
শ্রবণ ও বাক্প্রতিবন্ধী ৪১ শিশুকে কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট বরাদ্দ দিয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষ। ঈদের ছুটির পর অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে এসব শিশুর কানে শ্রবণসহায়ক অত্যাধুনিক এই যন্ত্র বসানো হবে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বলেছেন, এসব শিশু অন্য শিশুদের মতো স্বাভাবিকভাবে কানে শুনতে ও কথা বলতে পারবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিলন হলে উপাচার্য কামরুল হাসান খানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এসব শিশুর বাবা ও মায়েদের হাতে এই বরাদ্দপত্র তুলে দেন। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এই প্রতিটি যন্ত্রের দাম ১০ লাখ টাকার বেশি। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক সহায়তায় দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারের শিশুদের এ যন্ত্র দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বলা হয়, এটা শিশুদের ঈদের উপহার।
কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট একটি ইলেকট্রিক ডিভাইস, যা মারাত্মক বা সম্পূর্ণ শ্রবণপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে শব্দ শুনতে সহায়তা করে। এটা বায়োনিক কান নামেও পরিচিত। এটি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অন্তঃকর্ণের কক্লিয়াতে স্থাপন করা হয়। এর দুটি অংশ। বাইরের অংশে মাইক্রোফোন, স্পিস প্রসেসর ও ট্রান্সমিটার কয়েল থাকে। ভেতরের অংশে রিসিভার স্টিমুলেটর ও ইলেকট্রেড থাকে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ডেভেলপমেন্ট অব কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট কর্মসূচির পরিচালক অধ্যাপক আবুল হাসনাত জোয়ারদার বলেন, অনেকে দেশের বাইরে গিয়ে এই যন্ত্র বসিয়েছেন, খরচ পড়ে ৫০ লাখ টাকার মতো। ২০১০ সাল থেকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক সহায়তায় এই কর্মসূচি চলছে বিএসএমএমইউতে। এ পর্যন্ত ১১০ জনের কানে এই যন্ত্র বসানো হয়েছে। এদের মধ্যে ২০ জন যন্ত্রের খরচ নিজেই দিয়েছে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বিনা মূল্যে কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট বিষয়ে প্রথমে সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়। এবার ১০৭টি আবেদন পড়ে। স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে ৬২টি আবেদনপত্র বাছাই করা হয়। এর মধ্য থেকে পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ৪১ জনকে চূড়ান্তভাবে বাছাই করা হয়। বিএসএমএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল হাসান খান বলেন, অসহায় ও নিম্ন আয়ের মানুষকে এই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। আলোচনায় আরও অংশ নেন সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক এ এস এম জাকারিয়া, অনুষ্ঠানের সভাপতি অধ্যাপক মো. আলী আসগর মোড়ল।