জাহাজে ৭ খুনের রহস্য উদ্ঘাটনসহ বিভিন্ন দাবিতে কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন নৌযান শ্রমিকেরা
চাঁদপুরে জাহাজে সাত খুনের রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিচারসহ বিভিন্ন দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন নৌযান শ্রমিকেরা। আজ দুপুরে মুঠোফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন সভাপতি মো. শাহ আলম।
এই কর্মবিরতিসহ পণ্যবাহী নৌযান ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে বলে জানান শাহ আলম। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘আকাশ মণ্ডল সারবোঝাই পণ্যবাহী এমভি আল–বাখেরা জাহাজের ৮ জন স্টাফকে ঠান্ডা মাথায় যেভাবে কুপিয়েছেন এবং বিশাল একটি জাহাজ একাই চালিয়েছেন, এটা আদৌ সম্ভব না। এটা তাঁর একার কাজ হতে পারে না। আকাশ মণ্ডলের মাত্র এক মাসের বেতন বকেয়া ছিল। সামান্য বকেয়ার জন্য এই ঘটনা বোধগম্য নয়। আমরা এ ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং এর সঙ্গে অন্য কারা ছিল তার সঠিক তদন্ত দাবি করছি। এ ছাড়া আমরা আমাদের সারা দেশে ১০ হাজার ছোট–বড় পণ্যবাহী নৌযান ও লক্ষাধিক শ্রমিকের নিরাপত্তাও দাবি করছি। যাঁরা ওই জাহাজে হতাহতের শিকার হয়েছেন সরকারের পক্ষ থেকে জনপ্রতি ২০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণও দাবি করছি।’
গত সোমবার বেলা তিনটার পর এমভি আল-বাখেরা জাহাজ থেকে পাঁচজনের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। আর তিনজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় জাহাজের মালিক মাহবুব মোর্শেদ বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চাঁদপুরের হাইমচর থানায় একটি মামলা করেছেন।
মঙ্গলবার রাতে র্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা, র্যাব-১১ ও ৬-এর যৌথ অভিযানে বাগেরহাটের চিতলমারী এলাকার এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ওই জাহাজের লস্কর আকাশ মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গতকাল বুধবার দুপুরে কুমিল্লা নগরের শাকতলা এলাকায় র্যাব-১১-এর সিপিসি-২ কুমিল্লা কার্যালয়ে ব্রিফিং করে ঘটনার বিস্তারিতে তুলে ধরা হয়। বিকেলে চাঁদপুরে নৌ পুলিশের কাছে আকাশকে হস্তান্তর করে র্যাব। আকাশ মণ্ডল বর্তমানে সাত দিনের রিমান্ডে আছেন। তাঁর কাছ থেকে ঘটনার তথ্য বের করার চেষ্টা অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছেন চাঁদপুর নৌ পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার ইমতিয়াজ আহমেদ।
এদিকে ঘটনার পর চাঁদপুর নৌ রুটে সব ধরনের নৌপরিবহন ও যাত্রীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন লঞ্চযাত্রী ও নৌযান শ্রমিকেরা। এ বিষয়ে চাঁদপুর নৌ পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘খুনের ঘটনা ব্যক্তিগত আক্রোশের ঘটনা ছিল। নদীতে কোনো ধরনের নৌযান নিরাপত্তাহীনতায় নেই। এ ছাড়া আমাদের নৌ পুলিশ ও কোস্টগার্ড সব সময় সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।’