সম্মান হারানোর ভয়ে এফডিসি যাই না: বাপ্পারাজ

মূলধারার বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র অঙ্গনের অনেকের মতে, খারাপ সময় পার করছেন তাঁরা। এফডিসি আগে যেখানে শুটিংয়ে মুখর থাকত, সেখানে এখন নির্বাচন নিয়ে মাতামাতি চলে। এবারের শিল্পী সমিতির নির্বাচন অতীতের সব আলোচনা ছাপিয়ে গেছে। অনেকে চলচ্চিত্র অঙ্গনের মানুষের প্রতি নেতিবাচক ধারণাও পোষণ করছেন। আবার চলচ্চিত্রের জ্যেষ্ঠ শিল্পীদের কেউ কেউ বলছেন, যে ধরনের কর্মকাণ্ড চলছে, তাতে এখন তো চলচ্চিত্রের মানুষ পরিচয় দিতেই লজ্জা লাগে। এসব নিয়ে সম্প্রতি প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেন বাপ্পারাজ

প্রশ্ন :

চলচ্চিত্র অঙ্গন নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ শুনতে চাই।

খুবই খারাপ অবস্থা। এখানকার বেশির ভাগ মানুষ অসভ্য হয়ে গেছে। শিল্পীর সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে বিনয়, সেই বিনয়টাই কমে গেছে। শিল্পীরা কিন্তু মাস্তান হয় না, শিল্পীরা হয় বিনয়ী। এই ব্যাটা এফডিসির গেটে আয়, তোরে দেইক্যা লমু—এসব কোনো শিল্পীর ভাষ্য হতে পারে না। এটা হচ্ছে মাস্তানদের ভাষ্য। মাস্তান পার্টি এসে চলচ্চিত্রের বারোটা বাজিয়ে দিয়ে গেছে। বড় বড় চাল ব্যবসায়ী, বালু ব্যবসায়ী এসে গেছে দলবল নিয়ে চলচ্চিত্রে। কে কারে কয়টা কেস দেবে—এসবই চলছে। আরে ভাই, এখানে মামলা দেওয়ার কী আছে। মামলা দিলে সমিতি বানাইছো কেন? থানায় গিয়ে মামলা করে যদি শিল্পীদের সমস্যা সমাধান করতে হয়, তাহলে সমিতি বানাইছ কেন! সবাইকে দেখি এখন কথায় কথায় থানা–পুলিশ, আইন–আদালত করতে। এই তো শুনলাম, ওই দিন অরুণাও থানায় গিয়ে জিডি করেছে। মালেক আফসারীর সমস্যা নিয়ে পরিচালক সমিতিতে অভিযোগ করলেই তো পারত। এত বড় বড় সমিতি বানিয়ে সবাই বসে রইছে সবার দেখভাল করার জন্য, তাহলে সেই সমিতির কাজ কী। তোমরা কি সমিতি বানাইয়া চান্দা খাও? এটার মীমাংসা সমিতি করতে পারল না কেন? শিল্পীরা থানায় যাবে কেন? আদালতে যাবে কেন? এফডিসির ভেতরে কিছু হলে আমরাই তো সমাধান করতে পারি। এসবের জন্য থানা–পুলিশ, আদালতের দরকার হয় নাকি?

বাপ্পারাজ
ছবি : প্রথম আলো

প্রশ্ন :

সমিতির ওপর কি তাহলে সবার আস্থা উঠে যাচ্ছে বলে মনে করছেন?

হ্যাঁ। এটাতে কোনো সন্দেহ নেই। এ অবস্থা চলছে কারণ, সমিতিগুলো ঠিকমতো কাজ করছে না। সমিতি যদি কাজ করত, তাহলে শিল্পী–পরিচালক–প্রযোজকেরা সমিতিতে সব ধরনের সমস্যার সমাধান করত, থানা–পুলিশ–আদালতে যেত না। এফডিসির ভেতরে থাকা এসব সমিতির ওপর কোনো আস্থা নেই বলেই এমনটা হচ্ছে। আমার তো মনে হয়, সমিতির সঙ্গে যুক্ত বেশির ভাগ উগ্র হয়ে গেছে। অসহিষ্ণু হয়ে গেছে। আমাদের নাম শিল্পী, কিন্তু এখন তো কোনো শিল্পীই নেই।

একটি ঘরোয়া অনুষ্ঠানে বাম থেকে অমিত হাসান, বাপ্পারাজ, মৌসুমী ও শাবনাজ
ছবি : সংগৃহীত

প্রশ্ন :

এটা কি শুধু শিল্পীদের ক্ষেত্রে, নাকি অন্যদের ক্ষেত্রেও হচ্ছে?

