লাকসামে বিএনপি নেতার নেতৃত্বে ব্যবসায়ীর ১৪টি দোকানসহ সম্পত্তি দখলের অভিযোগ

সম্পত্তি দখলের অভিযোগ এনে কুমিল্লায় সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ব্যবসায়ী মো. রাজিব হোসেন ওরফে জহির। বুধবার দুপুরে কুমিল্লা নগরের কান্দিরপাড় এলাকায়
ছবি: প্রথম আলো

কুমিল্লার লাকসাম উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা মজির আহম্মেদের নেতৃত্বে এক ব্যবসায়ীর সম্পত্তি দখল করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন ওই ব্যবসায়ী। তাঁর নাম মো. রাজিব হোসেন ওরফে জহির।

আজ বুধবার দুপুরে কুমিল্লা নগরের কান্দিরপাড় এলাকায় সাংবাদিকদের একটি সংগঠনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন রাজিব হোসেন। তিনি জেলার লাকসাম পৌরসভার মিশ্রী এলাকার সাইদুর রহমানের ছেলে। তৈরি পোশাক শিল্পের (গার্মেন্টস) ব্যবসা রয়েছে তাঁর।

মজির আহম্মেদ কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। ব্যবসায়ী মজির আহম্মেদে রাজিব হোসেনের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেছেন, দখল নয়, দেশ স্বাধীন, যার জায়গা তাঁকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রাজিব হোসেন বলেন, লাকসাম পৌরসভার মিশ্রী মৌজায় ২০০২ সালে তিনি জাহাঙ্গীর মাওলা চৌধুরীর সঙ্গে ৩১ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি বিনিময় দলিল মূলে মালিক হন। ওই সময় থেকেই জমির দখলে আছেন। পরবর্তী সময়ে একই দাগে একই মৌজার ২৪ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি জাহাঙ্গীর মাওলা চৌধুরীর ফুফু হোসনে আরা বেগমের সঙ্গে বিনিময় দলিল মূলে মালিক হন বলে জানান রাজিব। দুই ধাপে বিনিময় দলিলে মালিক হওয়া ওই সম্পত্তির মোট পরিমাণ ৫৬ শতাংশ। এর মধ্যে প্রায় ১০ বছর আগে ৩১ দশমিক ৫০ শতাংশ জমিতে লাকসাম পৌরসভার অনুমোদন নিয়ে সেমিপাকা টিনসেড ১৪টি দোকানঘর নির্মাণ করেছেন।

রাজিব হোসেন বলেন, ‘ওই জায়গায় আমার নামে ১৪টি বৈদ্যুতিক মিটার সংযোগ ও একটি গ্যাসের সংযোগ রয়েছে। বিনিময় দলিলে মালিক হওয়া ৫৬ শতাংশ জমি আমার নামে রেকর্ড, বিএস খতিয়ান ও নামজারি হয়। আমি একজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ী হওয়ায় ওই দুটি জমির মধ্যে ৩১ দশমিক ৫০ শতাংশ জমির দিয়ে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ২০১০ সালে জনতা ব্যাংকে মর্টগেজ করি এবং ২৪ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি দিয়ে ২০১৮ সালে ইউনিয়ন ব্যাংকে মর্টগেজ করি।’

সংবাদ সম্মেলনে রাজিব হোসেন জানান, তাঁর জমির মধ্যে ২৪ দশমিক ৫০ শতাংশ জমির বিষয়ে বিরোধী পক্ষ মিশ্রী এলাকার ফাহমিদা নাজ ও তাঁর চাচাতো ভাই ইকবাল হোসেন-গং ২০১০ সালে প্রিয়েমশান (অগ্রক্রয়াধিকার) মামলা করেন। কিন্তু আদালতে ওই মামলায় ২০১৯ সালে তাঁরা হেরে যান। উচ্চ আদালতে মামলা করে সেখানেও তাঁরা হেরে যান। এই দুই রায়ের বিরুদ্ধে তাঁরা উচ্চ আদালতে ২০২২ সালে আপিল করে সেখানেও হেরে যান। ওই সম্পত্তিতে নিজের নামে পৌরসভা থেকে ভবন করার জন্য নকশাও অনুমোদন করিয়েছেন। এমন অবস্থার মধ্যেই লাকসামের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও সাবেক পৌর মেয়র মজির আহম্মেদের নেতৃত্বে ওই সম্পত্তির ৫৬ শতাংশ জমিই দখল করা হয়েছে।

রাজিব হোসেন দাবি, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি মজির আহম্মেদ তাঁর বিরোধী পক্ষ ফাহমিদা নাজ ও তাঁর স্বামী মেজর (অব.) লুৎফর কবিরের পক্ষ নিয়ে সন্ত্রাসীদের দিয়ে ওই সম্পত্তির সীমানাপ্রাচীর ভেঙে দখল করে নিয়েছেন। সেখানে নির্মিত ১৪টি দোকানঘরও দখল করে নিয়েছে তাঁরা। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের সকলকে অবহিত করার পরও কোনো বিচার না পেয়ে এ ঘটনায় ২ মার্চ কুমিল্লার আদালতে একটি মামলাও করেছেন রাজিব।

বিরোধী পক্ষের কাছে ওই সম্পত্তির একটি কাগজও নেই উল্লেখ করে ব্যবসায়ী রাজিব হোসেন বলেন, ‘এরপর তাঁরা মজির আহম্মেদের রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে আমার বৈধ সম্পত্তি দখল করে নিয়েছেন। ১৪টি দোকানঘরেই আমার ভাড়াটিয়া রয়েছে। মজির আহম্মেদের ক্ষমতা ব্যবহার করে ভাড়াটিয়াদের ভয় দেখিয়ে নতুন করে চুক্তি করতে বাধ্য করা হয়েছে। আমি একজন ব্যবসায়ী। আমি এ ঘটনার প্রতিকার চাই।’

ব্যবসায়ীর দোকানসহ সম্পত্তি দখল করিয়ে দেওয়ার বিষয়ে বিএনপি নেতা ও লাকসাম উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মজির আহম্মেদের ভাষ্য, তিনি কারও জমি তখল করেননি। এই সম্পত্তির মূল মালিক ফাহমিদা নাজ ও তাঁর পরিবার। রাজিব হোসেন বিগত সময়ে কৌশলে ফাহমিদা নাজের ফুফুকে দিয়ে ভুয়া খতিয়ান তৈরি করে এই সম্পত্তি নিজের নামে নিয়েছেন। পরবর্তী সময়ে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের লাকসাম উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যানকে ব্যবহার করে নিজের নামে রেকর্ড, বিএস খতিয়ান ও নামজারি করিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা কারও সম্পত্তি দখল করিনি। দেশ স্বাধীন হয়েছে, তাই যার সম্পত্তি তাঁকে বুঝিয়ে দিয়েছি। আমি সন্ত্রাসী দিয়ে কারও সম্পত্তি দখল করিনি। তাঁর এসব অভিযোগ মিথ্যা।’

জমির বিষয়ে জানতে ফাহমিদা নাজের মুঠোফোনে কল করা হলে তাঁর স্বামী লুৎফর কবির কলটি ধরেন। তিনি এ প্রতিবেদকের প্রশ্ন শুনে বলেন, ‘এ ঘটনায় আমরাও শিগগিরই সংবাদ সম্মেলন করব। সেখানেই এ নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরব আমরা।’