চট্টগ্রামে ঢোল পিটিয়ে বেদখল হওয়া জমি উদ্ধার

ঢাকঢোল পিটিয়ে উদ্ধার করা হচ্ছে বেদখলে থাকা জমি। আজ রোববার দুপুরে আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নেছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় আদালতের আদেশে ৩৭ বছর ধরে বেদখলে থাকা এক ব্যক্তির ৫২ শতক জমি উদ্ধার হয়েছে। আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে ঢাকঢোল পিটিয়ে এসব জমি প্রকৃত মালিককে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। উদ্ধার হওয়া জমি আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের রায়পুর ওয়াহেদ আলী চৌধুরী বাজারসংলগ্ন এলাকায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আদালতের পক্ষে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা সকালে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরিমাপ করে উদ্ধার করা জমিতে লাল নিশানা গেড়ে দেওয়া হয়। জমি উদ্ধার উপলক্ষে রান্না করা হয় বিরিয়ানিও।

এলাকাবাসী ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৮ সালে ৫২ শতক জায়গা নিয়ে বিরোধ লাগে স্থানীয় আবদুল্লাহ ও আলী আহমদের। এ নিয়ে উভয় পক্ষের বিরোধ বাড়লে এলাকায় সালিস বৈঠক হয়। তবে এতে সমাধান না হওয়ায় আবদুল্লাহর ছেলে কামাল উদ্দিন বাদী হয়ে পটিয়া আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা করেন। ২০০৮ সালে ওই মামলার রায়ে কামাল উদ্দিনকে জায়গার মালিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তবে রায়ের পর প্রতিপক্ষ আলী আহমদ চট্টগ্রাম আদালতে আপিল করেন। ওই আপিল মামলাও ২০১৭ সালে খারিজ হয়ে যায়। পরে কামাল উদ্দিন চূড়ান্ত রায়ের জন্য আপিল করেন। ২০২৪ সালে চূড়ান্ত রায়ে আদালত ওই জমি কামাল উদ্দিনকে দখল করে দিতে প্রশাসনের প্রতি নির্দেশ দেন।

জমি পরিমাপের পর সীমানা চিহ্নিত করে খুঁটি গেড়ে দেওয়া হচ্ছে। আজ রোববার দুপুরে
ছবি: সংগৃহীত।

জমি দখল করে বুঝিয়ে দিতে আদালতের পক্ষে সার্ভেয়ার সুভাষ চক্রবর্তী, উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) পক্ষে সার্ভেয়ার শওকত আলীর সঙ্গে পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিল। জানতে চাইলে কামাল উদ্দিন বলেন, ‘দীর্ঘ সময় পর আইনের সহায়তায় আমি ও আমার পরিবার জায়গা বুঝে পেলাম। এভাবে জমি পাওয়ায় আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা আরও বেড়ে গেছে।’

জানতে চাইলে পটিয়া যুগ্ম জেলা জজ আদালতের নাজির অনি গুপ্ত বলেন, আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকঢোল পিটিয়ে জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ সময় কোনো ধরনের ঝামেলা হয়নি।