সব ক্ষেত্রে। সব সমিতির ক্ষেত্রে হচ্ছে। শিল্পী সমিতির নির্বাচনই দেখেন—পুলিশ, থানা, মামলা–মোকাদ্দমা কত কী হচ্ছে। সবাই বলছে, শিল্পীদের উন্নতি করার জন্য এমনটা করছেন তাঁরা। কথা হচ্ছে, এই যে উকিল নিয়োগ দিয়েছেন আপনারা, এসবের পেছনে তো লাখ লাখ টাকা খরচ হয়। এসব টাকা উকিলের পেছনে না দিয়ে অসচ্ছল শিল্পীদের মধ্যে বিলিয়ে দিক না। শিল্পীদের কাজ করার জন্য চেয়ারে বসতে হয় নাকি? চেয়ারে না বসলে শিল্পীদের পাশে থাকা যায় না? চেয়ারটার দরকার কি এত? কারণটা কি? আমি তো কোনো কারণ আজও খুঁজে পাইনি।

একটি অনুষ্ঠানে বাম থেকে মোমেনা চৌধুরী, শুভ্র দেব, অরুণা বিশ্বাস, বাপ্পারাজ, শহীদুল আলম সাচ্চু ও আহসানুল হক মিনু
ছবি : সংগৃহীত

প্রশ্ন :

অনেকে বলছেন, শিল্পীদের সম্মান নষ্ট হচ্ছে। জ্যেষ্ঠ শিল্পীদের অনেকে কয়েক বছর ধরে সমিতির কার্যক্রমে ভীষণ বিরক্ত?

কোথায় সেই সম্মান! সম্মান এখন কি আর বাকি আছে? চলচ্চিত্রের অনেককে দেখি নানান কথা বলে ছবি পোস্ট দেয়। কিন্তু পোস্টের নিচে যে মন্তব্যগুলো আসে, তা যদি একবার তারা দেখত, পড়ত—বুঝতে পারত আমাদের সম্মান কোথায়?

প্রশ্ন :

কী করতে হবে তাহলে?

কাজকর্ম নেই। শিক্ষিত ও মেধাবী লোকজন তো এখন আর এফডিসিতে আসে না। ভালো প্রযোজক আসছে না। পরিচালকদেরও একই অবস্থা। কিছুদিন পরপর মাস্তান–মুস্তান টাইপের কেউ আসে, কয়েক দিন ফুর্তিপার্তি করে, ছবির মহরত করে—এরপর ওই ছবির শুটিংও হয় না, শেষও হয় না—এসবই চলছে চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে!

প্রথম আলোর ক্যামেরায় এভাবেই ধরা দেন সম্রাট ও বাপ্পারাজ

প্রশ্ন :

সংকট উত্তরণের উপায় কী? পরিস্থিতি ভালো হবে কীভাবে?

চলচ্চিত্রের মঙ্গল যারা করবে, তাদের সম্মান করে ওরা (এখন যারা সমিতি নিয়ে মাতামাতি করে)? ভালোদের কথা শোনে ওরা? এখানে অবস্থা এখন এমন দাঁড়িয়েছে, কাউকে যদি বলা হয়, আপনার এই কাজটা ভালো হয়নি, আপনি এটা করবেন না। তখন পাল্টা উত্তর আসে, এই কথা বলার আপনি কে? আমার ভালো হয় নেই এটা বলার তুই কে! আপনি কেন! এত চুলকায় ক্যান। এটা শোনার চেয়ে না বলাটাই ভালো মনে করি। হাতে ধরে সম্মান হারাব কেন? কেউ যে সম্মান করে না, এটা দশজনকে বোঝাতে যাব কেন? আমি ভালো হওয়ার কথা বলব, বলে দশজনের সামনে বেইজ্জত হব, ঠেকা পড়ছে নাকি! অনেকে বলে না, নিজের সম্মান নিজে রাখো।

রাজ্জাকের সঙ্গে ছেলে বাপ্পারাজ।
ছবি : সংগৃহীত

প্রশ্ন :

তার মানে গা বাঁচাতে আপনারা সরে গেলেন?

