কোন রঙের প্রস্রাবের কী মানে
প্রস্রাবের স্বাভাবিক রং বিবর্ণ হলুদ বা পীতাভ। পানি কম বা বেশি পান করার কারণে স্বাভাবিকভাবেই এই রং বদলায়। রমজানের দিনগুলোতেই যেমন পানিশূন্যতার কারণে গাঢ় হলুদ রঙের প্রস্রাব হয়ে থাকে। পানিশূন্যতার তীব্রতা খুব বেশি হলে প্রস্রাবের রং বাদামিও দেখাতে পারে। পানি বেশি পান করা হলে কিংবা কোনো কারণে বেশি পরিমাণে প্রস্রাব হলে (যেমন বহুমূত্র রোগ হলে কিংবা প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়ায়, এমন ওষুধ সেবন করলে) প্রস্রাব পানির মতো স্বচ্ছ রং ধারণ করতে পারে।
কেন বদলে যায় প্রস্রাবের রং
প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত গেলে প্রস্রাব লাল, গোলাপি বা পিচ রঙের দেখাতে পারে। প্রস্রাবে সংক্রমণ, কিডনি বা মূত্রনালির পাথর, কিডনিতে আঘাত, এমনকি কিডনি বা মূত্রথলির ক্যানসারের কারণেও প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যেতে পারে। তাই এই উপসর্গকে অবহেলা করা যাবে না। তবে কিছু ওষুধ সেবনের কারণেও প্রস্রাব লাল, কমলা, বাদামি, সবুজ কিংবা কালচে রঙের দেখায়। কখনো কখনো বিট খাওয়ার কারণে প্রস্রাব লাল হতে দেখা যায়।
একইভাবে কিন্তু অতিরিক্ত গাজর খাওয়ার কারণে প্রস্রাব কমলা রঙের দেখায়। জীবাণুর সংক্রমণে প্রস্রাব সাদা হয়ে যেতে পারে। তবে নির্দিষ্ট ধরনের জীবাণুর সংক্রমণে প্রস্রাব সবুজ রঙেরও হতে পারে। বাদামি রঙের প্রস্রাব হতে পারে কিডনির কোনো রোগের কারণে। কালচে প্রস্রাব হতে পারে দেহে নির্দিষ্ট রাসায়নিকের বিষক্রিয়ার ফলে। আবার ফিস্টুলার রোগীদেরও সবুজ প্রস্রাব হতে দেখা যায়।
করণীয়
প্রস্রাবের রং স্বাভাবিক না থাকলে প্রথমেই ভেবে দেখুন, পানি কিংবা খাবারের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে কি না। নতুন করে কোনো ওষুধ সেবন শুরু করার পর প্রস্রাবের রং বদলে গেল কি না, সেটিও খেয়াল করে দেখুন। সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের সঙ্গে আলাপ করে বিষয়টি নিশ্চিত করে নেওয়া ভালো। তবে এমন সাধারণ কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া না গেলে এর পেছনে দায়ী রোগটিকে নির্ণয় করতে হবে যত দ্রুত সম্ভব। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়। তবে প্রস্রাবের রং গোলাপি, লালচে, পিচ রঙের কিংবা লাল রঙের নানা রূপের যেকোনোটি ধারণ করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে একেবারেই দেরি করা উচিত নয়।
প্রস্রাবে বুদ্বুদ?
প্রস্রাব করার পর কমোডের পানিতে সামান্য বুদ্বুদ দেখা দেওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে খুব বেশি পরিমাণে বুদ্বুদ দেখা গেলে কিংবা দীর্ঘদিন ধরে এভাবে বুদ্বুদ দেখলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই ভালো। কারণ, প্রস্রাবের সঙ্গে শরীরের প্রয়োজনীয় আমিষ বেরিয়ে গেলে এ রকম বুদ্বুদ হতে পারে।