‘স্বপ্ন টানে’ এখন আইকনিক টান হয়ে গেছে
দেড় দশক ধরে ঈদ উৎসবে বাড়ি ফেরা মানুষের প্রিয় একটি গান ‘স্বপ্ন যাবে বাড়ি’। বিজ্ঞাপনচিত্রের জন্য গানটি প্রথম লিখেছিলেন আনিকা মাহজাবিন। হাবিব ওয়াহিদের সুর ও সংগীতায়োজনে গানটি প্রথম গেয়েছেন মিলন মাহমুদ। এই গানটি যেন শিকড়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ৯ বছর আগে নতুন করে ‘স্বপ্ন যাবে বাড়ি ২’ গানটি তৈরি করে। রাসেল মাহমুদের লেখা এই গানের সুর ও সংগীতায়োজন করেন হাবিব ওয়াহিদ। গানটিতে কণ্ঠ দেন মিথুন চক্র। যন্ত্রশিল্পী হিসেবে পরিচিত হলেও মিথুনের এই কণ্ঠ দেশ–বিদেশের সবার কাছে পৌঁছে যায়। এই প্রতিবেদনে জানা যাবে ‘স্বপ্ন যাবে বাড়ি ২’ গানের গল্প।
মিলন মাহমুদের কণ্ঠে ‘স্বপ্ন যাবে বাড়ি’ প্রকাশের সাত বছর পর ২০১৬ সালে গ্রামীণফোনের ‘স্বপ্ন যাবে বাড়ি ২’ বিজ্ঞাপনের থিম সংয়ের সুর ও সংগীতায়োজন করেন হাবিব ওয়াহিদ। রাসেল মাহমুদের লেখা এই গানে কণ্ঠ দেন শিল্পী মিথুন চক্র। বিজ্ঞাপনচিত্রটি প্রকাশের পর এই গানটিও তুমুল আলোচিত হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ২০২৩ সালের এপ্রিলে মিথুন চক্র প্রথম আলোকে বলেন, গানটি নিয়ে খুব আলোচনা হলেও অনেকেই জানেন না কণ্ঠ কে দিয়েছেন। অনেকে মনে করেন, হাবিব ওয়াহিদের কিংবা মিলন মাহমুদ গানটি গেয়েছেন। ‘স্বপ্ন যাবে বাড়ি ২’ গানের কণ্ঠ যে মিথুন চক্রের সেটা জানেন না। আসলে দুই গানের শিরোনাম একই হলেও কথা পুরোটাই আলাদা, লিখেছেনও ভিন্ন দুই গীতিকার। তবে দুই গানের সুরে খানিকটা মিল থাকায় ধন্দে পড়তে হয়েছে দর্শকদের।
‘স্বপ্ন যাবে বাড়ি ২’ গানের গল্প শুনতে মিথুনের সঙ্গে আলাপে জানা গেল, ৯ বছর আগে টালমাটাল সময় পার করছিলেন তিনি। একেবারে ব্যক্তিগত ঘটনায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। এমন সময় হাবিব ওয়াহিদের কাছ থেকে তাঁর ডাক আসে। ছুটে যান। জানতে পারেন, একটি গানের ডামি ভয়েস দিতে হবে। তখনো জানেন না, কী সেই গান। স্টুডিওতে যান। কথা হয়। জানতে পারেন, বিজ্ঞাপনচিত্রের সেই ‘স্বপ্ন যাবে বাড়ি’ গানটি গাইতে হবে।
মিথুন বললেন, ‘আমি ভেঙে পড়েছিলাম। এর মধ্যে আরেকটা প্রজেক্টেও যুক্ত হই। তারপরও হাবিব ভাইয়ের ডাকে যাই। বলা হলো ডামি ভয়েস। ১৫ মিনিটে পুরো গান গেয়ে দিই। আমিও ভাবছিলাম, যেহেতু ডামি ভয়েস...এতেই চলবে। এরপর আরেক দিন ডাক পড়ল। হাবিব ভাই বললেন, আরেকবার কণ্ঠ দিতে হবে। তবে পুরো গান নয়। শুধু “স্বপ্ন টানে”—এই শব্দ দুটি। প্রতিষ্ঠানের চাহিদা শব্দ দুটিতে ছিল। এই দুটি শব্দ গাইতে সময় বেশি নিয়ে ফেলেছিলাম। ৩০-৩৫ মিনিট লেগে যায়। “স্বপ্ন টানে” এখন আইকনিক একটা টান হয়ে গেছে।’ এটাই ডামি ভয়েসের দামি হওয়ার টার্নিং পয়েন্ট।
‘স্বপ্ন যাবে বাড়ি ২’ গানটি খুব দ্রুত সব দিকে ছড়িয়ে পড়ে। তবে কেউ জানেন না, গানটি কার গাওয়া। অনেকে মনে করেন, হাবিব ওয়াহিদের কিংবা মিলন মাহমুদের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি কনসার্টে গানটি পরিবেশন করার পর একজন তাঁকে বলেছিলেন, ‘গানটি আপনার, জানতাম না।’ ২০২১ সালের দিকে নিজের কণ্ঠে গানের আনপ্লাগড সংস্করণ প্রকাশ করেন তিনি। গ্রামীণফোনের ক্যাম্পেইনের নাম ‘স্বপ্ন যাবে বাড়ি’, ক্যাম্পেইনের নাম অনুসারেই গানের নামকরণ হয়েছে। গানটি এভাবে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ায় ভীষণ খুশি মিথুন।
বললেন, ‘স্বপ্নের চেয়ে বেশি অনুভূতি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে গান যে বিনোদনের চেয়েও বেশি, এটা আমরা বুঝতে পারি “স্বপ্ন যাবে বাড়ি”র মতো গান শুনে। যেখানে মানুষের মনের আকুতি তুলে ধরা। মানুষকে নিয়ে যায় শিকড়ে। এই গানে কণ্ঠ ও যন্ত্রশিল্পী হিসেবে কাজ করেছি।’ গানটির অংশ করার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন হাবিব ওয়াহিদের প্রতি।
মিথুন বললেন, ‘তাঁর মতো একজন গায়ক, সুরকার ও সংগীত পরিচালক যে সুযোগ দিয়েছেন, এটাও অনেক বড় ব্যাপার। তিনি অনেক বড় একজন মানুষ। ভেবেছিলেন, আমাকে দিয়ে গাওয়ালে ভালো লাগতে পারে। সত্যি বলতে ট্রায়াল ভার্সনে গেয়েছি। তখন আমি মাত্র তিনটি গান গেয়েছি। “সাম্পানওয়ালা”, “ডুবেছি”, “বাঁশখালী মইশখালী”। হুট করে একদিন হাবিব ভাই ফোন করে বললেন, আমাকে দিয়ে একটু ট্রাই করতে চান? কিন্তু আমি কোনো রেফারেন্স থেকে সিঙ্গার না। ডামি ভয়েস হিসেবে ক্লায়েন্টকে পাঠাবে। যদি লাগে তো লাগল, না হলে যে নির্ধারিত শিল্পী, সে গাইবে। সেই ডামি ভয়েজটাই দামি হয়ে গেল। (হাসি) ৯ বছর ধরে চলছে।’