সিলেটে রেস্তোরাঁয় পাখির মাংস বিক্রি, জরিমানা

সিলেটের জৈন্তাপুরের হরিপুরে বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় রোববার রাতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় পাখির মাংস বিক্রি করায় কয়েকটি রেস্তোরাঁকে জরিমানা করা হয়
ছবি: প্রথম আলো

পাখির মাংস বিক্রি করার দায়ে সিলেটের জৈন্তাপুরের হরিপুরে দুটি রেস্তোরাঁকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। পাশাপাশি আরও কয়েকটি রেস্তোরাঁয় রেফ্রিজারেটরে সংরক্ষণ করা অবস্থায় ১৫০টি বিভিন্ন প্রজাতির পাখির মাংস জব্দ করা হয়েছে। গতকাল রোববার রাতে সিলেটের জৈন্তাপুরের হরিপুর বাজার–সংলগ্ন তারুহাঁটি এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন জৈন্তাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফারজানা আক্তার (লাবনী)। অভিযানে মেজর তাহমিদুল ইমামের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর একটি দল, বন বিভাগের সিলেট রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ ও জৈন্তাপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক লুৎফর রহমানসহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে ওই বাজারে অভিযান চালানো হয়। তখন দুটি রেস্তোরাঁয় রান্না করা পাখির মাংস এবং আরও কয়েকটি রেস্তোরাঁর রেফ্রিজারেটরে পাখির মাংস জব্দ করা হয়েছিল।

অভিযান সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাতে হরিপুরের তারুহাঁটি এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় বাজারের আনন্দ রেস্টুরেন্ট, শাহপরান রেস্টুরেন্ট, শাহজালাল রেস্টুরেন্ট, নিউ গ্রামবাংলা রেস্টুরেন্ট ও সোনার বাংলা রেস্টুরেন্টকে ৯ হাজার ৫০০ টাকা করে মোট ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানে আরও কয়েকটি রেস্টুরেন্ট থেকে ১৫০টি বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখি জব্দ করা হয়। পরে জব্দকৃত পাখিগুলো পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

অভিযানসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরেই হরিপুর এলাকায় বেশ কয়েকটি রেস্তোরাঁয় দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির পাখির মাংস বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে। ১০ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বয়ে বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০১২ অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এর পাঁচ দিন পর আবার অভিযানে পাঁচটি রেস্তোরাঁয় জরিমানা করা হয়েছে।

আজ সোমবার দুপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফারজানা আক্তার (লাবনী) প্রথম আলোকে বলেন, অভিযানে কয়েকটি রেস্তোরাঁয় হাঁসের মাংস বিক্রির কথা জানিয়েছিল। কিন্তু মাংসগুলো দেখে হাঁসের মাংস মনে হয়নি। সেগুলো পাখির মাংস মনে হওয়ায় কয়েকটি নমুনা সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া কয়েকটি রেস্তোরাঁর রান্নাঘরের পরিবেশ স্বাস্থ্যসম্মত মনে হয়নি। এ জন্য ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনেও জরিমানার আওতায় আনা হয়েছে। দুই দফা অভিযানে রেস্তোরাঁমালিকদের সচেতন করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে তাঁরা পাখির মাংস বিক্রি না করেন। একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটলে অধিক জরিমানা করা হবে।