প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ ও ৯ ছাত্রীর বহিষ্কারাদেশ বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ

৯ ছাত্রীর বহিষ্কারাদেশ বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
প্রথম আলো

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ ও ৯ ছাত্রীর বহিষ্কারাদেশ বাতিলের দাবিতে প্রতিবাদ চলছে। আজ রোববার দুপুর ১২টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে ‘নিপীড়নের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে এই কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচি সঞ্চালনা করেন বহিষ্কার হওয়া শিক্ষার্থী সুমাইয়া শিকদার।

এ সময় সুমাইয়া শিকদার বলেন, ‘গত ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে নানাভাবে আমাদের হেনস্তা করা প্রশাসনকে ধিক্কার জানাই। প্রক্টর ফেসবুকে যে মন্তব্য করেছেন, সেটা নিপীড়নমূলক। কিন্তু আজ পর্যন্ত প্রশাসন এর কোনো বিহিত করতে পারেনি। অনতিবিলম্বে এই প্রক্টরকে পদত্যাগ করতে হবে। অন্যায়ভাবে দেওয়া এই বহিষ্কারাদেশ বাতিল করতে হবে।’

বহিষ্কার হওয়া আরেক শিক্ষার্থী রওজাতুল জান্নাত বলেন, ‘সহকারী প্রক্টর ছাত্রীদের গালাগাল করেছেন। এর বিচার কী? শিক্ষক হয়ে তাঁরা ছাত্রীদের আঘাত করেছেন, ধাক্কা দিয়েছেন। এর শাস্তি কী আমরা জানতে চাই। নারীদের নিয়ে ক্রমাগত কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে গেছেন প্রক্টর, সহকারী প্রক্টর ও তাঁদের মদদপুষ্ট শিক্ষার্থীরা। সেসবের বিচার আমরা জানতে চাই।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরেই নারী শিক্ষার্থীরা নানাভাবে নিপীড়িত। ছাত্রীদের পক্ষে কথা বলায় ওই হলের আবাসিক শিক্ষককে অব্যাহতি দিয়েছে প্রশাসন। এর চেয়ে লজ্জার আর কিছু হতে পারে না বলে জানান সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থী ঈশা দে। তিনি বলেন, আবার বহিষ্কারের চিঠিতেও নানা অসংগতি রয়েছে। হলে যখন মব গিয়ে বিশৃঙ্খলা করছিল, তখন প্রক্টরিয়াল বডিকে বারবার ফোন করার পরেও আসেনি। উল্টো প্রতিবাদকারী ছাত্রীদের বহিষ্কার করেছে।

কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য দেন ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মামুন, বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী এমদাদ উল্লাহ, বহিষ্কার হওয়া আরেক শিক্ষার্থী জান্নাতুল মাওয়া প্রমুখ।

উল্লেখ্য, ১৩ ফেব্রুয়ারি জননেত্রী শেখ হাসিনা হলের (বর্তমানে বিজয় ২৪ হল) ১০ ছাত্রীকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের কথা গণমাধ্যমে জানিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। এর ২০ দিন পর বহিষ্কারাদেশের চিঠি বিভাগ ও হলে পৌঁছায়।

ছাত্রীদের অভিযোগ, ৫ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে একদল শিক্ষার্থী হলে এসে আবাসিক ছাত্রীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন। এসব ঘটনায় হলের আবাসিক শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল বডিকে ফোনে পাওয়া যায়নি। এ কারণেই তাঁরা প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে প্রক্টরিয়াল বডির একাধিক সদস্যকে ছাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতে দেখা যায়। একটি ভিডিওতে সহকারী প্রক্টর কোরবান আলীকে শারীরিক আঘাত করতে দেখা গেছে এক ছাত্রীকে।

এর মধ্যে সম্প্রতি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি স্ক্রিনশটে দেখা যায়, ছাত্রীদের বহিষ্কার করতে প্রশাসনকে চাপ দিতে ‘অনুগত’ ছাত্রদের বলেছিলেন দুই সহকারী প্রক্টর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তায় এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। এসব নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা হয়েছে। ছড়িয়ে পড়া এসব স্ক্রিনশটে ছিল সহকারী প্রক্টর কোরবান আলী ও নুরুল হামিদের সঙ্গে তাঁদের ‘অনুগত’ ছাত্রদের কথোপকথন।