অবশেষে জানা গেল হ্যাকম্যানের মৃত্যুর কারণ
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি নিউ মেক্সিকোর নিজ বাড়ি থেকে অস্কারজয়ী অভিনেতা জিন হ্যাকম্যান ও তাঁর স্ত্রী বেটসি আরাকাওয়ার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর পর থেকেই তাঁদের মৃত্যুর কারণ নিয়ে তদন্ত চলছিল। কিছুদিন আগে অনেকেই অনুমান করেছিলেন, কার্বন মনোক্সাইডের বিষক্রিয়ায় হ্যাকম্যান ও বেটসির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে কার্বন মনোক্সাইড পরীক্ষায় দুজনই নেগেটিভ। এবার আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের মৃত্যুর কারণ প্রকাশ করা হলো। খবর এএফপির।
গতকাল শুক্রবার চিকিৎসকেরা সাংবাদিকদের বলেন, দুজনের মৃত্যুতে অস্বাভাবিকতা নেই। নিউ মেক্সিকো মেডিকেল ইনভেস্টিগেটর অফিসের প্রধান মেডিকেল পরীক্ষক হিথার জ্যারেল বলেন, ‘৯৫ বছর বয়সী জিন হ্যাকম্যানের আলঝেইমার ছিল। এ ছাড়া উচ্চ রক্তচাপসহ কার্ডিওভাসকুলার রোগ তাঁর মৃত্যুর অন্যতম কারণ। বেটসি আরাকাওয়া হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তবে মৃত্যুর ধরন স্বাভাবিক।’ তিনি আরও বলেন, হ্যাকম্যান আর আরাকাওয়া কারও শরীরেই ট্রমা বা কার্বন মনোক্সাইড বিষক্রিয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এক সপ্তাহ ধরে চলা পরীক্ষা–নিরীক্ষা শেষে হ্যাকম্যান ও আরাকাওয়ার মৃত্যুর সময়ও জানা গেছে। হিথার জ্যারেল বলেন, ‘আমাদের পাওয়া তথ্যমতে, হ্যাকম্যান সম্ভবত ১৮ ফেব্রুয়ারি মারা গেছেন। তবে তাঁর আগেই আরাকাওয়া মারা গেছেন, সম্ভবত ১১ ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়েছে।’
পরীক্ষকদের মনে হয়েছে, স্ত্রী যে এক সপ্তাহ আগেই মারা গেছেন, সেটা সম্ভবত হ্যাকম্যান জানতেন না। তাঁর আলঝেইমার ছিল, দুজনের মৃতদেহ আলাদা কক্ষে পাওয়া গেছে। যদিও হ্যাকম্যানের পরিবার আগে আলঝেইমারের বিষয়টি অস্বীকার করেছিল।
হ্যাকম্যানকে গত শতকের সেরা অভিনেতাদের একজন মনে করা হয়। রবার্ট ডি নিরো, আল পাচিনো, ডাস্টিন হফম্যানের সঙ্গে তিনি হলিউডের সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া তারকার একজন ছিলেন।
হ্যাকম্যান ১৯৩০ সালের ৩০ জানুয়ারি ক্যালিফোর্নিয়ার সান বার্নার্দিনো শহরে জন্মগ্রহণ করেন। নানা শহর ঘুরে তাঁদের পরিবার ইলিনয়ের ড্যানভিলে স্থায়ী হয়। হ্যাকম্যান ছোটবেলাতেই ঠিক করেছিলেন, অভিনেতা হবেন। ১৯৫৬ সালে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার প্যাসাডেনা প্লেহাউসে যোগ দেন। সেখানেই তাঁর সঙ্গে দেখা হয় ডাস্টিন হফম্যানের। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে মঞ্চ আর টিভিতে প্রচুর কাজ করেন হ্যাকম্যান। তবে তখনো তিনি তারকা হয়ে ওঠেননি।
হ্যাকম্যানের প্রথম চলচ্চিত্র ছিল ওয়ারেন বেটির ‘লিলিথ’। ১৯৬৭ সালে আর্থার পেনের ‘বনি অ্যান ক্লাইড’ দিয়ে পার্শ্বচরিত্রে প্রথমবার অস্কার মনোনয়ন পান। ১৯৭০ সালে ‘আই নেভার স্যাং ফর মাই ফাদার’ চলচ্চিত্রের জন্য পার্শ্ব–অভিনেতা হিসেবে দ্বিতীয়বার অস্কার মনোনয়ন পান। এরপরই আসে সেই বিখ্যাত সিনেমা ‘দ্য ফ্রেঞ্চ কানেকশন’। ১৯৭১ সালে মুক্তি পাওয়া জিমি পপাই ডয়েল চরিত্রে অভিনয় করে দুনিয়াজুড়ে খ্যাতি পান। উইলিয়াম ফ্রিডকিনের সিনেমাটির জন্য সেরা অভিনেতা হিসেবে অস্কার পান।
হ্যাকম্যান ১৯৯২ সালে ক্লিন্ট ইস্টউডের ‘আনফরগিভেন’ চলচ্চিত্রে শেরিফ লিটল বিল ড্যাগেট চরিত্রে অভিনয় করেন। এ সিনেমার জন্য পার্শ্বচরিত্রে সেরা অভিনেতা হিসেবে আবার অস্কার পান।
হ্যাকম্যানের অন্য উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে আছে ‘মিসিসিপি বার্নি’, ‘আ ব্রিজ টু ফার’, ‘এনিমি অব দ্য স্টেট’, ‘বিহাইন্ড এনিমি লাইনস’ ইত্যাদি।