কালিয়াকৈর পৌরসভায় দরপত্র নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের মারধরে আহত চার

গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভার টেন্ডার নিয়ে দুই পক্ষের হাতাহাতি ও মারধোর। সোমবার দুপুরে
ছবি: প্রথম আলো

গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভার আওতাধীন কয়েকটি হাটবাজারের দরপত্র (টেন্ডার) নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের নেতা–কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। আজ সোমবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সম্প্রতি কালিয়াকৈর পৌরসভার হাটবাজারগুলোর দরপত্র আহ্বান করে পৌর কর্তৃপক্ষ। ওই সময় পৌর এলাকার কয়েকটি হাটের দরপত্র চূড়ান্ত করা গেলেও কয়েকটি হাটের দর আগের চেয়ে কম আসায় পৌর কর্তৃপক্ষ সেগুলোর আবার টেন্ডার আহ্বান করে। আজ সকালে বাজারগুলোর জন্য দরপত্র জমা দিতে পৌরসভার কার্যালয়ে রাখা বক্সে অনেকেই দরপত্র ফেলেন।

ওই সময় কালিয়াকৈর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামীম আল–মামুনের নেতৃত্বে বিএনপির কিছু নেতা–কর্মী দরপত্র ফেলতে যান। একই সময়ে কালিয়াকৈর পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহাদাৎ হোসেনও সেখানে ছিলেন। শামীম আল–মামুন ও তাঁর লোকজন শাহাদাৎ হোসেনের ওপর চড়াও হন। তখন তিনি (শাহাদাৎ হোসেন) দরপত্র ফেলার জন্য আসেননি বলে বারবার জানালেও কথা না শোনে তাঁকে মারধর করেন প্রতিপক্ষের লোকজন। এ সময় শাহাদাৎকে রক্ষা করতে লোকজন এগিয়ে এলে তাঁদেরকেও মারধর করা হয়।

খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানা–পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত চারজন আহত হন। আহত ব্যক্তিরা স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রিয়াদ মাহমুদ বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। তবে ওই ঘটনায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মারধরের শিকার কালিয়াকৈর পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘শামীম আল–মামুন তার লোকজন নিয়ে আমাদের টেন্ডার দিতে বাধাগ্রস্ত করে। দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিএনপির নাম করে কেউ টেন্ডারবাজি করতে পারবে না। কিন্তু সে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে কাজ করেছে। তার বিরুদ্ধে দলীয় শাস্তি দাবি করছি।’

অভিযোগের বিষয়ে কালিয়াকৈর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামীম আল–মামুন বলেন, ‘আমি টেন্ডার কিনিওনি, টেন্ডার ব্যবসাও করিনি। সে (শাহাদাৎ হোসেন) আমার নেতাকে (বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হুমায়ূন কবীর খান) নিয়ে বাজে কথা বলেছে। সে জন্য তাকে ধরে আমার নেতার কাছে নিয়ে যাচ্ছিলাম। কাউকে মারধর করা হয়নি।’

কালিয়াকৈর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার আহমেদ বলেন, ‘শুনেছি, পৌর কার্যালয়ের নিচে হাতাহতি ও ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। এটা টেন্ডার নিয়ে নাকি ব্যক্তিগত রেষারেষি, সেটা আমার জানা নেই। তবে সুষ্ঠুভাবে টেন্ডারের ড্রপিং ও ওপেনিং কার্যক্রম শেষ হয়েছে।’