শ্রীপুর থেকে উদ্ধার হাত-পা বাঁধা সেই লাশের পরিচয় মিলেছে, তিনজন গ্রেপ্তার
গাজীপুরের শ্রীপুরে কলাবাগান থেকে হাত–পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা অর্ধগলিত লাশের পরিচয় মিলেছে। লাশটি রেজাউল করিম (৪০) নামের এক পোশাককর্মীর।
পুলিশ বলছে, ছিনতাইকারীরা রেজাউলকে শ্বাস রোধ করে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এরই মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ শনিবার বেলা ১১টায় গাজীপুরের শ্রীপুর থানায় সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদীন মণ্ডল। এ ঘটনায় পুলিশ একটি মামলা করেছে।
৯ মার্চ সন্ধ্যায় গাজীপুরের শ্রীপুরের গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক লাগোয়া ময়লার ভাগাড়ের পাশের একটি কলাবাগান থেকে এক ব্যক্তির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশের হাত-পা প্লাস্টিকের দড়ি দিয়ে বাঁধা ছিল। পরে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ও স্বজনদের মাধ্যমে শনাক্ত করে লাশটি রেজাউল করিমের। তাঁর বাড়ি নেত্রকোনা সদর উপজেলার দুর্গাশ্রম এলাকায়। শ্রীপুরের গিলারচালা গ্রামের নতুন বাজার এলাকায় একটি কক্ষে স্ত্রীকে নিয়ে ভাড়া থাকতেন তিনি। পাশের গাজীপুর সদর উপজেলার বাঘের বাজার এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় তিনি চাকরি করতেন।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন শ্রীপুরের উজিলাব গ্রামের নুরুল ইসলাম (৫২), কেওয়া পশ্চিমখণ্ড এলাকার শাহাদাত হোসেন শান্ত (২৫) ও নেত্রকোনা সদর উপজেলার টেঙ্গা গ্রামের মো. জুলহাস (৩৪)। তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে রেজাউল করিম সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় চারজন ছিনতাইকারী তাঁর পথ রোধ করে। রেজাউলের কাছে থাকা পাঁচ হাজার টাকা ও মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে তারা। কিন্তু রেজাউল টাকা ও মুঠোফোন দিচ্ছিলেন না। একপর্যায়ে ছিনতাইকারীরা তাঁকে ধরে পাশের কলাবাগানে নিয়ে শ্বাস রোধ করে হত্যা করে হাত-পা বেঁধে ফেলে রেখে যায়। ঘটনার ৯ দিন পর অর্ধগলিত অবস্থায় সেখানে লাশের সন্ধান পাওয়া যায়। লাশটি অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। পরে জড়িত একজনকে প্রথমে গ্রেপ্তার করে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্য দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সুজন কুমার পণ্ডিত প্রথম আলোকে বলেন, ‘গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপর আাসমিকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’