বরগুনায় সেই কিশোরীর পরিবারের পাশে বিএনপি, আর্থিক ও আইনি সহায়তার আশ্বাস
বরগুনায় ভুক্তভোগী সেই কিশোরীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস। আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে তিনি বরগুনা পৌরসভায় কিশোরীর বাড়িতে যান। এ সময় তিনি বিএনপির পক্ষ থেকে তার পরিবারকে আইনি সহায়তাসহ সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এর আগে গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে কিশোরীর বাড়িতে যান বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম (মনি)। এ সময় তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে এক লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেন।
কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করার পর তাঁর বাবা হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। কিশোরীর পরিবার বলছে, ৪ মার্চ বিকেলে প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরার পথে সপ্তম শ্রেণিতে পড়া কিশোরীকে (১৪) এক বখাটের নেতৃত্বে কয়েকজন অপহরণ করে। এরপর তাকে ধর্ষণ করা হয়। পরদিন সকালে ওই কিশোরীকে স্থানীয় পার্কে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা (৩৭) ওই দিন রাতেই বরগুনা সদর থানায় সিজিত রায়সহ দুজনের নামে ধর্ষণের মামলা করেন। এরপর ১১ মার্চ কর্মস্থলে গিয়ে নিখোঁজ হন কিশোরীর বাবা। ওই দিন রাত সোয়া ১২টার দিকে বাড়ির পাশের ঝোপে তাঁর লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় কিশোরীর মা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা পাঁচ থেকে ছয়জনকে আসামি করে বরগুনা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
আফরোজা আব্বাস বলেন, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগী এ পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এসেছি। অনেকেই পরিবারটির খোঁজ নিয়েছেন। তবে আমার মনে হয়, সবার আগে তারেক রহমানই পরিবারটির সঙ্গে কথা বলে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।’
আফরোজা আব্বাস আরও বলেন, ‘আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সব সময়ই নারী নির্যাতনের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছেন। মহিলা দলকেও সব সময় নারী নির্যাতনের বিপক্ষে দাঁড়াতে বলেছেন। পরিবারটিকে হয়তো অনেক ভালো রাখতে পারব না, কিন্তু অনেক খারাপও থাকবে না ইনশাল্লাহ। ভুক্তভোগী পরিবারটির আইনি সহায়তাসহ সব ধরনের সহযোগিতা দিতে বিএনপি যথাসম্ভব পাশে থাকবে।’
গতকাল কিশোরীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর নুরুল ইসলাম বলেন, নির্যাতিত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সব ধরনের আইনি সহযোগিতা করার জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর নির্দেশেই শোকার্ত পরিবারটির ভরণপোষণের দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে। মেয়েদের লেখাপড়াসহ ফ্রি চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। সর্বোপরি বিএনপি এই পরিবারের সঙ্গে আছে এবং থাকবে। পরিবারটি যাতে সুষ্ঠু ও ন্যায়বিচার পায়, বিএনপি তাদের সঙ্গে থেকে এটি নিশ্চিত করবে। মামলার কার্যক্রম যত দ্রুত সম্ভব শেষ করার জন্য প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলা হবে।
হত্যাকাণ্ডের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘হত্যাকান্ডে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যার রহস্য উদঘাটনের জন্য আজ আদালতে আসামিদের রিমান্ডের আবেদন করা হবে।’