৬ মেডিকেলে ‘জোড়াতালি’র শিক্ষা
কোনো মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম শুরু হয়েছে ৭ বছর আগে, কোনোটির আবার ৮ থেকে ১০ বছর আগে; কিন্তু এখনো স্থায়ী ক্যাম্পাস হয়নি। কোনোটির ক্যাম্পাসের জায়গাও ঠিক হয়নি। জোড়াতালি দিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালের কক্ষে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। এসব কলেজে পাঠদানের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষক নেই। শ্রেণিকক্ষ ও গবেষণাগার সংকটে ক্লিনিক্যাল (হাতে-কলমে) শিক্ষার ঘাটতি নিয়েই শেষ হচ্ছে পড়াশোনা।
নেত্রকোনা, নওগাঁ, নীলফামারী, মাগুরা, হবিগঞ্জ ও রাঙামাটি মেডিকেল কলেজে খোঁজ নিয়ে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে তিনজন শিক্ষক নিয়ে রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয় ২০১৬ সালে। বাকিগুলো প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ২০১৮ সালে।
নওগাঁ মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম চলছে ২৫০ শয্যার নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের পুরোনো ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি অংশে। এই কলেজের ৩২০ শিক্ষার্থীর জন্য ন্যূনতম সাতটি লেকচার হল (শ্রেণিকক্ষ) দরকার হলেও আছে চারটি।
চিকিৎসা–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, হাতে-কলমে শিক্ষার ঘাটতি নিয়ে শুধু বই পড়েই চিকিৎসক হয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। নিজস্ব ক্যাম্পাস ও কিছু ক্ষেত্রে আবাসনসুবিধা না পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যেও হতাশা তৈরি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে মানুষের মানসম্মত চিকিৎসা পাওয়া নিয়ে শঙ্কা থেকে যাচ্ছে।
দেশে মোট মেডিকেল কলেজ ১১০টি। এর মধ্যে সরকারি মেডিকেল কলেজ আছে ৩৭টি। যার মধ্যে নিজস্ব ভবন ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ছাড়া চলছে এই ছয় সরকারি মেডিকেল কলেজ। এ ছাড়া নিজস্ব ক্যাম্পাস নেই চাঁদপুর মেডিকেল কলেজেরও।
বেসরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নিজস্ব ভবনে মেডিকেল কলেজ, কলেজের আয়তন, শিক্ষার্থীর অনুপাতে শিক্ষক, ল্যাবরেটরি, লাইব্রেরি—এই রকম অনেক বিষয়ে শর্ত আরোপ করা হয়। তবে সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার কোনো নীতিমালা বা শর্ত নেই। সরকারে থাকা ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের ইচ্ছায় এসব মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
প্রয়োজনীয় সুযোগ–সুবিধা ছাড়া সরকারি মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রমের বিষয়ে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক যতীন সরকার প্রথম আলোকে বলেন, অবকাঠামো স্থাপন, প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগ না দিয়ে এভাবে মেডিকেল কলেজ চালানো কাঙ্ক্ষিত নয়। শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় শিক্ষা দিতে না পারলে অর্ধশিক্ষিত চিকিৎসক তৈরি হবে। এতে আর যা–ই হোক, মানুষ মানসম্মত চিকিৎসা পাবে না।
গত বছর থেকে আসন সংখ্যা বাড়ায় ক্লাসরুমের সংকট হচ্ছে মাঝেমধে৵। আমাদের ল্যাবগুলো খুব ছোট, কোনো কোনোটা যে জায়গা প্রয়োজন তার চার ভাগের এক ভাগ। এ ছাড়া আমাদের একটা ক্যানটিন খুবই জরুরি।ষষ্ঠ ব্যাচের শিক্ষার্থী মারজান আলম, মাগুরা মেডিকেল কলেজ
ধার করা ভবনে কার্যক্রম
২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ৫০ জন করে শিক্ষার্থী নিয়ে নেত্রকোনা, নওগাঁ, মাগুরা ও নীলফামারী মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। এখন এসব কলেজে পাঁচ থেকে ছয়টি ব্যাচে তিন শতাধিক করে শিক্ষার্থী আছেন। ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে ৫১ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করা হবিগঞ্জ মেডিকেলে কলেজে আটটি ব্যাচে মোট শিক্ষার্থী ৫০৫ জন। রাঙামাটি মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থী ৩০১ জন।
