কোনো কোনো শিশুর দাঁত উঠতে দেরি হয় কেন
শিশুর দুধদাঁতের কুঁড়ি ওঠা শুরু হয় মায়ের গর্ভে থাকতেই, যখন গর্ভকালীন বয়স মাত্র ৬ সপ্তাহ। তারপর জন্মের পর সাধারণত ৪–১৫ মাস বয়সের মধ্যে শিশুর দাঁত উঠতে শুরু করে। বেশির ভাগ শিশুর ৬ মাস বয়সের দিকে নিচের পাটির মাঝের দাঁত উঠে যায়। এরপর ধীরে ধীরে তিন বছরের মধ্যে দেখা যায় শিশুর বাকি ২০টি দুধদাঁত। শিশুর ১৫ মাস পার হয়ে গেলেও প্রথম দাঁত না গজালে মা–বাবার দুশ্চিন্তার কারণ আছে। এর আগে খুব একটা চিন্তার কারণ নেই। দাঁত ১৮ মাসেও না গজাতে শুরু করলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
যেসব কারণে শিশুর দাঁত দেরিতে উঠতে পারে, সেসবের কারণ খুঁজতে গিয়ে প্রথমেই দেখতে হবে শিশুর পারিবারিক ইতিহাস। অনেক ক্ষেত্রেই দেরিতে দাঁত ওঠা বংশানুক্রমিক। সে ক্ষেত্রে তেমন দুশ্চিন্তার কিছু নেই।
আবার যেসব শিশু সময়ের আগেই, অর্থাৎ ৩৬ সপ্তাহ পূর্ণ করার আগেই অথবা কম ওজন নিয়ে জন্মায়, তাদের ক্ষেত্রেও দাঁত দেরিতে উঠতে পারে।
শিশুর অপুষ্টি থাকলেও শরীরের হাড় এবং অন্যান্য টিস্যু গঠনে বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এ রকম ঘটে যখন, শিশুর ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন ডি (রিকেটস), ভিটামিন এ, ভিটামিন সি–এর অভাব হয়। মায়ের বুকের দুধ নিয়মিত খাওয়ানোর পাশাপাশি এসব ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে।
পিটুইটারি গ্রন্থি এবং থাইরয়েড গ্রন্থি শরীরের বিভিন্ন ধরনের কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, এসব হরমোনের অভাবেও দাঁত উঠতে দেরি হতে পারে।
যদি শিশুর দাঁতের মাড়ি ফাইব্রোসিস হয়ে শক্ত হয়ে যায়, সে ক্ষেত্রে শিশুর দাঁত উঠতে বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
যেসব রোগ শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমিয়ে দেয়; যেমন রক্তশূন্যতা, ক্যানসার; বিভিন্ন ধরনের ওষুধের প্রভাব, যেমন ফেনাইটয়েন, কেমোথেরাপি পাওয়া শিশুদের দাঁত উঠতে দেরি হতে পারে।
ডাউন সিনড্রোমসহ আরও বেশ কিছু জিনগত জটিলতায়ও শিশুর দাঁত দেরিতে উঠতে পারে।
দাঁত দেরিতে উঠলে শিশুর বয়স উপযোগী খাবারগুলো চিবিয়ে খেতে অসুবিধা হওয়ার জন্য অপুষ্টি দেখা দেয় এবং বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে। শিশুর স্থায়ী দাঁতগুলো ভবিষ্যতে আঁকাবাঁকা হয়ে উঠতে পারে, এমনকি শিশুর স্থায়ী দাঁত উঠতেও সমস্যা হয়। কিছু বিরল ক্ষেত্রে শিশুর অতিরিক্ত দাঁত দেখা যেতে পারে, একই সঙ্গে মাড়িতে শিশুর দুধদাঁত ও স্থায়ী দাঁত পাশাপাশি বিরাজ করতে পারে।
শিশুর দাঁত উঠতে দেরি হলে আতঙ্কিত না হয়ে শিশুর অন্যান্য বৃদ্ধি ও বিকাশের দিকে খেয়াল রাখতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে হবে।
ডা. ফারাহ দোলা, বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর