নতুন এই বাংলাদেশে এবার স্বস্তির একটি ঈদ হবে: সারজিস আলম

এনসিপি পঞ্চগড় জেলা শাখা আয়োজিত ইফতার মাহফিল শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন সারজিস আলম। রোববার সন্ধ্যায় পঞ্চগড় চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সম্মেলনকক্ষে
ছবি: প্রথম আলো

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেছেন, ‘আমি উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক। আমি ঈদ উপলক্ষে পঞ্চগড়ে এসেছি। আমার জায়গা থেকে কাজ হচ্ছে, আমাদের কেন্দ্রীয় সংগঠকেরা ঈদ উপলক্ষে যে যেই জেলায় আছেন, তাঁরা সেই জেলার সংগঠনের গোছানোর কাজ করবেন। জেলা-উপজেলা-গ্রাম পর্যায়ে যাঁরা আমাদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী, তাঁদের সঙ্গে কথা বলবেন, সংগঠিত করবেন। আমি সেই জায়গায় একজন সংগঠক হিসেবে পঞ্চগড় জেলায় সেই কাজটি করছি।’

আজ রোববার সন্ধ্যায় এনসিপি পঞ্চগড় জেলা শাখা আয়োজিত ইফতার মাহফিল শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে সারজিস আলম এসব কথা বলেন। পঞ্চগড় চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সম্মেলনকক্ষে এই ইফতার মাহফিল হয়।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে সারজিস আলম বলেন, ‘কোন জেলার কোন আসনে কে নির্বাচন করবেন, এটা নির্বাচনের পূর্বে আমাদের দলীয় যে ফোরাম, সেই ফোরাম নির্ধারণ করবে। সেই ফোরাম যদি আমাকে পঞ্চগড়-১ (সদর, তেঁতুলিয়া ও আটোয়ারী) আসনের জন্য নির্ধারণ করে, তাহলে সেটা নিয়ে কাজ করব। যদি অন্য কোথাও নির্ধারণ করে, তাহলে সেটা। এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য, কে কোন আসনে নির্বাচন করবেন এটা নয়; বরং বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা, ইউনিয়নকে এনসিপির ব্যানারে সংগঠিত করা। যেন আগামীর বাংলাদেশে জনগণের রায় নিয়ে জনগণের প্রতিনিধিত্ব আমরা সংসদে করতে পারি।’

দলীয় অবস্থানের কথা উল্লেখ করে সারজিস বলেন, ‘আমরা প্রতিটি সময় মানুষের সঙ্গে থাকতে চাই। আমরা মনে করি যে জনগণের রায়ের মাধ্যমেই নির্ধারণ হবে, আগামীর বাংলাদেশ কোনদিকে যাবে। সুতরাং এটা আমাদের জায়গা থেকে ঈদগাহ ময়দান হোক, ইফতারের প্রোগ্রাম হোক, বা দরিদ্র-ছিন্নমূল মানুষের পাশে দাঁড়ানো হোক, সব ক্ষেত্রে আমরা আমাদের জায়গা থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির কথা বলতে চাই, আমাদের স্বপ্নগুলো তাঁদের শোনাতে চাই।’

গণ-অভ্যুত্থানে পতিত সরকারের আমলের ঈদ উপলক্ষে সারজিস বলেন, ‘আমরা মনে করি, এর আগে যে ঈদগুলো হতো, ওই ঈদগুলোতে আওয়ামী লীগ থেকে একটা ন্যারেটিভ (বয়ান) সেট করে দেওয়া হতো। ওই ন্যারেটিভ অনুযায়ী ঈদটা পালিত হতো। ঈদ, ঈদের যে একটা আলাদা ঐতিহ্য, সেই ঐতিহ্য নিয়ে কখনো পালিত হতো না; বরং আওয়ামী লীগকে দেশের এবং দেশের বাইরের কিছু এজেন্সি, কিছু দেশ বা কিছু মানুষ একটা ন্যারেটিভ সেট করে দিত, সেভাবে ধর্মীয় মূল্যবোধ, এমনকি ঈদের কালচারগুলোকেও (সংস্কৃতি) মডিফাই করা হতো।’

এবারের ঈদ নিয়ে সারজিস আলম বলেন, ‘এবারের যে ঈদ, এই ঈদের সবচেয়ে স্পেশাল জায়গাটা হচ্ছে যে, কেউ আপনাকে কোনো ন্যারেটিভ সেট করে দেবে না। আপনি আপনার মতো করে ঈদটা পালন করতে পারবেন। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে এই মুহূর্তে এই অবস্থাটি নেই যে, একটা দল ব্যতীত আর কোনো দলই তাদের মনমতো করে তাদের পরিবারের সঙ্গে একসঙ্গে ঈদ পালন করতে পারবে না, এই অবস্থা নেই। বিগত সময় এমন ছিল। শুধু আওয়ামী লীগ তাদের মতো করে ঈদ পালন করতে পারত। অন্য সকল রাজনৈতিক দল মামলা-হামলা এসবের ভয়ে কখনো পরিবারের সঙ্গে শান্তিমতো ঈদ করতে পারত না। রাতে এসে পরিবারের সঙ্গে দেখা করে আবার চলে যেত। নতুন এই বাংলাদেশে এবার স্বস্তি বা শান্তির একটি ঈদ হবে, যেখানে এমন অনেক মানুষ থাকবে, যারা ১৬ বছর পর প্রথম পরিবারের সঙ্গে ঈদ করবে।’

ইফতার মাহফিলে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির পল্লি উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক ও পঞ্চগড় জেলা বিএনপির সদস্যসচিব ফরহাদ হোসেন, জামায়াতে ইসলামী পঞ্চগড় জেলা শাখার আমির ইকবাল হোসাইন, পঞ্চগড় পৌর বিএনপির আহ্বায়ক তৌহিদুল ইসলাম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) পঞ্চগড় জেলা শাখার সহসভাপতি শামুসজ্জামান নয়ন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পঞ্চগড় জেলা শাখার সিনিয়র সহসভাপতি মো. আবদুল্লাহ, সেক্রেটারি সৈয়দ সুলতান মাহমুদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস পঞ্চগড় জেলা শাখার সভাপতি মীর মোর্শেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।