অনিয়ম–দুর্নীতিতে এনটিসির শতকোটি টাকার লোকসান
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত সরকারি মালিকানাধীন চা কোম্পানি ন্যাশনাল টির লোকসান শতকোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। গত জুনে সমাপ্ত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কোম্পানিটির লোকসান বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১৯ কোটি টাকায়। তাতে ন্যাশনাল টি কোম্পানি বা এনটিসি শেয়ারপ্রতি লোকসান করেছে ১০৭ টাকা ৪৯ পয়সা। বিপুল লোকসানের কারণে গত অর্থবছরে কোম্পানিটি শেয়ারধারীদের কোনো লভ্যাংশ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় গত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ রোববার প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের এ তথ্য জানিয়েছে।
কোম্পানি সূত্রে জানা যায়, প্রথমবারের মতো সরকারি এই চা কোম্পানির লোকসান শতকোটি টাকা ছাড়াল। ২০২২ সাল থেকে এটির লোকসানের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। লোকসান বাড়তে থাকায় ২০২২ সালের পর থেকে কোম্পানিটি শেয়ারধারীদের কোনো লভ্যাংশও দিতে পারছে না। সর্বশেষ ২০২২ সালের জুনে সমাপ্ত আর্থিক বছরে কোম্পানিটি শেয়ারধারীদের সাড়ে ৭ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছিল। এরপর আর লভ্যাংশ দিতে না পারায় এটিকে দুর্বল মৌলভিত্তির কোম্পানি হিসেবে ‘জেড’ শ্রেণিভুক্ত করা হয়।
গত আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কোম্পানিটি ব্যাপক আর্থিক সংকটে পড়ে। এ কারণে চা-শ্রমিকদের বেতনও পরিশোধ করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। তাতে শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে ধর্মঘটে নামেন। এ অবস্থায় সরকারি হস্তক্ষেপে কৃষিব্যাংকের ঋণ আর্থিক সংকটের সাময়িক সুরাহা হয়।
কোম্পানি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একসময় লাভজনক কোম্পানি ছিল ন্যাশনাল টি। কিন্তু বিগত সরকারের আমলে নাফিজ সরাফতসহ সরকারি দলের সুবিধাভোগীরা কোম্পানিটির মালিকানায় যুক্ত হওয়ার পর থেকে ব্যাপক অনিয়ম শুরু হয় কোম্পানিতে। তাতে লাভজনক কোম্পানিটি ধীরে ধীরে লোকসানি কোম্পানিতে পরিণত হয়।
এদিকে বড় অঙ্কের লোকসানের খবরে রোববার ডিএসইতে এনটিসির শেয়ারের দাম সামান্য বেড়েছে। এদিন কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম ৭০ পয়সা বেড়ে দাঁড়ায় ১৯০ টাকায়। কোম্পানিটি ১৯৭৯ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ডিএসইর ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, এটির শেয়ারের প্রায় ৩৫ শতাংশ রয়েছে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হাতে। বাকি ৬৫ শতাংশ শেয়ার ব্যক্তিশ্রেণি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।