প্রতিবন্ধী আঞ্জুরা ও সালামের বিয়ের আয়োজন করল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন

প্রতিবন্ধী আঞ্জুরা আক্তার ও আবদুস সালামের বিয়ের আয়োজন করে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আলোর পথে ফরিদপুর’। শুক্রবার বিকেলে ফরিদপুরের সালথার উজিরপুর গ্রামে
ছবি: প্রথম আলো

কনের নাম আঞ্জুরা আক্তার (১৮)। বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী এই তরুণী ঠিকমতো কথা বলতে পারেন না, মানুষ দেখলে শুধু হাসেন। বরের নাম আবদুস সালাম ওরফে সুমন (২৫), তিনিও পরিষ্কার করে কথা বলতে পারেন না। তাঁদের বিয়ের আয়োজন করেছে ‘আলোর পথে ফরিদপুর’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। শুধু তা–ই নয়, শৈশব থেকেই দরিদ্র পরিবারের মেয়ে আঞ্জুরার ভরণপোষণ করেছেন এই সংগঠনের এক সদস্য।

আঞ্জুরার বাড়ি ফরিদপুরের সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের উজিরপুর গ্রামে। আঞ্জুরার মা নাজমা বেগমও (৪৬) ঠিকমতো কথা বলতে পারেন না। আঞ্জুরার আট বছর বয়সে দিনমজুর বাবা তাঁর মাসহ তাঁদের ছেড়ে নিরুদ্দেশ হন। স্বামী চলে যাওয়ার পর তাঁর মা তিন সন্তান নিয়ে চরম অসহায় অবস্থার মধ্যে পড়েন। পরিবারটির অসহায়ত্বের খবর পেয়ে আঞ্জুরা ও তাঁর এক ভাইয়ের দায়িত্ব নেন ‘আলোর পথে ফরিদপুর’-এর কোষাধ্যক্ষ মহুয়া ইসলাম। দুজনকে লালনপালন করে বড় করে তোলেন তিনি।

বর আবদুস সালাম ওরফে সুমনের মা-বাবা, ভাইবোন কেউ নেই। তাঁর বাড়ি কুষ্টিয়ায় হলেও বর্তমানে থাকেন ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ময়েনদিয়া বাজারের পাশে। তিনি আঞ্জুরাকে পছন্দ করার পর গতকাল শুক্রবার বিকেলে সালথার উজিরপুর গ্রামে আঞ্জুরার মায়ের বাড়িতে তাঁদের বিয়ের আয়োজন করা হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, ছাপরার সামনে ছোট উঠান। সেখানে চুলা খুঁড়ে বরযাত্রী ও প্রতিবেশীদের খাওয়াদাওয়ার জন্য রান্না করা হয়। খাবারের মেনু ছিল পোলাও, বেগুনভাজি, মাছ, ডিম, মুরগির মাংস ও পায়েস। আবদুস সালামের সঙ্গে বরযাত্রী হিসেবে ১২-১৩ জন আসেন। পাশাপাশি এলাকার লোকজনকেও দাওয়াত দেওয়া হয়, সাউন্ড বক্সে বাজানো হয় বিয়ের গান। বিয়ের আয়োজনে কোনো কমতি ছিল না। আঞ্জুরা নতুন শাড়ি-গয়না পরেন এবং বর সুমন নতুন পাঞ্জাবি-পায়জামা পরে বিয়ের আসরে আসেন। কাজি দুই লাখ টাকা দেনমোহরে তাঁদের বিয়ে পড়ান।

আধো আধো উচ্চারণে বর আবদুস সালাম বলেন, ‘আমার বাড়ি কুষ্টিয়ায়। আমার মা-বাবা, ভাইবোন কেউ নেই। আমি ময়েনদিয়া বাজারে কাঁচা তরিতরকারির ছোট একটা দোকান করি। আঞ্জুরাকে আমার পছন্দ হয়েছে। তাই বিয়ে করছি। আপনারা সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’

মহুয়া ইসলাম বলেন, ‘আঞ্জুরার পরিবার খুবই গরিব ও অসহায়। তাদের সামর্থ্য ছিল না আঞ্জুরা ও তার ভাইবোনের লালনপালন করার। মাত্র আট বছর বয়সে আমি আঞ্জুরার দেখা পাই। পরে ওর আরেক ভাইকেও আমি নিয়ে যাই। ওদের তিন ভাইবোনের মধ্যে দুই ভাইবোনকে আমি লালনপালন করি। এখন আঞ্জুরার বিয়ের বয়স হয়েছে। তাকে বিয়ে দেওয়ার মতো সামর্থ্য নেই তার পরিবারের। তাই “আলোর পথে ফরিদপুর”-এর পক্ষ থেকে আমি এই বিয়ের আয়োজন করেছি। বিয়ের আয়োজনে অনেকে আমাকে সহযোগিতা করেছেন।’