সিলেটে চিকিৎসকের বাড়ির কিশোরী গৃহপরিচারিকার মৃত্যু, নির্যাতনের অভিযোগ পরিবারের
সিলেটে একজন চিকিৎসকের বাড়ির কিশোরী গৃহপরিচারিকার মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। রোববার রাতে সিলেট এম এ জি ওসামনী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। তার নাম লাকি আক্তার (১৫)। ওই চিকিৎসক ও তার পরিবারের সদস্যরা নির্যাতন করে বিষ খাইয়ে লাকিকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন।
নিহত লাকি আক্তার কানাইঘাটের সড়ক বাজার এলাকার সেলিম মিয়ার মেয়ে। ঘটনার বিষয়ে জানতে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলতে তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে সোমবার বিকেলে কল করা হলে তিনি সংযোগ কেটে দেন। এরপর একাধিকবার কল করা হলেও সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায়।
নিহত লাকি আক্তারের পরিবারের ভাষ্য, সিলেটের কানাইঘাটের বাসিন্দা লাকি আক্তার সাত-আট বছর ধরে নগরের মেজরটিলা এলাকার জাকারিয়া আহমদের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করত। জাকারিয়া আহমেদ সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক। গত শনিবার রাতে ওই চিকিৎসকের পরিবার থেকে জানানো হয়, লাকি অসুস্থ, তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এরপর পরিবারের লোকজন সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন লাকিকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। হাসপাতালেই রোববার রাতে তার মৃত্যু হয়েছে।
লাকির বড় ভাই রাজু আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের চার ভাই, তিন বোনের মধ্যে লাকি চতুর্থ। পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার জন্য লাকিকে ওই চিকিৎসকের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজে দেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসক এবং তাঁর পরিবারের লোকজন লাকিকে নির্যাতন করত। এর আগেও নির্যাতনের জন্য তাকে নিয়ে আসা হয়েছিল। ছয়–সাত মাস আগে লাকিকে আর কোনো নির্যাতন করা হবে না, এমন কথা বলে নিয়ে গিয়েছিলেন ওই চিকিৎসক। এর আগে লাকি ওই বাড়িতে সাত–আট বছর কাজ করেছে।
রাজু আহমদের দাবি, দ্বিতীয়বারের মতো লাকিকে নিয়ে যাওয়ার পরও তাকে নির্যাতন করা হয়েছে। পরে তাকে বিষ খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে। রাজু বলেন, লাকির মৃত্যুর পর তাঁরা ওই চিকিৎসক পরিবারকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন। এরপর থেকে তাঁরা মুঠোফোন বন্ধ রেখে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন। এতে বোঝা যায় তাঁর বোনকে হত্যা করা হয়েছে। লাকির মরদেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করবেন বলে জানান রাজু।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, নিহত কিশোরীর সুরতহাল প্রতিবেদন করে সোমবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ওই কিশোরী হারপিক খেয়ে বিষক্রিয়ায় নিহত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।