ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশের ঝোপ থেকে নবজাতক উদ্ধার, দত্তক নিতে চান ইউএনও
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার পুলিশ ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশের ঝোপ থেকে জীবিত এক নবজাতককে উদ্ধার করেছে। বৃহস্পতিবার রাত নয়টার দিকে পুলিশ উপজেলা সদরের কুট্টাপাড়া শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম এলাকা থেকে ওই নবজাতককে উদ্ধার করে। নবজাতকটি বর্তমানে জেলা সদর হাসপাতালে শিশু বিভাগে ভর্তি রয়েছে। ওই নবজাতককে দত্তক নিতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন অনেকে। এর মধ্যে রয়েছেন সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোশাররফ হোসাইনও।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে এক নবজাতকের কান্না শুনতে পান কয়েকজন পথচারী। পরে সরাইল থানার পুলিশ নবজাতককে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠায়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে জেলা সদর হাসপাতালের শিশু বিভাগে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে নবজাতকটি সেখানেই চিকিৎসাধীন।
সরাইল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. পরভেজ আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা শিশুটির উন্নত চিকিৎসার জন্য সব ধরনের চেষ্টা করছি। শিশুটি আমাদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। অনেকেই শিশুটি দত্তক নিতে আগ্রহী হচ্ছেন। শিশুটির প্রকৃত মা-বাবার খোঁজ না পাওয়া গেলে নিয়মকানুন মেনে দত্তক দেওয়া যেতে পারে।’
নবজাতকের শারীরিক অবস্থার বর্ণনা দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন মো. নোমান মিয়া প্রথম আলোকে জানান, নবজাতকটি মেয়েশিশু; অনেকটা অপরিপক্ব। শিশুটি পানিশূন্যতা এবং অপুষ্টিতে ভুগছে। তাকে এনআইসিইউতে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর প্রয়োজন হতে পারে।
এ বিষয়ে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল হাসান বলেন, ‘ওই নবজাতককে দত্তক নিতে ইতিমধ্যে দুই শতাধিক লোক আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। এর মধ্যে সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও রয়েছেন।’
ইউএনও মো. মোশাররফ হোসাইন শুক্রবার বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, ‘একটি সন্তানের জন্য মানুষ কত কিছু না করে। আর সেখানে সড়কের পাশে ঝোপঝাড়ে মানবসন্তান ফেলে রাখা হয়। বিষয়টি আমাকে খুব নাড়া দিয়েছে। আমার পাঁচ বছরের একটি ছেলেসন্তান রয়েছে। আইনগত সব প্রক্রিয়া মেনে আমি শিশুটিকে দত্তক নিতে চাই। আমি তার দায়িত্ব নিতে চাই। আমি ঢাকা থেকে কিছুক্ষণ আগে এসেছি। আজই আমি স্ত্রীকে নিয়ে শিশুটি দেখতে যাব।’