সরে না গিয়ে কী করব। সরে যাবই না বা কেন? সম্মান হারাতে যাব কেন? ৩৫ বছর লাগছে সম্মানটা কামাইতে। এই সম্মান কামাতে আমার অনেক সাধনা ছিল, অনেক কিছু মেইনটেন করতে হয়েছে। আমার কোনো বদনামি নেই। কোনো বিটলামি করি নেই। আমি যদি দশজনের সঙ্গে ফ্লার্ট করতাম, তাহলে হয়তো ভিন্ন কথা। আজকে এসে আমি সম্মান খোয়াইতে যাব কেন!

প্রশ্ন :

তাহলে পরিস্থিতি কি এ রকমই চলতে থাকবে, নাকি বদল হবে?

সমিতিতে এখন যে ধরনের লোকগুলো আছে, তারা থাকলে কখনোই বদল হবে না। অন্য কাউকে আসতে হবে। আমরা যারা সরে আসছি, তারা তো সম্মান হারানোর ভয়ে এফডিসি যাই না। পরিবেশ তো খারাপ করে ফেলছে, খুবই খারাপ। এমন খারাপ পরিবেশে কেন যাব? এফডিসিতে পুলিশের ধাওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি! এখন নির্বাচন এলেই হাজার হাজার পুলিশ এফডিসিতে! কোথা থেকে এল তারা, এফডিসি কর্তৃপক্ষ অ্যালাউ করল কেন! প্রথমেই ডিজঅ্যালাউ করা উচিত ছিল। আগেরবারের নির্বাচনে আমি যখন এফডিসি গিয়েছিলাম, পুলিশ আমার গাড়ি গেটে আটকে দিয়েছিল। আমাকে বলল, গাড়ি নিয়ে ভেতরে যেতে পারবেন না! আমি বলেছি, তাহলে আমি ভেতরে যাব না। কী করবেন আপনি? এই এফডিসি আমার, ভেতরে গেলে গাড়ি নিয়েই আমি যাব, তখন আমাকে ঢুকতে দিয়েছে। এবার তো যাই–ইনি। আমার এফডিসিতে আমি ঢুকব, ওটা আমার কাজের জায়গা—এখানে পুলিশের পারমিশন নিয়ে ঢুকতে হবে কেন! আমার কি খেয়েদেয়ে আর কোনো কাজ নেই। ইজ্জত কেন খোয়াব! এবার তো শুনলাম, অনেককে ঢুকতেই দেয়নি। আমার প্রশ্ন, এগুলো সবাই অ্যালাউ করছে কেন? ওই দিনই সবারই এসব নিয়ে কথা বলা উচিত ছিল, ভোট দিতে যাব না। আরেকটা খুব সহজ পদ্ধতি অবশ্য আছে।

দুই সন্তান বাপ্পারাজ ও সম্রাটের সঙ্গে রাজ্জাক

প্রশ্ন :

কী সেই পদ্ধতি?

