বেনারসি শাড়ি কিনতে বেনারসিপল্লিতে
‘এখানে রং-বেরঙের এত শাড়ি! শাড়ি দেখেই চোখ জুড়িয়ে যায়। শাড়ির এমন সম্ভার ঢাকার আর কোথাও নেই। এত শাড়ির মধ্যে অনায়াসেই একটি পছন্দ হয়ে যায়। তাই দেশীয় ঐতিহ্যে পরিপূর্ণ ঝলমলে শাড়ি কিনতে আমরা মিরপুরের বেনারসিপল্লিতেই আসি।’মিরপুরের বেনারসিপল্লিতে এক দোকানে শাড়ি দেখার ফাঁকে কথাগুলো বললেন একটি বেসরকারি হাসপাতালের চিকিত্সক মাহমুদা বেগম। সঙ্গে ছিলেন তাঁর মেয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী লামিয়া মাসুদ। ঈদ উপলক্ষে তাঁরা পছন্দের শাড়ি কিনতে এসেছেন ধানমন্ডি থেকে।মাহমুদা বেগম ও লামিয়ার মতো গত সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আরও অনেকে শাড়ি কেনার জন্য বেনারসিপল্লিতে ভিড় করেন। এখানে শাড়ির দোকান আছে ৭২টি। ক্রেতারা শাড়ি দেখতে এক দোকান থেকে আরেক দোকানে যাচ্ছেন, শাড়ি দেখছেন। দোকানের কর্মচারীরা ক্রেতাদের দেখার সুবিধার্থে শাড়ি মেলে ধরছেন, দেখাচ্ছেন নতুন আসা শাড়িও। পছন্দ হলে ও দামে বনলে ক্রেতারা শাড়ি কিনছেন। এমন দৃশ্যই গতকাল দেখা গেল এখানকার দোকানগুলোয়।বেনারসিপল্লির দোকানমালিক ও কর্মচারীরা জানান, বাহারি সব বেনারসি শাড়িতে এখন দেশীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে যোগ হয়েছে আধুনিক কারুকাজ। বেনারসিপল্লির অর্ধশতাধিক কারখানায় তৈরি হয় এসব শাড়ি। এসব কারখানায় কর্মরত আছেন প্রায় সাত হাজার তাঁতি ও কারিগর। তাঁরা তৈরি করেন প্রায় ৫০ রকমের বেনারসি শাড়ি। এক হাজার টাকা থেকে শুরু করে ২৫ হাজার টাকা, এমনকি এর চেয়ে বেশি দামের শাড়িও আছে এ পল্লির দোকানগুলোতে।কারিগরেরা জানান, এখানকার শাড়ির সুনাম রয়েছে দেশজুড়ে। এখানকার তৈরি শাড়ি বিদেশেও যায়। ভারতের বেনারস থেকে আসা কারিগরেরা এ শাড়ি তৈরি করেছেন বলে এর নাম হয়েছে বেনারসি।দোকান মালিক সমিতির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, বেনারসি শাড়ির মধ্যে কাতান বেনারসি, তশর, জুট কাতান, জরি নেট, কলকা কাতান, অপেরা কাতান, মসলিন জামদানি ও জর্জেট বেনারসির কদর বেশি।পছন্দের শীর্ষে মসলিন জামদানি: বেনারসিপল্লির তাঁতি ও কারিগরেরা জানান, ক্রেতাদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে আছে মসলিন কাপড়ের ওপর জরির কাজ করা মসলিন জামদানি। তাঁরা বলেন, কোরা সিল্কের ওপর জরির কাজ—এ রকম একটি শাড়ি তৈরি করতে তিনজন কারিগরের সাত থেকে ১০ দিন লাগে। এখানকার দোকানে এই শাড়ির খুচরা মূল্য সাড়ে সাত হাজার টাকা।দামে বেশি হলেও অপেরা কাতানও ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে। দাম ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। কারিগরেরা জানান, এই শাড়িতে প্রকৃত সিল্কের সঙ্গে একেবারে নিখুঁত জরির কারুকাজ করা হয়েছে। রোদ ও বৈদ্যুতিক বাতির আলো পড়লে এতে লাল, নীলসহ নানা রং ফুটে ওঠে।জুট বেনারসিও ক্রেতাদের পছন্দ। এর জমিনজুড়ে সোনালি আঁশের আভা ফুটে ওঠে বলে এর নাম জুট বেনারসি। রং ও কাজের রকম ভেদে এ শাড়ির দাম পাঁচ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। এ ছাড়া এবার খাড্ডি কাতান নামের নতুন একটি বেনারসি শাড়ি এখানকার দোকানগুলোয় পাওয়া যাচ্ছে। বেনারসি কুঠির মালিক আবুল কালাম আজাদ ও দিয়া শাড়ির মালিক মোহাম্মদ কাশেম বলেন, এই শাড়ির দাম ১০ হাজার টাকা থেকে শুরু এবং সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।শাড়ি কিনতে আসা প্রকৌশলী আবদুল হাই বলেন, এখান থেকে শাড়ি কিনলে বাসার সবাই খুশি হয়। এই একই শাড়ি রাজধানীর বড় বড় বিপণিবিতানে এখানকার চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হয়। এ কারণেও ক্রেতারা এখানে আসেন।