২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার কয়েকটি কক্ষ নিয়ে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম চলে। গত মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, কলেজের দাপ্তরিক কাজ চলে দ্বিতীয় তলায়। সেখানে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষের দুটি পৃথক কক্ষ। বাকি সব শিক্ষকের জন্য একটি কক্ষ। দ্বিতীয় তলায় আংশিক ও তৃতীয় তলায় প্রায় তিন হাজার বর্গফুট জায়গা নিয়ে পাঁচটি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করা হচ্ছে। কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রথম দিকে ৫১ জনের ধারণক্ষমতার শ্রেণিকক্ষ থাকলেও এখন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় ১০০ জন করে শিক্ষার্থী ভর্তি হচ্ছে। শিক্ষার্থী বাড়লেও শ্রেণিকক্ষের আয়তন বাড়েনি।
কলেজ থেকে সদ্য এমবিবিএস পাস দুই ইন্টার্ন চিকিৎসক বলেন, গাদাগাদি করে ক্লাস করতে হয়। হাতে-কলমে শিক্ষার ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। এভাবে চলতে পারে না।
শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষ–সংকটের কথা নিশ্চিত করে কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জাবেদ জিলুল বারী বলেন, তিন মাস আগে তিনি যোগদানের পর উন্নয়নকাজ করে শ্রেণিকক্ষে ১০০ জনের বসার পরিবেশ করা হয়েছে। এখন সবচেয়ে প্রয়োজন স্থায়ী একটি ক্যাম্পাস। পূর্ণাঙ্গ ক্যাম্পাস ছাড়া এভাবে মেডিকেল কলেজ চলতে পারে না।
জেলার আধুনিক সদর হাসপাতালে তিনটি কোয়ার্টার মেরামত করে চলছে নেত্রকোনা মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম। নওগাঁ মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম চলছে ২৫০ শয্যার নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের পুরোনো ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি অংশে। এই কলেজের ৩২০ শিক্ষার্থীর জন্য ন্যূনতম সাতটি লেকচার হল (শ্রেণিকক্ষ) দরকার হলেও আছে চারটি। রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের হৃদ্রোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য নির্মিত করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) ভবনে অস্থায়ীভাবে মেডিকেল কলেজের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চলছে। শিক্ষার্থীদের জন্য ন্যূনতম ১৫টি শ্রেণিকক্ষ প্রয়োজন। তবে রয়েছে মাত্র পাঁচটি। এসব কক্ষে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ৫০ শিক্ষার্থীর ক্লাস নেওয়া যায়। অথচ ৭৫ জন শিক্ষার্থী নিয়েও ক্লাস নিতে হচ্ছে শিক্ষকদের। আবাসন, গ্রন্থাগার, কমনরুম, ল্যাব–সংকটও প্রকট। হাসপাতালের পাশে টিনের ছাউনি দিয়ে ৭২ জন শিক্ষার্থীর জন্য একটি ছাত্রাবাস নির্মাণ করা হয়। অন্য শিক্ষার্থীরা শহরের ভেদভেদী এলাকায় ভাড়া করা দুটি ছাত্রাবাসে থাকছেন। কলেজের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী বিক্রমাদিত্য চাকমা বলেন, ‘আমাদের মেডিকেল কলেজে সমস্যা-সংকটের শেষ নেই। আমাদের শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার পথে, অথচ কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাস চোখে দেখলাম না।’
তবে নীলফামারী ও মাগুরা মেডিকেল কলেজের এ সমস্যা প্রকট নয়। নীলফামারীতে ম্যাটসের কার্যক্রম না থাকায় ম্যাটসের জন্য নির্মিত বিভিন্ন ভবনে কলেজের কার্যক্রম চলছে। পাশেই স্বাস্থ্য বিভাগের প্রায় ৩৫ একর জায়গায় ভবন নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন আছে বলে জানিয়েছেন অধ্যক্ষ জিম্মা হোসেন।
