হাসিনা পালায় গেছে, গণতন্ত্র আমরা এখনো পাই নাই, ভোটাধিকার পাই নাই: শামা ওবায়েদ

বাবা কে এম ওবায়দুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় বক্তব্য রাখছেন শামা ওবায়েদ। শুক্রবার সন্ধ্যায় ফরিদপুরের নগরকান্দায় মহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমি মাঠে
ছবি: প্রথম আলো

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ বলেছেন, ‘হাসিনা পালায় গেছে। কিন্তু গণতন্ত্র আমরা এখনো পাই নাই। আমরা ভোটাধিকার এখনো পাই নাই।’ আজ শুক্রবার ফরিদপুরের নগরকান্দা মহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমি মাঠে এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি কথাগুলো বলেন।

শামা ওবায়েদের বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিএনপির সাবেক মহাসচিব প্রয়াত কে এম ওবায়দুর রহমানের ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। শামা ওবায়েদ বলেন, ‘একটা কথা বলতে চাই, ১৭ বছর আপনারা যে সংগ্রাম করছেন একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আপনারা কী, আমরা কী এখনো সেই সুষ্ঠু নির্বাচন পাইছি?’

আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে শামা ওবায়েদ জানান, তাঁর বাবা ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠক, আপাদমস্তক গণতন্ত্রে বিশ্বাসী একজন মানুষ। এ রকম একজন ব্যক্তিকে শেখ হাসিনা জেলহত্যার মতো একটি জঘন্য মামলা দিয়েছিলেন। ওই মামলায় দিনের পর দিন জেল খেটেছেন তিনি (এ কে এম ওবায়দুর রহমান)। উনি জেলে থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে জেল থেকে বের হয়েছেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, ‘জেল থেকে বের হওয়ার পরে আমার বাবার চরমভাবে একটা হার্ট অ্যাটাক হয়। এতগুলা বছর শেখ হাসিনা একটি মিথ্যা মামলায়, ষড়যন্ত্রমূলক একটা জঘন্য মামলায় জেল খাটাল, সে কারণে আমার বাবা আরও অসুস্থ হয়ে গিয়েছিলেন। এইভাবে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকেও একটি মিথ্যা মামলায় জেল খাটিয়েছেন। উনি (শেখ হাসিনা) তারেক রহমানকে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে দেশের বাইরে রেখেছেন। উনি বিএনপির কর্মীদের মিথ্যা মামলা দিয়েছেন, জেল খাটিয়েছেন।’

আওয়ামী লীগের আমলের নির্বাচনগুলোর চিত্র তুলে ধরে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘২০০৮ সালের নির্বাচনেও কারচুপি হইছে। ২০১৪ সালে বিনা ভোটের নির্বাচন হইছে। যেখানে আমরা ভোটকেন্দ্রে কুকুর–বিড়াল বসে থাকতে দেখছি। ২০১৮ সালে নিশিরাতের নির্বাচন হইছে। এই নগরকান্দা এবং সালথায় আগের দিন ভোট কাটা হইছে, আপনারা সাক্ষী। এই ৭ জানুয়ারির নির্বাচন আমি-ডামির নির্বাচন। আওয়ামী আওয়ামী দাঁড়াইছে। সেই নির্বাচনেও কেউ ভোট দিতে যায় নাই। আমাদের যুবক ভাই-বোনেরা এই বাংলাদেশের মাটিতে একটা সুষ্ঠু ভোট দিতে পারে নাই।’

সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি হাবিবুর রহমান তালুকদার, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেছ আলী, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ জুলফিকার হোসেন, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদত জাহাঙ্গীর হোসেন প্রমুখ।