অভিযানে গিয়ে জেলেদের হামলার শিকার মৎস্য কর্মকর্তা ও পুলিশ

হিজলায় মেঘনা নদীতে অভিযানে গিয়ে আহত পুলিশ কনস্টেবল মাহফুজকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে
ছবি: প্রথম আলো

মা ইলিশ নিধন বন্ধের অভিযানে গিয়ে বরিশালের হিজলায় হামলার শিকার হয়েছেন মৎস্য কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্যসহ ২০ জন। আজ বৃহস্পতিবার ভোর পাঁচটার দিকে হিজলা উপজেলার খালিশপুর-সংলগ্ন মেঘনা নদীতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হিজলা উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা এস এম পারভেজ প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, হিজলা উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা এস এম পারভেজের নেতৃত্বে ১৬ পুলিশ সদস্যসহ ২০ জনের একটি দল ট্রলার ও স্পিডবোট নিয়ে নিয়মিত অভিযানে যান। আজ ভোরে হিজলার খালিশপুর-সংলগ্ন মেঘনা নদীতে গিয়ে তাঁরা অসংখ্য ছোট নৌকা ও ট্রলারে করে জেলেদের মা ইলিশ শিকার করতে দেখেন। জেলেরা তখন অভিযানকারী দলের ওপর হামলা করেন।

মৎস্য কর্মকর্তা এস এম পারভেজ বলেন, পরিস্থিত শান্ত করতে পুলিশ শটগানের দুটি ফাঁকা গুলি ছোড়ে। অভিযানকারীদের সবাই কমবেশি আহত হয়েছেন। মাথায় আঘাত লেগে গুরুতর আহত হয়েছেন হিজলা থানার পুলিশ কনস্টেবল মো. মাহফুজ। হামলা চালিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় ধাওয়া করে হামলাকারীদের মধ্যে নয়জনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা করা হবে।

হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইউনুস মিঞা বলেন, চারদিক থেকে অর্ধশতাধিক নৌকা নিয়ে অভিযান পরিচালনাকারী দলকে ঘিরে ফেলে হামলা চালানো হয়। এতে কনস্টেবল মাহফুজ গুরুতর আহত হন। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ৯ জেলেকে আটক করা হয়েছে, বাকিদের আটকের চেষ্টা চলছে।

ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হলেও এ এলাকার অসংখ্য জেলে ছোট নৌকা ও ট্রলার নিয়ে ইলিশ শিকার করছেন। এলাকাটি ইলিশের অভয়াশ্রম। অভয়াশ্রমের এই অংশ বরিশালের হিজলা, মুলাদী, মেহেন্দীগঞ্জ, চাঁদপুরের হাইমচর থেকে শুরু করে ভোলার তেঁতুলিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত।

গত বছরের ৮ অক্টোবর মেহেন্দীগঞ্জ–সংলগ্ন গজারিয়া নদীর সিকদারেরহাট এলাকায় অভিযান চালাতে গেলে হামলার শিকার হন অভিযান পরিচালনাকারী দল। এতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন ও আনসার সদস্য তুহিন মিয়া আহত হন। এ সময় শটগানসহ এক আনসার সদস্য নদীতে পড়ে যান।