কমিশনের কার্যক্রম শুরুর পর আপনারা বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেছেন। কমিশনের প্রতিবেদনে কোন বিষয়গুলো প্রাধান্য পেতে পারে?
সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ: মাঠপর্যায়ে যত বেশি মতামত সংগ্রহ করা যায়, তার ওপর আমরা জোর দিয়েছি। প্রথমেই আমরা এমন শ্রমিকদের কথা শুনেছি, যাঁরা আইনের আওতায় নেই; যাঁদের কথা বলার জায়গা নেই। গৃহশ্রমিক ও মৎস্যজীবীদের কাছেও আমরা যাওয়ার চেষ্টা করেছি। দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করার পরও আমার অভিজ্ঞতা বা পর্যবেক্ষণ হচ্ছে—শ্রম খাতে বৈষম্য ও বঞ্চনা এত বেশি গভীর যে এই স্বল্প সময়ে সবটা তুলে আনা সম্ভব না। তবে যতটা সম্ভব আমরা তুলে আনার চেষ্টা করব।
আমাদের ধারণা ছিল না, বৈষম্য এতটা প্রকট। একটা উদাহরণ দিই, সবচেয়ে সংবেদনশীল জায়গা মাতৃত্বকালীন সুরক্ষা। বাংলাদেশে ৯০ শতাংশ নারী শ্রমিকের মধ্যে মাতৃত্বকালীন সুরক্ষা নেই। সরকারি ও ব্যক্তি খাতের প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ের স্থায়ী শ্রমিক ছাড়া কারও মাতৃত্বকালীন সবেতনে ছুটির ব্যবস্থা নেই। সচিবালয়ে একই মন্ত্রণালয়ে কাজ করে স্থায়ী কর্মচারী মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাস পেলেও, সেখানে আউটসোর্সিংয়ের কর্মচারীরা সেই সুবিধা পান না। আবার ব্যক্তি খাতের মাতৃত্বকালীন ছুটি চার মাস। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কোনো ব্যবস্থাই নেই।
আরেকটা বড় সংকট হচ্ছে শ্রমিকদের স্বীকৃতির অভাব। বাংলাদেশের ৯০ শতাংশ শ্রমিকের কোনো স্বীকৃতি নেই। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের দাবি হচ্ছে, তিনি যে শ্রম দিচ্ছেন, সেটির স্বীকৃতি চান। স্বীকৃতির অভাবে শ্রমিকদের মধ্যে একধরনের অনিশ্চয়তা কাজ করে। এখান থেকে বেরিয়ে আসা খুব জরুরি। অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে যারা শ্রম দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন, তাঁকে একটা পরিচয়ের মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। শ্রমিকদের তথ্যভান্ডার করা এবং পরিচয়পত্র দেওয়ার বিষয়ে জোরালোভাবে প্রস্তাব করবে শ্রম সংস্কার কমিশন।
সংস্কার কমিশন তাদের প্রতিবেদনে কী ধরনের সুপারিশ করতে পারে?
সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ: কমিশন কী কী সুপারিশ করবে সেটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে বেশ কিছু বিষয়ে আলাপ-আলোচনা হয়েছে। যেমন শ্রম আইনকে সর্বজনীন করতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক খাতের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে সব শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিতের জন্য আইনে একটি পূর্ণাঙ্গ অধ্যায় থাকতে হবে। একজন শ্রমিক যেখানেই কাজ করুক, তাঁর নিয়োগের ধরন যা-ই হোক না কেন, কয়েকটি বিষয়ে তাঁর গ্যারান্টি থাকতে হবে।
আমরা সংস্কার কমিশন থেকে একটি স্থায়ী শ্রম কমিশনের সুপারিশ করতে চাই। তার অধীন চারটি বিভাগ থাকবে—১. শ্রম অধিদপ্তর, ২. কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই), ৩. সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ এবং ৪. কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন অধিদপ্তর। এর মধ্যে শেষের দুইটি নতুন অধিদপ্তর হবে। এ ছাড়া প্রথম তিন অধিদপ্তরে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য সেল থাকবে। সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ দপ্তর সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে শ্রমিকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে। তার জন্য শ্রমিকদের একটি তথ্যভান্ডার করবে দপ্তরটি। অন্যদিকে অভিযোগ নিষ্পত্তি কেন্দ্রে সব ধরনের শ্রমিক অভিযোগ জানাতে পারবেন।
শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রধান হবেন একজন কমিশনার। গ্রহণযোগ্য ও দক্ষ ব্যক্তিকে এই পদে নিয়োগ দেবে সরকার। এই কমিশনের জবাবদিহির জন্য ত্রিপক্ষীয় একটি কমিটি থাকবে। আমরা যত কথাই বলি না কেন, শ্রমিক অধিকার বাস্তবায়নে কারখানা থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত একটি শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এমন একটি কাঠামো তৈরি করতে হবে, যেখানে আলোচনার পরিবেশ থাকবে।
শ্রমিক অধিকারের দর-কষাকষিতে মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা সব সময়ই নিজেদের স্বার্থকে বড় করে দেখেন। কমিশনেও মালিকপক্ষের বেশ কয়েকজন প্রতিনিধি রয়েছেন। দেশের সামগ্রিক শ্রম পরিবেশের উন্নতিতে শ্রম সংস্কার কমিশন যেসব সুপারিশের পরিকল্পনা সেখানে মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা কতটা সহযোগিতা করছেন?
সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ: সংস্কার কমিশনে এখন পর্যন্ত আমরা মুক্তভাবেই এগোচ্ছি। তার পেছনে অনেকগুলো কারণ আছে। কমিশনের মালিকপক্ষের যাঁরা আছেন, তাঁরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অনেক ফোরামের সঙ্গে যুক্ত। তাঁরা সমস্যাগুলোর গভীরতা বোঝেন। সংকীর্ণতা নিয়ে যে এগোনো যাবে না সে বিষয়ে তাঁরা পরিষ্কার। আরেকটা বড় কারণ হচ্ছে, আমরা কিছু বিষয় সম্পৃক্ত করতে চাই। শ্রম অধিকার, শিল্পবিরোধ নিষ্পত্তি শিল্পোৎপাদন ভূমিকা রাখবে—যা সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবে। এই কাঠামোটা আমরা সবাইকে নিয়ে আগেই করে ফেলেছি। যেহেতু ৮৫ শতাংশ অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিকদের ওপর আমরা জোর দিচ্ছি, ফলে মালিকদের স্বার্থে খুব একটা লাগছে না। তাঁরা একমত, এই শ্রমিকদের বাদ দিয়ে সুস্থ সমাজ তৈরি করা সম্ভব নয়।
শ্রমিকনেতারা প্রায়ই অভিযোগ করেন, ট্রেড ইউনিয়ন গঠনে বিভিন্নভাবে বাধা দেয় মালিকপক্ষ। ট্রেড ইউনিয়নকে সুশৃঙ্খল করতে কোনো সুপারিশ কি করবে সংস্কার কমিশন?
সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ: দায়িত্বশীল ট্রেড ইউনিয়ন কীভাবে নিশ্চিত করা যায় তা নিয়ে কমিশনে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে। ট্রেড ইউনিয়নের মাধ্যমে সত্যিকারে শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা যায়। এ ক্ষেত্রে আমরা চিন্তা করছি, ট্রেড ইউনিয়নের চর্চার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। চর্চা না করলে কোনো দিনই দায়িত্বশীলতা বাড়বে না। এখন যেহেতু বিচ্ছিন্ন গ্রুপ ট্রেড ইউনিয়ন করছে, তাই সদস্যদের কাছে তার খুব বেশি দায়বদ্ধতা নেই। দায়িত্বশীল ট্রেড ইউনিয়নের চর্চার পরিবেশ নিশ্চিত করাটা দ্বিপক্ষীয় বিষয়। শুধু ট্রেড ইউনিয়ন নেতারা চাইলে এটি করতে পারবে না, যদি না মালিকেরা সুযোগ দেন। এ ছাড়া ট্রেড ইউনিয়নের নিয়মিত নির্বাচন ও নিরীক্ষা প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে জবাবদিহি নিশ্চিত হবে। মূলত আমাদের জাতীয় পর্যায়ে জবাবহীনতার সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, ফলে সাংগঠনিক পর্যায়েও সেটি আছে।
ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন নিয়ে শ্রম অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। সেখানে জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়ে কী ভাবছে সংস্কার কমিশন?
সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ: স্থায়ী শ্রম কমিশন গঠনের অন্যতম বড় উদ্দেশ্য হচ্ছে শ্রম অধিদপ্তরের জবাবদিহি। তারা কি আইন মেনে চলছে নাকি রাজনৈতিক টেলিফোনে—সেটি নিশ্চিত করবে কমিশন। শ্রম অধিদপ্তরের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কমিশনে একটি ত্রিপক্ষীয় কমিটি থাকবে। সেই কমিটিকে ছয় মাস পরপর প্রতিবেদন দেবে অধিদপ্তর। ঠিক তেমনি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহির বিষয়ও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। কোনো একটি খাতের মালিকদের সংগঠন যদি পকেট ইউনিয়ন করতে চায়, তাহলে সুস্থ ট্রেড ইউনিয়নের ধারা আসবে না। ফলে সেখানে দায়িত্বশীল চর্চা নিশ্চিত করতে হবে।
দুই দশকে মালিকপক্ষ নিজেদের চাহিদা অনুযায়ী শ্রম আইন সংশোধন করে নিয়েছেন। ফলে শ্রম অধিকার নিশ্চিতে আইনের যৌক্তিক সংশোধনে কমিশনের চিন্তাভাবনা কী?
সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ: আমরা শ্রম আইন সংস্কার কমিটির সঙ্গে বসেছি। সেই কমিটিতে কমিশনের কয়েকজন সদস্যও আছেন। তাঁদের আমরা বার্তা দিয়েছি, এখন যেসব সংশোধন হচ্ছে, সেটা সরকারের রূপকল্পের অংশ। সরকার সেটি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থাকে (আইএলও) জমা দেবে। আমরা কমিশন থেকে বলেছি, আমরা শ্রম আইনকে সর্বজনীন করতে চাই। সে জন্য শ্রম আইন সংশোধন কমিটি যেন সচল থাকে। যাতে সংস্কার কমিশন প্রতিবেদন অনুযায়ী আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন দ্রুত করা যায়।
সংস্কার কমিশন কি নতুন শ্রম আইনের প্রস্তাব দেবে?
সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ: আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে, শ্রম আইনকে সর্বজনীন করা। দুই দশক আগের এই শ্রম আইনে অনেক বিষয়ই নেই। সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে আইনে একটি শব্দও নেই। ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণেও কোনো মানদণ্ড নেই। এভাবে চলতে পারে না। ফলে একটা ঝাঁকুনি দিতে হবে। আমরা চিন্তাভাবনা করছি, বর্তমান শ্রম আইনকে কতটা সংশোধন করা সম্ভব। খুব বেশি সম্ভব না হলে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের জন্য আরেকটি শ্রম আইনের প্রস্তাব দিতে পারি। সেটি এখনো চূড়ান্ত নয়। তবে বর্তমান আইন সংশোধন করার চেষ্টা বেশি থাকবে।
আপনি বললেন, সরকারিভাবে শ্রমিকদের তথ্যভান্ডার করার সুপারিশ করবে কমিশন। সেটি আবার শ্রমিকদের শোষণ করার হাতিয়ার হবে না তো?
সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ: আমরা জাতীয় তথ্যভান্ডার করার সুপারিশ করব। সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ দপ্তরের অধীন কাজটি হবে। এখানে মালিকপক্ষের প্রবেশাধিকার থাকবে না। তবে একটি ত্রিপক্ষীয় কমিটি থাকবে। বর্তমানে শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন থেকে সহায়তা পেতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়। তবে জাতীয় তথ্যভান্ডারে শ্রমিকেরা যুক্ত হলে এবং একটা পরিচয়পত্র থাকলে কাজটি সহজে হবে। প্রথমে হয়তো খুব বিস্তৃত আকারে সেটি হবে না।
শ্রমিকদের জন্য আর কী সুপারিশ করতে চায় কমিশন?
সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ: সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অংশ প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিকদের জন্য পেনশন স্কিম। এখানে সবাইকে নিয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ করবে সরকার। কারখানার ব্যাংকঋণের সঙ্গে এটিকে বাধ্যতামূলক করা যায়। অন্তত সরকারের প্রণোদনা যারা পাবে, তারা যেন এটি করে। তা ছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের জন্য বাধ্যতামূলকভাবে ভবিষ্য তহবিলের সুপারিশ করতে চাই। শ্রমিক চাকরি বদল করলে সেটিও স্থানান্তর হবে। এ ছাড়া শ্রমিক কল্যাণ তহবিল সর্বজনীন করার বিষয়েও আমরা সুপারিশ করতে পারি।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শ্রমিকেরা বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনে নামছেন। সেই আন্দোলনের একটি বড় অংশই হচ্ছে বকেয়া বেতন-ভাতার দাবি। এই পরিস্থিতির উন্নতির উপায় কী?
সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ: বেক্সিমকোর ঘটনার পর প্রমাণিত হয়েছে—করপোরেট নয়, ব্যক্তিসংস্কৃতিতে গড়ে উঠেছে আমাদের শিল্প। ফলে এখানে আপৎকালীন জাতীয় তহবিল থাকতেই হবে। এতে গ্র্যাচুইটিসহ তিন মাসের বেতন থাকবে। সরকার চাইলে সেই তহবিল থেকে শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ করবে। এ ছাড়া কারখানা পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা পাকাপোক্ত করতে হবে। বলপ্রয়োগও বন্ধ করতে হবে। তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিতে দিনের পর দিন রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করলেও প্রশাসন কোনো বল প্রয়োগ করেনি। অথচ শ্রমিকেরা নিজের পাওনা টাকা আদায়ের কথা বললেও কেউ শুনছে না। যখনই তাঁরা রাস্তা অবরোধ করছেন, তখনই তাঁদের লাঠিপেটা করা হচ্ছে। মামলা দেওয়া হচ্ছে। এতে তাঁদের আরও উত্তেজিত করা হচ্ছে। অতএব বলপ্রয়োগের সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে।
কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় নিহতের ক্ষতিপূরণ দুই লাখ টাকা নিয়ে সংস্কার কমিশনের মত কী?
সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ: কমিশনের প্রতিবেদনে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণের দুটি বিষয় থাকবে। একটি ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বাড়ানো। যদি মালিকের অবহেলার কারণে দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে একধরনের ক্ষতিপূরণ। আর পুরোপুরি দুর্ঘটনা হলে সরকার অন্য তহবিল থেকেও ক্ষতিপূরণ দিতে পারে। আরেকটা বিকল্প হবে—আইএলওর কনভেনশন অনুযায়ী শ্রমিকের আজীবন ক্ষতিপূরণ। বাংলাদেশে কোনটি কার্যকর হবে, সেটি আলোচনার দাবি রাখে। তবে ক্ষতিপূরণ দুই লাখ টাকা হবে, সেটি মেনে সংস্কার কমিশন এগোবে না।
সংস্কার কমিশন কবে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেবে?
সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ: চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই আমরা চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেব।
সুপারিশ বাস্তবায়নে কমিশন কী ধরনের ব্যবস্থার প্রস্তাব দেবে?
সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ: সংস্কার কমিশন থেকে আমরা স্বল্প সময়ে বাস্তবায়নের জন্য কিছু পরামর্শ দেব। যেমন সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের অংশগ্রহণ। কিছু না হলে এত কষ্ট করলাম কেন। আর কিছু সংস্কার আগামী রাজনৈতিক সরকারের জন্য রেখে যাব। জাতীয় পর্যায়ে বোঝাপড়ার জন্য কিছু বিষয় থাকবে। কবে ও কীভাবে সম্ভব ও কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে সেটি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে আলোচনার সূত্রপাত হওয়া দরকার।
প্রথম আলো: আপনাকে ধন্যবাদ।
সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ: আপনাকেও ধন্যবাদ।