ফরিদপুরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমর্থকদের সংঘর্ষ, বাড়ি ও দোকান ভাঙচুর
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় অন্তত ৩০টি বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়।
আজ বুধবার সকালে উপজেলার কাইচাইল ইউনিয়নের মধ্য কাইচাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। তাঁদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কাইচাইল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইব্রাহিম মিয়ার সঙ্গে উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি জিন্নাহ সরদারের বিরোধ চলছিল। এর জেরে আজ সকালে ইব্রাহিম ও জিন্নাহর সমর্থকেরা সংঘর্ষে জড়ান। দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়ে অন্তত ২০টি বসতভিটা ও ১০টি দোকান ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিদের নগরকান্দা ও ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
কাইচাইল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইব্রাহিম মিয়া বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মাদ্রাসা বাজারে তাঁর ও জিন্নাহ সরদারের সমর্থকদের মধ্যে কথা–কাটাকাটি হয়। পরে জিন্নাহর সমর্থকেরা দেশি অস্ত্র নিয়ে মাদ্রাসা বাজারে এসে তাঁদের প্রায় ১০টি দোকানে হামলা করে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। তখন তাঁর লোকজন প্রতিরোধ করলে সংঘর্ষ বাধে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আজ সকালে আবার জিন্নাহর সমর্থকেরা তাঁদের লোকজনের ওপর হামলা চালালে তাঁর লোকজন পাল্টা হামলা করলে তারা পালিয়ে যায়। এ সময় উত্তেজিত লোকজন কয়েকটি বাড়ি ভাঙচুর করেছে। তবে কোনো লুটপাটের ঘটনা ঘটেনি।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি জিন্নাহ সরদার বলেন, ‘আমি ব্যবসায়িক কাজে ঢাকায় থাকি। ঘটনার সময় আমি বাড়িতে ছিলাম না। আমাদের লোকজনের সাথে কথা বলে জানতে পারলাম, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ইব্রাহিমের লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে আমার বাড়িসহ আমার সমর্থকদের বাড়িতে হামলা করে ব্যাপক ভাঙচুর করে মালামাল লুটপাট করে নিয়ে গেছে।’
নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সফর আলী প্রথম আলোকে বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কিছু বাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।