বরগুনায় লোকনাট্য সমারোহ উৎসব
গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে তারুণ্যের উৎসবের অংশ হিসেবে বরগুনায় লোকনাট্য সমারোহ উৎসব। তিন দিনব্যাপী এই উৎসব গত শুক্রবার শুরু হয়। প্রতিদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ১০ পর্যন্ত চলে রোববার পর্যন্ত।
বরগুনা টাউন হল প্রাঙ্গণে শিল্পকলা একাডেমির নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের আয়োজনে লোকনাট্য সমারোহে ছিল পালাগান ‘নবুয়াত-বেলায়েত’, পালাগান ‘কারবালার ইতিহাস’ ও কবিগান ‘ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক’, ‘গুরু-শিষ্য’ ও পালাগান ‘লাইলী-মজনুর প্রেমের গল্প’। প্রতিদিন এসব পরিবেশনা দেখতে ভিড় করছেন নানা বয়সী নারী-পুরুষ ও শিশুরা।
লোকনাট্য দেখতে এসে আবদুর সালাম বলেন, ‘গ্রামীণ ঐতিহ্য আমরা ভুলতে বসেছি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাংলাদেশের ঐতিহ্যকে ভুলে না যেতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আরেক দর্শক আতিক হাসান বলেন, লোকনাট্য উৎসবটি আমাদের সমাজ থেকে প্রায় হারিয়ে গেছে। তারুণ্যের উৎসবের মাধ্যমে লোকনাট্যসহ বিভিন্ন পরিবেশনায় আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। এর মাধ্যমে আমরা গ্রামবাংলার আবহমানকাল ধরে চলে আসা সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারব।’
খেলাঘর কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য চিত্তরঞ্জন শীল বললেন, একসময় বরগুনায় লোকসংস্কৃতির চর্চা ছিল, বর্তমান সরকার আবার এসব অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে এবং সাধারণ মানুষ এতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করছেন।
বরগুনা জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার তানজিলা আক্তার বলেন, ‘বাঙালির বিভিন্ন সংস্কৃতি অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছিল, তা ফিরিয়ে আনতেই বাংলাদেশ সরকার এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এরই অংশ হিসেবে বরগুনায় লোকনাট্য সমারোহ। এটি আমাদের লোকসংস্কৃতি ও আমাদের জাতিসত্তাকে বাঁচিয়ে রাখবে। গ্রামীণ পর্যায়ে প্রায় বিলীন হয়ে যাওয়া সংস্কৃতিগুলো মানুষের মধ্যে ফিরিয়ে আনতে এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’