ডাকাতের চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে কী করেছিলেন পাচিনো

‘ডগ ডে আফটারনুন’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি

বিশাল একটি ব্যাংক তৈরি করা হয়েছে। নতুন ব্যাংকটি একসময় চালুও করা হলো। অ্যাকাউন্ট খুলতে এসে সাধারণ মানুষ জানতে পারলেন, এটা সত্যিকারের কোনো ব্যাংক নয়। শুটিংয়ের জন্য বানানো হয়েছে। ব্যাংক ডাকাতির সত্যি ঘটনা অবলম্বনে নির্মীয়মাণ একটি সিনেমার শুটিংয়ের জন্য তৈরি হয়েছিল এই ব্যাংক। সিনেমাটির নাম ‘ডগ ডে আফটারনুন’। মুক্তির ৫০ বছরপূর্তিতে সিনেমাটির বিশেষ প্রদর্শনীতে হাজির হয়ে আড্ডায় এ রকম অনেক গল্পই করে গেলেন অভিনেতা আল পাচিনো। ১৯৭৫ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটির জন্য অস্কারে সেরা অভিনেতার মনোনয়ন পেয়েছিলেন আল পাচিনো।

যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান সিনেমাথেক থিয়েটারে সিডনি লুমেট পরিচালিত সিনেমাটির সাম্প্রতিক প্রদর্শনীতে হাজির হয়েছিলেন ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি দর্শক। সেখানে হাজির হয়ে সেই সময়ের বন্ধু, সহকর্মীদের স্মরণ করে আল পাচিনো জানান, সিনেমাটির শুটিং থেকেই ইন্ডাস্ট্রিতে অনেককে বন্ধু হিসেবে পেয়েছিলেন তিনি।
৮৪ বছর বয়সী এই অভিনেতার দীর্ঘ ক্যারিয়ারের সেরা চরিত্রের একটি ছিল এই সিনেমার সনি। সেই সিনেমার ৫০ বছর উদ্‌যাপনে হাজির হয়ে শুরুতেই তিনি বলেন, ‘আমি “গডফাদার” করলাম, সেটারও ৫০ বছর উদ্‌যাপিত হয়েছে। পরে “গডফাদার ২” করলাম, সেটারও ৫০ বছর উদ্‌যাপিত হয়েছে। এখন আরেকটি উদ্‌যাপন পাওনা ছিল।’

‘ডগ ডে আফটারনুন’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি

প্রশ্ন-উত্তর পর্বে আল পাচিনো জানান, সিনেমাটির প্রযোজক ছিলেন মার্টিন বার্গম্যান। তিনি একদিন জানতে চাইলেন, ‘আল পাচিনো, তুমি ঠিক আছ তো?’ অভিনেতা সম্মতিসূচক মাথা নাড়লে বার্গম্যান আবার বলেন, ‘দয়া করে তুমি বলো, আমি ব্যাংক ডাকাতি করতে যাচ্ছি না।’ তাঁর কথা তখনো বুঝতে পারেননি এই অভিনেতা। পরে তাঁকে ধরিয়ে দেওয়া হয় সিনেমাটির চিত্রনাট্য। ‘গডফাদার’ সিনেমার পর এ ধরনের একটি চরিত্র শুরুতে করতে চাননি। পরে রাজি হয়ে যান।

ডাকাতের চরিত্রটিকে ফুটিয়ে তোলার জন্য মেথড অ্যাক্টিংয়ের আশ্রয় নেন আল পাচিনো। তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে অনুশীলন করেন। কিন্তু চরিত্রটি বাস্তব হওয়ায় কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ্বেও পড়েন। সেই গল্পও শোনালেন, ‘সচরাচর কোনো বাস্তব, জীবিত চরিত্রে অভিনয় করলে তাদের সঙ্গে কথা বলতে চেষ্টা করতাম। চরিত্রগুলোর সঙ্গে সময় কাটাতাম। পরে দেখা যেত চরিত্রটি আমি পেয়ে গেছি। কোনো না কোনোভাবে সেটা আমার মধ্যে চলে আসত। কীভাবে জানি না। সিনেমার শুটিং শুরু করি। আমি ভাবি না চরিত্রের মধ্যে আছি। শুটিং শেষে বাসায় আসতাম। এটা আমাকে রাতে জাগিয়ে রাখত। চিত্রনাট্যের চরিত্রটি নিজের মধ্যে পেয়ে যেতাম।’ কথাগুলো বলে পরক্ষণেই আল পাচিনো আবার এটাও বলেন, ‘সবাই ভেবেছিল, ব্যাংক ডাকাত চরিত্রটি নিয়ে আমি নার্ভাস।’

‘ডগ ডে আফটারনুন’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি

সিনেমাটির শুটিংয়ের সময় অল্প কয়েক ঘণ্টা ঘুমাতেন। ঠান্ডা পানিতে গোসল করতেন। সামান্য খাবার খেতেন। এ–ই ছিল রুটিন। এভাবে অর্ধেক শুটিংয়ের পর ক্লান্তিতে অসুস্থ হয়ে পড়েন আল পাচিনো। তাঁকে হাসপাতালেও ভর্তি করা হয়। পরে শুটিং শেষ হলেও এই অস্কারজয়ী অভিনেতা সিদ্ধান্ত নেন, আপাতত আর সিনেমা নয়। তখন মঞ্চনাটকে ফেরেন।

চরিত্র থেকে একবার বের হলে আগের জায়গায় ফেরাটা আল পাচিনোর জন্য কঠিন হয়ে যায়। কিন্তু এ সিনেমায় ফিরতে হয়েছিল। কারণ, কিছু দৃশ্য আবার শুটিং করতে হবে। সরাসরিই জানিয়েছিলেন, তিনি আবার শুটিং করতে পারবেন না। কারণ, চরিত্রটি থেকে তত দিনে তিনি বের হয়ে গেছেন। কিন্তু সিডনি লুমেট নাছোড়বান্দা।

‘ডগ ডে আফটারনুন’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি

ভক্তরা জানতে চান, সিনেমায় অভিনয়ের অনুপ্রেরণা কোথা থেকে পেয়েছিলেন? উত্তরে আল পাচিনোকে অতীতে ফিরতে হলো। ওয়েস্ট হলিউডের একটি সিনেমা হলে পুরোনো ছবি দেখানো হতো। সেখানে এক বন্ধুর সঙ্গে হাওয়ার্ড হকস পরিচালিত স্কারফেস দেখেন। সিনেমায় টনি চরিত্রে অভিনয় করেন পল মুনি। তাঁর পারফরম্যান্স ভালো লাগে। ‘পরে তাঁকে বলেছিলাম, আপনার অভিনয় আমাকে অভিনয়ে আসতে প্রেরণা দিয়েছে। আপনার “স্কারফেস” আমার পছন্দের সিনেমা,’ বলেন আল পাচিনো। ১৯৮৫ সালে ‘স্কারফেস’-এর রিমেকেও অভিনয় করেন আল পাচিনো।

আরও পড়ুন

১৯৭৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সান সেবাস্তিয়ান উৎসবে প্রিমিয়ারের পরের দিন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘ডগ ডে আফটারনুন’। কুখ্যাত ব্যাংক ডাকাত জন টোভিজের জীবনের প্রেরণায় নির্মিত হয়েছিল সিনেমাটি আর ব্যাংক ডাকাতের চরিত্রে যে আল পাচিনো অভিনয় করেছিলেন, সে কথা বলাই বাহুল্য।