কথিত অ্যাপে ৮৭ লাখ টাকা প্রতারণার অভিযোগে রাজশাহীতে মামলা

ডিজিটাল প্রতারণা
প্রতীকী ছবি

প্রতারক চক্রের তৈরি করা ‘ইউএস অ্যাগ্রিমেন্ট’ নামের মুঠোফোন অ্যাপে বিনিয়োগের কথা বলে ৮৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে রাজশাহীতে মামলা হয়েছে। সাইফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি গতকাল বুধবার রাজশাহীর চন্দ্রিমা থানার আমলি আদালতে মামলাটি করেন। আজ বৃহস্পতিবার আদালতের বিচারক মামলাটি চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার বাদী সাইফুল ইসলামের বাড়ি রাজশাহীর উপরভদ্রা এলাকায়। তাঁর আইনজীবী শামীম আখতার মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বুধবার মামলার আবেদন করার পর বৃহস্পতিবার আদালত মামলাটি চন্দ্রিমা থানার ওসিকে তদন্তের জন্য দিয়েছেন।

মামলায় যাঁদের আসামি করা হয়েছে তাঁরা হলেন ইউএস অ্যাগ্রিমেন্টের বাংলাদেশ প্রধান সজীব কুমার ভৌমিক ওরফে মাহাদী হাসান (৩৩), কান্ট্রি লিডার মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া (৩৫), রাজশাহী বিভাগীয় ব্যবস্থাপক ওয়াহেদুজ্জামান সোহাগ (৩৮), সোহাগের স্ত্রী ও রাজশাহী বিভাগীয় ব্যবস্থাপক ফাতেমাতুজ জহুরা মিলি (৩২), রাজশাহীর এজেন্ট মিঠুন মণ্ডল (৩৬), ওয়াজেদ আলী খেবির (৬০), মোজাহার আলী (৫৫) ও মো. ওবাইদুল্লাহ (৪৩)।

তাঁদের মধ্যে সজীব কুমার ভৌমিকের বাড়ি নোয়াখালী। মোতালেবের বাড়ি লক্ষ্মীপুর, ওবাইদুল্লাহ চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা। বাকি আসামিদের বাড়ি রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায়।

মামলার বাদী সাইফুল ইসলাম বিনিয়োগ করেছিলেন ১৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া মামলার সাক্ষী জাকির হোসেন ১২ লাখ, শারমীন সুলতানা ২০ লাখ, তাহেরুল ইসলাম ৬ লাখ, রাজীব সাহা ১৭ লাখ, আনোয়ার হোসেন ৮ লাখ ও আশরাফুল রহমান ৯ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন বলে মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে। হাতিয়ে নেওয়া মোট অর্থের পরিমাণ ৮৭ লাখ টাকা।

মামলার আরজিতে বলা হয়, আসামিরা প্রতারক। তাঁরা ইউএস অ্যাগ্রিমেন্ট নামের একটি মুঠোফোন অ্যাপে বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়েছিলেন। বলেছিলেন, এই অ্যাপে বিনিয়োগ করলে প্রতি এক লাখ টাকার জন্য প্রতি মাসে ১১ হাজার ২০০ টাকা মুনাফা আসতে থাকবে।

প্রতারক চক্র তাঁদের একটি সেমিনারে ডাকেন। মামলার বাদী ও সাক্ষীরা ওই সেমিনারে গেলে তাঁদের বিনিয়োগ করতে প্রলুব্ধ করা হয়। এরপর ২০২২ সালের ৫ ডিসেম্বর তাঁরা আসামিদের হাতে বিনিয়োগের টাকা তুলে দেন। তখন তাঁরা মোবাইলে ইউএস অ্যাগ্রিমেন্ট অ্যাপ চালু করে দেন, কিন্তু এতে কখনো কোনো মুনাফা আসেনি। কথা ছিল, যেকোনো সময় বিনিয়োগকারীরা মূলধন (পুঁজি) তুলে নিতে পারবেন, কিন্তু তাঁরা সে টাকাও তুলতে পারেননি।

এভাবে তাঁরা প্রতারণার শিকার হন। হঠাৎ গত ২১ ফেব্রুয়ারি আসামি ওয়াহেদুজ্জামান সোহাগ, ফাতেমাতুজ জহুরা, ওয়াজেদ আলী ও মিঠুন মণ্ডলের সঙ্গে বাদী সাইফুল ইসলামের দেখা হয়। এ সময় তিনি টাকা ফেরত চাইলে তাঁরা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানন। ভবিষ্যতে টাকা চাইলে বড় ধরনের ক্ষতি হবে বলেও তাঁরা হুমকি দেন। ফলে তিনি এ মামলা করেন।

আইনজীবী শামীম আখতার হৃদয় বলেন, ২০২৪ সালের শুরুতে রাজশাহীর আদালতে এ–সংক্রান্ত কয়েকটি মামলা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি হয়েছিল। এরই মধ্যে নতুন একটি মামলা হলো। আগামী ২৯ এপ্রিল এ মামলার পরবর্তী ধার্য তারিখ রয়েছে।