কোনো কারণেই ফেরানো গেল না তাকে...খালিদকে হারানোর এক বছর

একের পর এক হিট গান উপহার দিয়ে অল্প সময়েই খ্যাতি পান খালিদ, তাঁর গান এখনো মানুষের মুখে মুখে ফেরেকোলাজ

চাইম ব্যান্ডের ভোকালিস্ট খালিদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১৮ মার্চ। গত বছর হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ‘সরলতার প্রতিমা’, ‘যতটা মেঘ হলে বৃষ্টি নামে’, ‘কোনো কারণেই ফেরানো গেল না তাকে’, ‘যদি হিমালয় হয়ে দুঃখ আসে’র মতো জনপ্রিয় গানের এই শিল্পী।
কয়েক বছর ধরেই হৃদ্‌রোগে ভুগছিলেন খালিদ; একাধিকবার হৃদ্‌রোগের চিকিৎসা নেন তিনি। তাঁর হৃদ্‌যন্ত্রে একটি স্টেন্ট বসানো ছিল। সেদিন সন্ধ্যায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে খালিদকে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়।

এই গায়কের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে কথা হয় অবসকিউর ব্যান্ডের ভোকালিস্ট সাইদ হাসান টিপুর সঙ্গে। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘তিনজন কাছের মানুষকে হারালাম—জুয়েল (হাসান আবিদুর রেজা জুয়েল), শাফিন ভাই ও খালিদ। এই তিনজনের অভাব কখনো পূরণ হবে না। আসলে মৃত্যুর পর আমরা সবাই যেভাবে তাদের স্মরণ করি, বেঁচে থাকতে যদি তাদের একটু সময় দিতাম, তাহলে একবুক কষ্ট নিয়ে তাদের চলে যেতে হতো না। সব সময়ের মতো আবারও বলি, আমরা যেন দাঁত থাকতে দাঁতের মর্ম বুঝি।’

খালিদ সাইফুল্লাহ
প্রথম আলো

১৯৬৫ সালের ১ আগস্ট গোপালগঞ্জে খালিদের জন্ম। ১৯৮১ সালে ফ্রিজিং পয়েন্ট নামের একটি ব্যান্ডে যোগ দেন তিনি। ১৯৮৩ সালে সেই ব্যান্ডের নাম বদলে ‘চাইম’ রাখা হয়। সারগাম থেকে প্রকাশিত চাইমের প্রথম অ্যালবাম (সেলফ টাইটেলড) দিয়ে যাত্রা শুরু তাঁর। ব্যান্ডটির ‘বেকারত্ব’, ‘নাতি–খাতি বেলা গেল’, ‘তুমি জানো নারে প্রিয়’, ‘কীর্তনখোলা নদীতে আমার’, ‘এক ঘরেতে বসত কইরা’, ‘ওই চোখ’, ‘প্রেম’, ‘সাতখানি মন বেজেছি আমরা’, ‘আমার জন্য রেখো’ গানসহ আরও বেশ কিছু গান সে সময় শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয়তা অর্জন করে।

২০০৫ সালে চাইম প্রকাশ করে শেষ অ্যালবাম ‘কীর্তনখোলা’। এরই মধ্যে একক শিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন খালিদ নিজেও। প্রকাশ পায় তাঁর প্রথম অ্যালবাম ‘এক টুকরো চাঁদ’। এই অ্যালবামের ‘মাক্ষীগিরা’ গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে।পাশাপাশি বেশ কিছু মিক্সড অ্যালবামে প্রকাশ পায় তাঁর ‘আবার দেখা হবে’, ‘কোনো কারণেই’, ‘আকাশ নীলা’ প্রভৃতি গান।

আরও পড়ুন

খালিদের অধিকাংশ জনপ্রিয় গানের গীতিকার ও সুরকার প্রিন্স মাহমুদ। খালিদ ও প্রিন্সের যুগলবন্দীতে কয়েক দশকে বাংলা গান সমৃদ্ধ হয়েছে একের পর এক হৃদয়ছোঁয়া সৃষ্টিতে। ১৯৯৪ সালে প্রিন্স মাহমুদের সুরে খালিদের প্রথম গান ‘আবার দেখা হবে’। এরপর ১৯৯৫ সালের শেষ দিকে ‘যতটা মেঘ হলে বৃষ্টি নামে’। ১৯৯৬ সালে ‘১১ জন’ অ্যালবামে ‘যতটা মেঘ হলে’। এরপর আসে ১৯৯৭ সালে ‘ঘৃণা’ অ্যালবামে ‘নীরা ক্ষমা করো’। ১৯৯৮ সালে শেষ ‘দেখা’ অ্যালবামে ‘আকাশনীলা তুমি বলো কীভাবে’। এগুলো জনপ্রিয়তা পেলেও সব ছাড়িয়ে যায় ১৯৯৯ সালে ‘এখনো দুচোখে বন্যা’ অ্যালবামের গান ‘কোনো কারণেই ফেরানো গেল না ’।

এরপর ১৯৯৯ সালের শেষ দিকে আসে ‘দাগ থেকে যায়’ অ্যালবামে ‘হয়নি যাবার বেলা’। ২০০৬ সালে মিক্সড অ্যালবাম ‘দেবী’–তে আসে  ‘যদি হিমালয় হয়ে দুঃখ আসে’। গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। ২০০৮ সালে প্রকাশ পায় একক অ্যালবাম ‘ঘুমাও’। অ্যালবামটি খালিদের ক্যারিয়ারে এক মাইলফলক। তবে এ অ্যালবামের পর থেকেই সংগীতে সেভাবে আর পাওয়া যায়নি খালিদকে। স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে তিনি বেছে নেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসজীবন।