শিশুদের রক্তনালির রোগ এইচএসপি 

হেনোক সোলেন পারপুরা (এইচএসপি) রক্তনালির একটি রোগ। এ রোগে ছোট ছোট রক্তনালি বা ক্যাপিলারিতে প্রদাহ হয়। প্রদাহের ফলে ত্বকের নিচে রক্তনালি থেকে রক্তক্ষরণ হয়ে শরীরে লাল বা বেগুনি রঙের ছোট ছোট দানা তৈরি হয়, যাকে পারপুরা বলা হয়। এটা একধরনের বিরল রোগ। রোগটি ৫–১৫ বছর বয়সী শিশুদের দেখা যায়। এ রোগে ছেলেশিশুরা বেশি আক্রান্ত হয়। সাধারণত শীতে বেশি দেখা গেলেও কখনো বসন্তকালেও দেখা যায়। 

কারণ 

রোগটির কারণ অজানা। তবে সংক্রামক জীবাণু, যেমন ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাসের কারণে এ রোগের সূত্রপাত ঘটে বলে মনে করা হয়। তা ছাড়া বিভিন্ন ওষুধ, পোকার কামড়, ঠান্ডা, খাবারে অ্যালার্জির কারণে এমন হতে পারে। শরীরে রোগপ্রতিরোধকারী উপাদান ইমিউনোগ্লোবিনের অতিসক্রিয়তার ফলে রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ায়ও এমন হতে পারে। এ রোগ বংশগত বা ছোঁয়াচে নয়। প্রতিরোধযোগ্যও নয় এটি। 

লক্ষণ

● ত্বকে লাল লাল দাগ দেখা যায়। প্রথম দিকে ছোট, পরে কিছুটা বড় হয়ে বেগুনি রঙের মতো দেখায়। এগুলো ত্বকে উঁচু হয়ে থাকে ও হাত দিয়ে অনুভব করা যায় এবং চুলকানি হয়। 

● দানাগুলো মূলত দুই পা ও নিতম্বে দেখা যায়। হাত ও শরীরের ওপরের অংশেও কখনো দেখতে পাওয়া যায়। 

● এসব লক্ষণের পাশাপাশি শতকরা ৬৫ জন রোগীর গিরা ফোলা এবং ব্যথার সঙ্গে নড়াচড়ার অসুবিধা দেখতে পাওয়া যায়। সাধারণত হাঁটু, গোড়ালি এবং কদাচিৎ কবজি, কনুই ও আঙুলের গিরাগুলো আক্রান্ত হতে থাকে। তবে তীব্র পেটব্যথা, সঙ্গে খাদ্যনালিতে রক্তক্ষরণ ও খাদ্যনালি অস্বাভাবিকভাবে ভাঁজ হয়ে গেলে বলা হয় ইনটাসসাসসেপশন। এতে খাদ্যনালিতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়, যে কারণে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। আর কিডনির রক্তনালিতে প্রদাহ হলে প্রস্রাবে রক্ত ও প্রোটিন নিঃসৃত হয়। তা ছাড়া মস্তিষ্ক আক্রান্ত হলে খিঁচুনি, ফুসফুসে রক্তক্ষরণ হতে পারে, অণ্ডকোষ ফুলে যেতে পারে। 

রোগ শনাক্তকরণ

রক্তকণিকার পরিমাপ, সিআরপি, প্রস্রাব–পায়খানা পরীক্ষা করে রোগ শনাক্ত করা যায়। এ ছাড়া লিভার ও কিডনির কার্যকরিতা পরীক্ষা করে দেখা হয়। পেটের আলট্রাসনোগ্রাফি করে পেটব্যথার কারণ শনাক্ত করা যায়। রক্তে ইমিউনোগ্লোবিনের পরীক্ষা, ত্বকের দানা এবং কিডনি বায়োপসি পরীক্ষা করেও রোগ শনাক্ত করা সহজ হয়। 

চিকিৎসা

● বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এ রোগে বিশেষ কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। তবে লক্ষণ অনুযায়ী গিরাব্যথার জন্য ব্যথানাশক ওষুধ, চুলকানি হলে অ্যান্টিহিস্টামিন ও পেটব্যথার জন্য ওষুধ দেওয়া হয়ে থাকে। 

● রোগের লক্ষণ হিসেবে অন্ত্রনালির প্রচণ্ড ব্যথা, কিডনিতে তীব্র সমস্যা হলে স্টেরেয়ডসহ অন্যান্য ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা শুরু করতে হয়। 

এ রোগের চিকিৎসা প্রাথমিকভাবে ৪–৬ সপ্তাহ সময় নিয়ে করতে হবে। তবে পুনরায় রোগ দেখা দিলে বা কিডনি আক্রান্ত হলে কখনো কখনো দীর্ঘদিন চিকিৎসা করতে হয়।

 অধ্যাপক ডা. ইমনুল ইসলাম, শিশুরোগ বিভাগ, বিএসএমএমইউ, ঢাকা 

আগামীকাল পড়ুন: শ্বেতী কোনো অভিশাপ নয়