মাগুরা হাসপাতালের পুরোনো ভবনে মেডিকেল কলেজের জন্য তিনটি লেকচার হল, আটটি টিউটোরিয়াল ক্লাসরুম, দুটি গবেষণাগার, কনফারেন্স রুম, লাইব্রেরি, শিক্ষকদের বসার কক্ষ, শিক্ষার্থীদের কমন রুম করা হয়েছে। ছাত্র ও ছাত্রীদের জন্য আলাদা আবাসনসুবিধাও নিশ্চিত করা হয়েছে। এর পরও সংকট রয়েছে উল্লেখ করে ষষ্ঠ ব্যাচের শিক্ষার্থী মারজান আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত বছর থেকে আসন সংখ্যা বাড়ায় ক্লাসরুমের সংকট হচ্ছে মাঝেমধে৵। আমাদের ল্যাবগুলো খুব ছোট, কোনো কোনোটা যে জায়গা প্রয়োজন তার চার ভাগের এক ভাগ। এ ছাড়া আমাদের একটা ক্যানটিন খুবই জরুরি।’
বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক–সংকট
নেত্রকোনা মেডিকেল কলেজে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক, প্রভাষক ও কিউরেটর মিলে অনুমোদিত পদ ৭৮টি। কর্মরত আছেন ৪৯ জন। অধ্যাপকের ১২টি পদের মধ্যে অধ্যক্ষ ছাড়া বাকি ১১টি পদই শূন্য। চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘পুরোনো মেডিকেল কলেজে একেকটি বিভাগে যেখানে একাধিক অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও প্রভাষক ক্লাস নেন; এখানে তেমন সুযোগ নেই। বিশেষ করে ক্লিনিক্যাল ক্লাসে ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে।’
কলেজের একজন সহযোগী অধ্যাপক প্রথম আলোকে বলেন, প্রসূতি বিভাগের পাঁচটি পদের মধ্যে শুধু একজন সহকারী অধ্যাপক আছেন। একইভাবে মেডিসিন বিভাগে পাঁচটি পদের মধ্যে দুজন সহযোগী অধ্যাপক এবং সার্জারি বিভাগে দুজন সহযোগী অধ্যাপক কর্মরত। ওই দু-একজন শিক্ষককেই কয়েকটি ব্যাচের তত্ত্বীয়, ব্যবহারিক, আইটেম পরীক্ষাসহ সবকিছু সামলাতে হচ্ছে। এতে শিক্ষকের ওপর যেমন অতিরিক্ত চাপ পড়ছে, শিক্ষার্থীরাও নানাভাবে বঞ্চিত হচ্ছেন।
হবিগঞ্জে শিক্ষকদের ৮৩টি পদের মধ্যে শূন্য ৩৬টি। নওগাঁয় অধ্যাপকের ১১টি পদের মধে৵ সাতটি, সহযোগী অধ্যাপকের ২১টি পদের মধ্যে ১৪টি, সহকারী অধ্যাপকের ২৩টি পদের মধ্যে ১১টি এবং প্রভাষকের ২৬টি পদের মধ্যে একটি পদ শূন্য। নীলফামারী মেডিকেল কলেজে ৭৮টি পদের বিপরীতে ৫৬ জন শিক্ষক কর্মরত। এর মধ্যে অধ্যাপক মাত্র দুজন। মাগুরা মেডিকেল কলেজে ৯৫টি পদের বিপরীতে শিক্ষক আছেন মাত্র ৩৯ জন। এর মধ্যে ১১ জন অধ্যাপকের মধ্যে আছেন ৪ জন। বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগে শুধু প্রভাষক ও ফিজিওলজি বিভাগের শিক্ষক দিয়ে পাঠদান চলছে।
নওগাঁ মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আল আমীন বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের কলেজে ২৫টি বিভাগে ক্লাস চলছে। মাত্র চারটি বিভাগে একজন অধ্যাপক আছেন। অভিজ্ঞ শিক্ষক না থাকায় তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক বিষয়গুলো শিখতে সমস্যা হচ্ছে। হয়তো ভবিষ্যতে এর প্রভাব পড়বে।’
হাসপাতালে মানসম্মত চিকিৎসক না থাকায় গুরুতর রোগী থাকে না। এতে মেডিকেলের শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শেখার সুযোগ খুব কম থাকছে। ভরসা শুধু বইয়ে পড়া বিদ্যায়।হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আবু সাঈদ মো. মাহবুবুর রহমান
ব্যবহারিকে ঘাটতি নিয়ে শিক্ষাজীবন শেষ
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এমবিবিএসে ভর্তির পর প্রথম পর্বের দেড় বছরের মধ্যে অ্যানাটমি, ফিজিওলজি ও বায়োকেমিস্ট্রি পড়তে হয়। দ্বিতীয় পর্বে এক বছরে ফার্মাকোলজি ও ফরেনসিক মেডিসিন বিষয়ে পড়েন শিক্ষার্থীরা। তৃতীয় পর্বে এক বছরের জন্য পড়তে হয় কমিউনিটি মেডিসিন, প্যাথলজি ও মাইক্রোবায়োলজি। চতুর্থ পর্বে ক্লিনিক্যাল বিষয় পড়তে হয়। সেখানে গাইনি, মেডিসিন ও সার্জারি তিনটি প্রধান বিষয় রয়েছে। এসব বিষয় হাসপাতালে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ব্যবহারিকভাবে করতে হয়; কিন্তু নিজস্ব হাসপাতাল না থাকায় শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিকে ঘাটতি নিয়েই শিক্ষাজীবন শেষ করতে হচ্ছে। কোনোমতে ব্যবহারিক শিক্ষা চলছে সংশ্লিষ্ট জেলা হাসপাতালগুলোতে।
