর্বি জমা হতে হতে রক্তনালি ক্রমেই সরু হয়ে পড়ে। সরু পথে স্বাভাবিকভাবেই রক্তের প্রবাহ কম হয়। এ কারণেই শরীরে দেখা দেয় কিছু লক্ষণ। এ সম্পর্কে জানালেন ধানমন্ডির পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মেডিসিন কনসালট্যান্ট ডা. সাইফ হোসেন খান।

অল্পেই হাঁপিয়ে ওঠা, অস্বাভাবিক ক্লান্তি

হৃৎপিণ্ডের রক্তনালি যখন একটু একটু করে সরু হতে থাকে, তখন থেকেই তার কাজ বাধাগ্রস্ত হতে থাকে। ফলে শরীর অল্প শ্রমেই কাবু হয়ে পড়ে। এমন হলে সামান্য পরিশ্রমেই আপনি হাঁপিয়ে উঠবেন। খুব ভারী কোনো কাজ না করেও আপনি অত্যধিক ক্লান্তি অনুভব করবেন। এমন অবস্থায় দু-এক তলা সিঁড়ি ভেঙে উঠতেই আপনার বেশ কষ্ট হবে।

আরও পড়ুন

মাথা হালকা হয়ে যাওয়া, ঠান্ডা ঘাম

হার্ট অ্যাটাকের আগে প্রায়ই খুব দুর্বল বা অসুস্থ অনুভব করতে পারেন আপনি। মনে হতে পারে, মাথার ভেতরটা বুঝি হালকা হয়ে যাচ্ছে। ঠান্ডা ঘামও হতে পারে কারও কারও। খুব স্বাভাবিকভাবেই আপনি এমন লক্ষণের অন্য কোনো কারণও খুঁজে পাবেন না।

ভয়াবহ ওজনের কোনো জিনিস বুকের ওপর চেপে আছে, এমনটা মনে হতে পারে।
মডেল: হামিদুজ্জামান ও তূর্য, ছবি: কবির হোসেন

বুকে চাপ

হার্ট অ্যাটাকের প্রধান লক্ষণ হলো বুকের মাঝ বরাবর প্রচণ্ড ব্যথা বা চাপ অনুভব করা। ভয়াবহ ওজনের কোনো জিনিস বুকের ওপর চেপে আছে, এমনটা মনে হতে পারে। কিন্তু হার্ট অ্যাটাকের আগে থেকেই বুকের মাঝখানে খানিকটা চাপ চাপ ভাব অনুভূত হয় অনেকেরই। সাধারণভাবে ‘গ্যাসের ব্যথা’ বা ‘গ্যাসের চাপ’ মনে করে অনেকে সেটিকে তেমন গুরুত্ব দেন না। সামান্য বিশ্রামে সেই ব্যথা সেরেও যায়। ধরুন, ‘গ্যাসের চাপ’ ভেবে অ্যান্টাসিড-জাতীয় ওষুধ সেবন করে খানিকক্ষণ শুয়ে থাকলেন কেউ। বিশ্রামের ফলে ব্যথা সেরে গেল। কিন্তু তাঁর ধারণা হলো, ওষুধের কারণেই ব্যথা কমেছে। অথচ ওদিকে রক্তনালি দিনে দিনে সরু হতে হতে একসময় হার্ট অ্যাটাক হয়ে যেতে পারে তাঁর।

অস্বাভাবিক হৃৎস্পন্দন

স্বাভাবিক অবস্থায় আমাদের অগোচরেই এক দারুণ ছন্দে কাজ করে চলে আমাদের হৃৎপিণ্ড। হৃৎপিণ্ডের এই চমৎকার স্পন্দন কিন্তু আমরা সচরাচর অনুভব করি না। তবে হৃৎপিণ্ডের রক্তনালি সরু হতে থাকলে তার এই ছন্দের পতন ঘটতে পারে। পুরো দেহে রক্তসঞ্চালনের কাজটা করার জন্য অতিরিক্ত দ্রুততার সঙ্গে স্পন্দিত হতে পারে হৃৎপিণ্ড। এই স্পন্দন আপনি অনুভব করতে পারেন। আপনার বুক ধড়ফড় করতে পারে। বুক ধড়ফড় করার এই লক্ষণ কিন্তু অনেক রোগীর ক্ষেত্রেই দেখা দেয়। বিশেষ করে সামান্য পরিশ্রমেই হৃৎস্পন্দন অত্যধিক দ্রুত হয়ে পড়ায় সেই সময় বুক ধড়ফড় করার প্রবল অনুভূতি হতে পারে কিংবা নিয়মিত ছন্দের স্পন্দন বদলেও যেতে পারে। আপনার মনে হতে পারে, আপনার হৃদ্‌যন্ত্র বুঝি এলোমেলো ছন্দে স্পন্দিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন

অন্য কোনো ব্যথা

কোনো কারণ ছাড়াই পিঠ, কাঁধ, ঘাড়, বাহু কিংবা ওপরের পেটে অস্বাভাবিক ব্যথা হওয়াটা হার্ট অ্যাটাকের প্রাথমিক অবস্থার লক্ষণ হতে পারে। তাই প্রায়ই এ রকম ব্যথা হলে সেই ব্যথাকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

করণীয়

এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলেই আতঙ্কিত হবেন না। নানা কারণেই এমন লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তাই সময় নষ্ট না করে একজন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। তিনি প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন আপনাকে।

আরও পড়ুন