এফডিসি থেকে সব সমিতি বের করে দিতে হবে, তাহলেই দেখবেন সব ঠান্ডা। এই অস্থিরতা থাকবে না, এটা শতভাগ নিশ্চিত। কেপিআইভুক্ত এলাকায় সমিতি থাকবে কেন, এটা তো অবৈধ—অনেক আগে থেকেই এটা বলছিলাম। এখন যেগুলো সমিতি, এগুলো পাঠাগার, বিশ্রামাগার হিসেবে বরাদ্দ নিয়েছিল সবাই। এখানে সমিতি কেন, দলাদলি কেন। এখানে একটা পিয়ন রেখে দেবেন, চাঁদা দেবেন—এরপর সবাই এসে বসবেন, চা খাবেন, আড্ডা দেবেন, গল্পসল্প করবেন। এখানে এত সমিতি সমিতি আওয়াজ তোলার কী আছে। আমরা কি তবে এটা দিয়ে কারও সঙ্গে দেনদরবার করছি? এটা ব্যবসায়িক হাতিয়ার বানাচ্ছি? এই মানসিকতার জন্যই তো সমিতিকে ঘিরে বদমায়েশি হয়। ভালো লোকেরা আসা বন্ধ করে দিয়েছে এসবের কারণে। অনেকে দেখি, এসব সমিতিতে বসে সারা দিন খোঁজে কার বিরুদ্ধে কী বলা যায়। খোঁজ নেন, এফডিসির এসব সমিতিতে কারা যায়? সব বেকারেরাই কিন্তু যায়, যাদের কোনো কাজ নেই। ওরাই সেখানে গিয়ে গলাবাজি করে। আমি কাজ করে কূল পাই না, সেখানে গিয়ে অফিস করব, ঠেকা তো পড়েনি। গত মেয়াদে দুই বছরে মাত্র দুইবার গিয়েছিলাম। একবার শপথ করতে। আরেকবার অন্য একটা কাজে। ওখানে গিয়ে শুনি, এরে দেইখা নিব, ওরে দেইখা নিব! আরে ভাই, এসব করার জায়গা তো এটা না। আমার তো এসবের সময়ও নেই। ওখানে বসে ওরা কত বাজে চিন্তাধারণা পোষণ করে একটা উদাহরণ দিলে বুঝতে পারবেন।

রাজ্জাকের সঙ্গে দুই ছেলে বাপ্পারাজ ও সম্রাট

প্রশ্ন :

কী সেই উদাহরণ?

আমাদের একজন সহকর্মী আছে চিত্রনায়িকা শিল্পী, কয়েক বছর আগে তার বাচ্চার জন্মদিনের পার্টি ছিল বনানীতে। আমি অমিত, মৌসুমী, শাবনাজসহ সবাই গিয়েছিলাম। ওই ছবিটা আমার ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট করা হয়। এর ঠিক পরদিন সমিতিতে যখন গেছি, শিল্পী সমিতির কমিটির একজন আমাকে বলছে, ‘ও, তুমি এই দিকেও আছ, ওই দিকেও আছ। বললাম, কী বলেন এসব আপনি! না তোমারে দেখলাম ছবিতে, শিল্পীর বাচ্চার জন্মদিনে। আমি বললাম, দেখবেন না কেন? ওরা আমার কলিগ না? আমি কি ওইখানে যাইতে গেলে আপনার পারমিশন নিয়ে যাব নাকি। ছ্যাঁচড়া ব্যাটা। এরাই সমিতির মাতবর সেজে বসে আছে! এই হলো ওদের মানসিকতা। শিল্পী হয়েও শিল্পীতে শিল্পীতে বিভাজন তৈরি করে রেখেছে! ওরা আমার কলিগ, ইলেকশন নাহয় অন্য প্যানেল থেকে করেছি, তাই বলে ওদের কোনো আয়োজনে আমি যাব না! কেউ যেন কাউরে সহ্য করে না। এখনো তাই।

প্রশ্ন :

সেটা কেমন?

