নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে প্রথমবারের মতো শতকণ্ঠে পয়লা বৈশাখ উদ্যাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার নানা আয়োজনে বরণ করে নেওয়া হবে বাংলা নববর্ষ। আর পরদিন শনিবার জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায় বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা ও বৈশাখী মেলার উদ্বোধন করবেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র এরিক অ্যাডামস। এসব আয়োজনে বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে খ্যাতিমান শিল্পীরা যোগ দেবেন।
শতকণ্ঠে বর্ষবরণ আয়োজনে পঞ্চম মহড়ায় এ ঘোষণা দেয় আয়োজক সংগঠন এনআরবি ওয়ার্ল্ডওয়াইড। গতকাল রোববার জ্যাকসন হাইটস এলাকায় ‘নেপালি বান্চাঘর’ রেস্তোরাঁয় শতকণ্ঠে বর্ষবরণের আয়োজনে থাকা দেড় শতাধিক সংস্কৃতিজনের সামনে এ ঘোষণা দেন সংগঠনের সভাপতি বিশ্বজিৎ সাহা।
বিশ্বজিৎ সাহা জানান, বাংলাদেশ থেকে খ্যাতিমান নৃত্যশিল্পী লায়লা হাসান, রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, পশ্চিমবঙ্গ থেকে কমলিনী মুখোপাধ্যায় ও নন্দনা দেব সেন বর্ষবরণের আয়োজনে যোগ দেবেন। বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে দেড় শতাধিক সংস্কৃতিজন যে ১২টি গানের মহড়া করছেন, তার মাধ্যমে পয়লা বৈশাখের ভোরের সূর্যোদয়ের সঙ্গে নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়া হবে। ভোর থেকে সকাল আটটা পর্যন্ত চলবে এই উৎসব।
রমনার বটমূলের আদলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান হবে শনিবার জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায়। সেদিন মঙ্গল শোভাযাত্রা উদ্বোধন করবেন নিউইয়র্ক সিটি মেয়র এরিক এডামস উপস্থিত থাকবেন। আবহমান বাঙালি সংস্কৃতির পরিবেশনা চলবে সকাল ৭টা থেকে একটানা রাত ১০টা পর্যন্ত।
ঘোষণা অনুষ্ঠানে সাংবাদিক ও কবি দর্পণ কবীর বলেন, বাংলা নববর্ষ উদ্যাপন বাঙালি সংস্কৃতির উৎসব। নতুন প্রজন্মকে ঐতিহ্যবাহী বাঙালি সংস্কৃতি সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য সবারই এই বর্ষবরণের উৎসবে অংশ নেওয়া উচিত।
গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক সৈয়দ জাকির আহমেদ বলেন, বাংলা বর্ষবরণ ঘিরে বহু বাধাবিপত্তি আগেও ছিল, এখনো আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে! সেসব উপেক্ষা করে যারা বাঙালি সংস্কৃতিকে হৃদয় ধারণ করেন, তাঁরাই এই আয়োজনে অংশগ্রহণ করবেন।