মায়ের দুধ ছাড়া কেন শিশু কিছু খেতে চায় না

শিশুর খেতে না চাওয়ার বিড়ম্বনা নিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য মা–বাবা চিকিৎসকের চেম্বারে ভিড় জমান। কোনো শিশু অসুস্থ হলে, যেমন জ্বর, কাশি, পাতলা পায়খানা, গলাব্যথা, মুখে ঘা, কোষ্ঠকাঠিন্য, জন্ডিস ইত্যাদি হলে খাবার খেতে চাইবে না, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু একটা সুস্থ শিশুর খেতে না চাওয়ার কারণ কী:

  • উয়েনিং প্র্যাকটিস ঠিকভাবে না হলে খাওয়া নিয়ে ভুল–বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয় বলে মায়েরা বিভ্রান্ত হন। উয়েনিং হলো, বয়স ৬ মাস পূর্ণ হলে দুধের শিশুকে পারিবারিক খাবারে অভ্যস্ত করার অভ্যাস। এ সময় শিশুকে নতুন যেকোনো খাবার মুখে দিলে প্রথমেই থু থু করে বের করে দেয় বা বমি করে। উয়েনিংয়ের সময় কোনো কোনো শিশুর খাদ্যাভ্যাস গড়ে উঠতে একটু সময় লাগে। এটা কোনো সমস্যা নয়, ধৈর্য ধরতে হবে মাত্র।

  • রান্নার পদ্ধতি শিশুর উপযোগী (ঝাল–মসলা ছাড়া) না হলে অর্থাৎ খাবারটা সুস্বাদু না হলে শিশুরা খেতে চায় না।

  • দুটি বদ অভ্যাস খাবার প্রবণতা কমায়। এর একটি, যখন–তখন চিপস, চানাচুর, চকলেট, চা, বিস্কুট, ড্রিংকস ইত্যাদি খাওয়ানো। এটি ক্ষুধা নষ্ট করার জন্য যথেষ্ট। অন্যটি ঘুমের মধ্যে ফিডারে দুধ–সুজি খাওয়ানোর অভ্যাস।

  • কী পরিমাণ খাবার খাওয়াতে হবে ও ক্ষুধা আছে কি না, না বুঝে জোর করলে শিশু খেতে চাইবে না।

  • শুধু মায়ের দুধে অভ্যস্ত হওয়াটা শিশুর অন্য খাবার খেতে না চাওয়ার অন্যতম কারণ।

  • যখন শিশু খেলনা কিংবা বন্ধুদের নিয়ে ব্যস্ত থাকে, তখন আর খেতে চায় না।

  • শিশু ক্লান্ত ও ঘুম ঘুম ভাব অবস্থায় থাকলেও খেতে চায় না।

  • বড় বাচ্চাদের ক্ষেত্রে সাইকোলজিক্যাল সমস্যা বা ডিপ্রেশন খেতে না চাওয়ার একটা কারণ।

সমাধান  

  • জোর করে খাওয়ানো বন্ধ করতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে, শিশুরা যেন খাবারকে এনজয় তথা আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করে সে বিষয়ে।

  • ঘরে তৈরি খাবারে উৎসাহ দিতে হবে। রেডিমেড, মোড়ক ও প্রক্রিয়াজাত খাবার পরিহার করুন।

  • খাবার ১৫-২০ মিনিটের মধ্যে খাওয়ানো শেষ করতে পারলে ভালো। ৩০ মিনিটের বেশি চেষ্টা করা যাবে না।

  • দুটি খাবারের মাঝে পানি ছাড়া অন্য খাবার বন্ধ রাখতে হবে। একটু পরপর মায়ের দুধ খাওয়ানোর অভ্যাস অন্য খাবারের ইচ্ছা নষ্ট করে।

  • ফ্রেস খাবার পরিবেশন বাঞ্ছনীয়। ফিডারে খাওয়ানো পরিহার করুন।

  • যখন–তখন চিপস, চানাচুর, চকলেট, বিস্কুট, আইসক্রিম, ড্রিংকস, জুস ইত্যাদি পরিহার করতে হবে।

  • খেলাধুলায় উৎসাহ দিতে হবে। নিয়মিত শরীরচর্চা ক্ষুধা সৃষ্টিতে সহায়ক।

  • শিশুর মেজাজ–মর্জি, ক্ষুধা লেগেছে কি না, বুঝে খাওয়ানোর চেষ্টা করতে হবে। খাবারে একটু বৈচিত্র্য আনতে হবে।

  • শিশুকে ঘুমন্ত অথবা ক্লান্ত অবস্থায় খাওয়ানো উচিত নয়। খাওয়ানোর সময় বিভিন্ন ধরনের খেলনা দিয়ে ব্যস্ত রাখা যাবে না। এতে খাবারে উৎসাহ হারিয়ে ফেলবে।

  • কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে ইসবগুলের ভুসি, আশযুক্ত খাবারে উৎসাহ দিন।

  • ডা. সুজিত কুমার রায়, পেডিয়াট্রিক ইনচার্জ অ্যান্ড কনসালট্যান্ট, সেন্ট্রাল হাসপাতাল লিমিটেড, ঢাকা