এই যেমন কদিন আগে একজন সিনিয়র অভিনয়শিল্পী বললেন, পদত্যাগ করলাম। ঠিক আছে, পদত্যাগ করলেন। কিন্তু আবার পরের দিন সিদ্ধান্ত বদল করলেন কেন! কেমনে হবে! ওমর সানী, গত বছর ইলেকশনের সময় জায়েদ খানের গুষ্টি উদ্ধার করে দিল দুজন (মৌসুমী–ওমর সানি) মিলে। ঘটনা এমন দাঁড়ায়, আরেকটা সমিতিও করবে তারা। তো এবার, এমন আহামরি কি হইলো যে জায়েদ খানের নাম মুখে বলতে বলতে ফেনা তুলে ফেলল। ইজ্জত কার গেল? নিজেরাই যদি নিজেদের ইজ্জত খোয়াই, মানুষ কেন শিল্পীদের ইজ্জত করবে। মৌসুমীকে নিয়ে এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব লেখা হয়েছে, পুরো ক্যারিয়ারেও তাকে নিয়ে এসব হয়নি। আমার তো মনে হয়েছে, এদের ইজ্জত কামাইতেও টাইম লাগে না, শেষ করতেও লাগে না। আমরা তো এখনো ধইরা রাখছি। ধইরা রাখা অনেক কষ্ট। ধইরা রাখতে অনেক স্যাক্রিফাইজ করতে হয়। যা কিছু ইচ্ছা করলেই করা যায় না। আমাদের তো সমাজে চলতে হয়। এসব ঘটনায় অনেকে অনেক কিছু জিজ্ঞেস করে, কিন্তু উত্তর দিই না। শিল্পী সমিতির নোংরা কর্মকাণ্ডের পর অনেকের ফোন ধরাই বন্ধ করে দিছি। জানি যে এই লোকটা কী কারণে ফোন করেছে। কেন আমাকে এসব ফালতু ব্যাপারে জবাব দিতে যাব। এই হলো এদের অবস্থা। এদের স্ট্যান্ডার্ড এ রকম।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যালয়ের সামনে অরুণা বিশ্বাসের সেলফিতে রুবেল, সুব্রত ও বাপ্পারাজ

প্রশ্ন :

আপনার বক্তব্যে এটা পরিষ্কার, এফডিসি থেকে সমিতি বের করে দিলেই অস্থিরতা ঠান্ডা হয়ে যাবে।

একদমই তাই। তখন তো ভাড়া দিয়ে অফিস নিয়ে আজাইরা আলাপ করতে কেউ আসবে না। একটা কেপিআই ভুক্ত এলাকায় ভাড়া দিতে হয় না, সরকারি এই জায়গায় বিদ্যুৎ,গ্যাস সবই তো ফ্রিতে পাওয়া যায়। চারদিকে দেয়ালে ঘেরা নিরাপত্তাবলয়। সব মিলিয়ে নিরাপদ জায়গা। এত নিরাপদ জায়গা বিনা পয়সা পাওয়ায় এই ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে তারা। সমিতির প্রতি তাদের যদি এতই ভালোবাসা থাকে, এফডিসি থেকে বের হয়ে অন্য জায়গায় ভাড়া নিয়ে চালাক না। তখন দেখবেন, কতজন গিয়ে সমিতির অফিস করে। এফডিসিতে দেখি সবাই গিয়ে বসে থাকে। মনে হয়, সবাই অফিস করতে আসছে। সবাই দলবেঁধে বইসা থাকে। টাকাপয়সা খরচের বিষয় এলে কোথায় যাবে অফিস, কোথায় যাবে এসব সমিতি, নেতাগিরি করার কেউই থাকবে না। আরেকটা বিষয়, চলচ্চিত্রের কাজ ছাড়া এসব সমিতির অনুষ্ঠানে টেলিভিশন ও পত্রিকার কাভারেজ দেওয়া বন্ধ করে দেন। দেখবেন, এটাতেও কাজ হবে। শ্রদ্ধা নিবেদনের অনুষ্ঠানগুলোর দিকে দেইখেন, ক্যামেরা দেখলেই ফুল নিয়া ছোট–বড় সবাই দাপাদাপি করে। ক্যামেরা না থাকলে নিয়ম মেনে এমনি এমনি ফুল দেবে, এরপর চলে যাবে। ক্যামেরা থাকলে, ফুল দেওয়ার জন্য এ–ওরে ধাক্কা দেয়, ও আরেকজনরে ধাক্কা দেয়—এসবই তো চলছে। এসব অনুষ্ঠানে জাস্ট ক্যামেরা নিষিদ্ধ করে দেন, দেখবেন সত্যিকারের মানুষেরা থাকবে। কেউ কাউকে ধাক্কা দেবে না। এখন সবাই চায় ধাক্কা দিয়ে হলেও যেন ছবি কিংবা ভিডিওতে নিজের চেহারা দেখানো যায়। এটাই তো আমাদের অনেকের অভ্যাস হয়ে গেছে।