নেত্রকোনায় গণসংবর্ধনায় বাবর বললেন, দেশে এখনো ষড়যন্ত্র চলছে

নেত্রকোনায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপিনেতা লুৎফুজ্জামান বাবরকে গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। রোববার বিকেলে শহরের মোক্তারপাড়া মাঠে জেলা বিএনপি এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়ছবি: প্রথম আলো

নেত্রকোনায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরকে গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। আজ রোববার বিকেলে শহরের মোক্তারপাড়া মাঠে জেলা বিএনপি এই সংবর্ধনার আয়োজন করে। এতে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে। সংবর্ধনায় বাবর বলেন, দেশে এখনো ষড়যন্ত্র চলছে। দেশবাসী যেন ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা না দেন।

আরও পড়ুন

সংবর্ধনা নিয়ে প্রায় সাত মিনিট বক্তব্য দেন লুৎফুজ্জামান বাবর। তিনি বলেন, ‘আমি কোনো অন্যায় করিনি। কিন্তু একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে কারাগারে রাখা হয়েছিল। আল্লাহপাক আপনাদের দোয়া কবুল করে আমাকে মুক্তি দিয়েছেন। দেশের জনগণের স্বার্থ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে আমি কোনো কাজ করিনি। জনগণের স্বার্থ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমি জীবন দিতে প্রস্তুত।’

সত্যের জয় হয়েছে দাবি করে বাবর বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আমার নেতা তারেক রহমান ও নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি মিথ্যা সাক্ষী দিতে চাপ দিয়েছিল। কিন্তু আমি এসব পরোয়া করিনি। শুধু আল্লাহকে ডেকেছি। সত্যের জয় হয়েছে।’

দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বাবর বলেন, ‘দেশে এখনো ষড়যন্ত্র চলছে। এই ষড়যন্ত্রের ফাঁদে দলীয় নেতা-কর্মী, ভাই-বোনদের বলছি, আপনারা কোনো ফাঁদে পা দেবেন না। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন দিতে আমি বর্তমান সরকারকে অনুরোধ জানাচ্ছি। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত সরকার যাতে আসতে পারে, সে জন্য সুষ্ঠু নির্বাচনের বিকল্প নেই। গণতন্ত্র রক্ষার জন্য আপনারা প্রস্তুত থাকুন। তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা নতুন দেশ গড়ে তুলব। নির্বাচনে যদি আমরা জয়ী হই, আমার নিজ জেলা নেত্রকোনায় বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়া হবে।’

গণসংবর্ধনায় বক্তব্য দিচ্ছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপিনেতা লুৎফুজ্জামান বাবর। রোববার বিকেলে নেত্রকোনা শহরের মোক্তারপাড়া মাঠে
ছবি: প্রথম আলো

লুৎফুজ্জামান বাবর নেত্রকোনা-৪ (মদন-মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুরী) আসন থেকে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। ২০০৭ সালে গ্রেপ্তারের পর কয়েকটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হন। এর মধ্যে দুটি মামলায় মৃত্যুদণ্ড ও একটিতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ছিল। তবে সাম্প্রতিক রায়ের ফলে ধাপে ধাপে তিনি মুক্তি পান এবং সবশেষ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায়ও খালাস পান। দীর্ঘ ১৭ বছর পর তিনি নিজ জেলায় গেলেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও বিএনপির দলীয় নেতা-কর্মীরা জানান, লুৎফুজ্জামান বাবর গত ১৬ জানুয়ারি দুপুরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই নেত্রকোনায় আনন্দের জোয়ার বয়ে যায়। বাবরকে সংবর্ধনা দিতে মুখিয়ে ছিলেন জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীরা। আজ এই প্রতীক্ষার অবসান হলো তাঁদের।

সকাল থেকে বাবরকে বরণ করতে তাঁর নির্বাচনী এলাকা ছাড়া জেলার প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায় থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতা-কর্মীরা মোক্তারপাড়া মাঠে মিলিত হন। হাজার হাজার জনতায় বিশাল মাঠটি কানায় কানায় ভরে গিয়ে রাস্তায় দাঁড়ান লোকজন। মোহনগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সেলিম কার্নায়েন বলেন, ‘বাবর ভাই ফিরছেন এটা আমাদের পরম পাওয়া। তিনি আমাদের হাওরাঞ্চলের প্রাণ। তাঁকে ফিরে পেয়ে মানুষের চোখে আনন্দ, হৃদয়ে উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে।’

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আনোয়ারুল হক। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন জেলা কমিটির সদস্যসচিব ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম হিলালী। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য আরিফা জেসমিন, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ উদ্দিন খান, জেলা কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মাহফুজুল হক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের তালুকদার, যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম মনিরুজ্জামান, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম বজলুল কাদের সুজা প্রমুখ।

আনোয়ারুল হক বলেন, ‘লুৎফুজ্জামান বাবর যখন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ছিলেন, তখন জেলার অসংখ্য মানুষকে যোগ্যতা অনুসারে চাকরি দিয়েছেন। কে কোন দল করত বা কে কার গ্রুপ করত, তা তিনি কখনো আমলে নেননি। তাই সবাই তাঁকে পছন্দ করেন। অপ্রতিদ্বন্দ্বী ও বহুদর্শী মানবিক এই নেতাকে দেখতে হাজার হাজার মানুষ এখানে এসেছেন। তিনি মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন। আমরা তাঁকে গণসংবর্ধনা দিয়ে ধন্য হয়েছি।