গোপালগঞ্জে বেনজীরের রিসোর্টে এনবিআরের অভিযান, কর ফাঁকির প্রমাণ পাওয়ার দাবি

গোপালগঞ্জে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের মালিকানাধীন সাভানা ইকো রিসোর্টে এনবিআরের অভিযান। মঙ্গলবার দুপুরে সদর উপজেলার বৈরাগীটোল গ্রামেছবি: প্রথম আলো

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বৈরাগীটোল গ্রামে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের মালিকানাধীন সাভানা ইকো রিসোর্টে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) গোয়েন্দা ইউনিট। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে এনবিআরের গোয়েন্দা ইউনিটের পরিচালক মো. তারিক ইকবাল ও ওয়াকিল আহমদের নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের দল এ অভিযান শুরু করে।

এনবিআরে জমা দেওয়া সম্পদের হিসাব বিবরণীর সঙ্গে মাঠের বাস্তবতা মিলিয়ে দেখতে এ অভিযান চালানো হয়। কর্মকর্তারা রিসোর্টে থাকা কম্পিউটারের হার্ডডিস্কের তথ্য এবং বিপুল পরিমাণ নথিপত্র যাচাই-বাছাই করেন। অভিযানে বিপুল পরিমাণ অর্থের কর ফাঁকির প্রমাণ পাওয়ার দাবি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

বেনজীর আহমেদ ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত র‍্যাবের মহাপরিচালক এবং ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পুলিশের আইজিপি থাকাকালে গোপালগঞ্জ সদরের বৈরাগীটোল গ্রামে ৬২১ বিঘা জমির ওপর সাভানা ইকো রিসোর্ট ও ন্যাচারাল পার্ক গড়ে তোলেন। রিসোর্টের সব জমি হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের। তাঁদের ভাষ্য, ভয় দেখিয়ে, জোর করে এবং নানা কৌশলে জমি কেনা হলেও অনেক জমি দখল করা হয়েছে। এসব অভিযোগের তদন্তে গত বছরের ৫ জুন দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি প্রতিনিধিদল রিসোর্টটি পরিদর্শন করে। তার আগে ৩ জুন পার্কটি বন্ধ করে দেয় রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন

বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় কর ফাঁকি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের নানা অভিযোগ ওঠে। ইতিমধ্যে বেনজীর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকে থাকা ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। আজ কর ফাঁকির অভিযোগের ব্যাপারে মাঠের বাস্তবতা মিলিয়ে দেখতে অভিযান চালায় এনবিআরের গোয়েন্দা ইউনিট।

সাভানা ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড ন্যাচারাল পার্ক
ছবি: রিসোর্টের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া

অভিযান শেষে এনবিআরের গোয়েন্দা ইউনিটের উপপরিচালক শাহ মো. ফজলে রাহী বলেন, সুনির্দিষ্ট কর ফাঁকির অভিযোগে আজ তাঁরা বেনজীরের মালিকানাধীন সাভানা ইকো রিসোর্টে তদন্তে এসেছিলেন। তদন্তে কর ফাঁকির তথ্য পেয়েছেন। এ ছাড়া সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়, কৃষি, মৎস্য কার্যালয়সহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তর থেকে প্রতিনিধিরাও আসেন। সব দপ্তর থেকে তথ্য পাওয়ার পর সুনির্দিষ্ট করে কত টাকার কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে, সেটা তাঁরা বলতে পারবেন।

পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে এনবিআরের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘কর ফাঁকির সুনির্দিষ্ট কিছু তথ্য আমাদের হাতে এসেছে। আমাদের আয়কর আইনের যে বিধান আছে, সে অনুযায়ী আমরা একটা রিপোর্ট তৈরি করে সংশ্লিষ্ট কর অফিসকে জানাব। কর অফিস সেটার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

আরও পড়ুন