চাঁদপুরে ‘নাসিরের দই’ মানেই ভিন্ন স্বাদের কিছু
বাবার কাছ থেকে শিখে দই বানিয়ে বিক্রি করেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার নন্দলালপুর গ্রামের নাসির উদ্দিন (৩৮)। ২০০৪ সাল থেকে ২১ বছরের বেশি সময় ধরে চলছে তাঁর এই ব্যবসা। তাঁর তৈরি দই ভোজনরসিকদের কাছে ভিন্ন স্বাদের কিছু।
স্বাদ, মান ও সুঘ্রাণের কারণে নাসিরের দই এলাকার মানুষের বেশ প্রিয়। উপজেলার নন্দলালপুর বাজারে তাঁর ভাড়া দোকানটির নাম ‘নাসির দই ভান্ডার’।
উপজেলা সদর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে নন্দলালপুর গ্রাম। গ্রামের এক পাশে নন্দলালপুর বাজার। ওই বাজারের উত্তর পাশে একটি চিকন রাস্তার পাশে একটি আধা পাকা ছোট ঘর। এটিই ‘নাসির দই ভান্ডার’। ঘরটির এক পাশে তাকের মধ্যে সারি সারি দইয়ের গ্লাস, অন্য পাশে চেয়ার ও লম্বা টেবিল। সেখানে বসে দই খাচ্ছেন কিছু নারী ও পুরুষ। ক্রেতাদের কাছে দই বিক্রি করে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন বিক্রেতা। দোকানটি আকারে ছোট হলেও প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর।
সম্প্রতি দোকানে কথা হয় নাসির উদ্দিনের সঙ্গে। দই বিক্রির ফাঁকে ফাঁকে আলাপচারিতায় উঠে আসে তাঁর দই ব্যবসার নানা প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, নবম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। সংসারের অভাবের কারণে আর পড়া হয়নি। তাঁর বাবা টুকটাক দই বিক্রির ব্যবসা করলেও অসুস্থতা ও আর্থিক সমস্যায় ওই কাজ ছেড়ে দেন। তাঁর ওপর বর্তায় সংসারের ভার। ২০০৪ সালে ২০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু করেন দই তৈরি ও বিক্রির কাজ। প্রথম প্রথম ঠিকমতো বানাতে পারতেন না। বাবার কাছ থেকে শিখে ও পরামর্শ নিয়ে দই বানানোর কাজটি চালাতে থাকেন। এভাবে একসময় ভালো দই বানানো শিখে যান তিনি।
নাসির উদ্দিন বলেন, গ্রাম থেকে গরুর খাঁটি দুধ সংগ্রহ করে চিনি ও দুধের অনুপাত ঠিক রেখে গ্যাসের চুলায় বাড়িতে ও দোকানে দই বানিয়ে বিক্রি করেন। স্বাদ ও সুঘ্রাণের কারণে ক্রমেই বাড়তে থাকে দইয়ের বেচাবিক্রি। তৈরি দই কাঁচের ও প্লাস্টিকের গ্লাসে এবং পাতিলে করে সংরক্ষণ করে বিক্রি করেন। প্রতিদিন গড়ে ৭০ থেকে ৮০ গ্লাস দই বিক্রি করেন। পাতিলে করে প্রতিদিন দই বিক্রি হয় গড়ে ১৫ থেকে ২০ কেজি করে। এই ব্যবসা করে সংসারের অভাব ঘুচিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তাঁর ইচ্ছা আরও বড় পরিসরে ব্যবসা করার।
নন্দলালপুর বাজারের দোকানি সুখরঞ্জন ভৌমিক ও উপজেলার দুর্গাপুর এলাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. সুজন বলেন, নাসিরের তৈরি দই ভিন্ন স্বাদের। খেতে খুব মজা। তাঁরা প্রায়ই এখান থেকে দই কেনেন। চিনির পরিমাণ কিছুটা কম থাকায় ডায়াবেটিস রোগীরাও এটি খেতে পারেন। সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা দিয়ে কাজ করলে যে সুনাম অর্জন করে স্বাবলম্বী হওয়া যায়, নাসির এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।