নেত্রকোনা ১০০ শয্যা আধুনিক সদর হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও রোগী কোনোটাই নেই। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আবু সাঈদ মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, হাসপাতালে মানসম্মত চিকিৎসক না থাকায় গুরুতর রোগী থাকে না। এতে মেডিকেলের শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শেখার সুযোগ খুব কম থাকছে। ভরসা শুধু বইয়ে পড়া বিদ্যায়।
নওগাঁ মেডিকেল কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, প্রথম বর্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের ল্যাবে ব্যবহারিক ক্লাস করতে হয়। তৃতীয় বর্ষ থেকেই রোগীর মুখোমুখি হতে হয়। ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে শিক্ষকদের সঙ্গে ঘুরে ঘুরে রোগীর ইতিহাস জানতে হয়; কিন্তু শ্রেণিকক্ষ ও ল্যাবের সুযোগ-সুবিধা কম হওয়ায় অনেক ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।
নেত্রকোনা মেডিকেল কলেজের ফিজিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রাজেশ কুমার দাশ বলেন, স্থায়ী ক্যাম্পাস হলে অনেক সংকট কেটে যাবে। একটির সঙ্গে অন্যটির সংযোগ আছে। এখানে ক্লিনিক্যাল ক্লাসের পর্যাপ্ত সুবিধা না থাকায় দ্বিতীয় ব্যাচের ৫০ শিক্ষার্থীকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হয়েছে।
নীলফামারী মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক দিলীপ কুমার রায় বলেন, এখানে কিছু বিষয়ে দুজনের পদে একজন করে আছেন। এ জন্য তাঁদের বেশি ক্লাস নিতে হচ্ছে। কষ্ট হলেও তাঁরা চালিয়ে নিচ্ছেন।
অবশ্য মাগুরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল না হলেও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ইন্টার্ন করতে শিক্ষার্থীদের কোনো সমস্যা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন অধ্যক্ষ মো. কামরুল হাসান। তিনি বলেন, এই হাসপাতালে গড়ে ৫০০ রোগী থাকে, ফলে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরাও ভালো শিখতে পারছেন।
স্থায়ী ক্যাম্পাসের জায়গাও ঠিক হয়নি
নেত্রকোনা মেডিকেল কলেজ কোথায় হবে, কলেজের সঙ্গে যুক্ত থাকা ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজ কোথায় হবে, সবকিছুই ধোঁয়াশার মধ্যেই আছে। গত বছরের জানুয়ারিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০০ একর জায়গা থেকে ৫০ একর জায়গা নেত্রকোনা মেডিকেল কলেজকে বরাদ্দ দেয়। কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজনের বাধায় তা আটকে যায়। এখন পর্যন্ত মেডিকেল কলেজ কোথায় হবে, তা নির্ধারণ করা হয়নি। কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সাইফুল হাসান বলেন, স্থায়ী জায়গা যেহেতু নির্ধারণ হয়নি, তাই যতটুকু পারছেন অল্প পরিসরের মধ্যে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো করে নিচ্ছেন।
মাগুরা মেডিকেল কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য জমি অধিগ্রহণ ও অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও এখনো পাস হয়নি। রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের জন্য শহরের রাঙাপানি এলাকায় জমি অধিগ্রহণ করা হলেও অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য স্থান নির্ধারণ হয়েছে; কিন্তু একনেকে অনুমোদন না পাওয়ায় কাজ থেমে আছে। নওগাঁ মেডিকেলের অবস্থাও প্রায় একই। অধ্যক্ষ মোক্তার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, সম্প্রতি নওগাঁ মেডিকেল কলেজ পরিদর্শন করে গেছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। তিনি মেডিকেল কলেজের জন্য নির্বাচিত জায়গা পরিদর্শন করেছেন। কিন্তু জমি অধিগ্রহণের জন্য এখনো বরাদ্দ হয়নি।
[প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন পল্লব চক্রবর্তী, নেত্রকোনা, সাধন বিকাশ চাকমা, রাঙামাটি, ওমর ফারুক, নওগাঁ, হাফিজুর রহমান, হবিগঞ্জ, মীর মাহমুদুল হাসান, নীলফামারী ও কাজী আশিক রহমান, মাগুরা]