সিইউএফএলে তিন সপ্তাহ পর পুনরায় ইউরিয়া উৎপাদন শুরু

চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানা লিমিটেডফাইল ছবি

যান্ত্রিক ত্রুটিতে ৩ জানুয়ারি ইউরিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায় চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডে (সিইউএফএল)। যান্ত্রিক ত্রুটি সারানোর মাধ্যমে প্রায় তিন সপ্তাহ পর গতকাল শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে কারখানাটিতে ইউরিয়া উৎপাদন পুনরায় শুরু হয়েছে।

সিইউএফএল সূত্র জানায়, দুই বছর ধরে কখনো যান্ত্রিক ত্রুটি, কখনো গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে সিইউএফএলে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কেবল ৫ দিন চালু ছিল রাষ্ট্রায়ত্ত এই সার কারখানা। গত বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। টানা ১০ মাস পর গত ১৩ অক্টোবর পুনরায় কারখানা চালু হয়। এরপর চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি আবারও যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়।

সিইউএফএল সূত্র জানায়, ১৯৮৭ সালের ২৯ অক্টোবর জাপানের কারিগরি সহায়তায় কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পারে আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় সার কারখানাটি প্রতিষ্ঠা করে সরকার। কারখানা চালু হওয়ার সময় ইউরিয়া উৎপাদনক্ষমতা ছিল দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন এবং বার্ষিক ৫ লাখ ৬১ হাজার মেট্রিক টন। তবে বর্তমানে দৈনিক ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদন করতে সক্ষম হচ্ছে কারখানাটি। পাশাপাশি দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন এবং বার্ষিক ৩ লাখ ১০ মেট্রিক টন অ্যামোনিয়া উৎপাদন করতে পারে সিইউএফএল।

সিইউএফএল সূত্র আরও জানায়, পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনের জন্য সম্পূর্ণ গ্যাসনির্ভর এ কারখানায় দৈনিক ৪৮ থেকে ৫২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন। গ্যাসসংকট এবং যান্ত্রিক নানা সমস্যা থাকায় গত অর্থবছর কারখানাটিতে আড়াই লাখ মেট্রিক টনের মতো ইউরিয়া সার উৎপাদিত হয়েছে। কৃষিনির্ভর বাংলাদেশে ইউরিয়া সারের চাহিদা বছরে প্রায় ২৬ লাখ মেট্রিক টন। তার মধ্যে সিইউএফএলসহ বিসিআইসির অন্যান্য কারখানা প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদন করে। অবশিষ্ট ১৬ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া উচ্চমূল্যে আমদানি করতে হয়।

জানতে চাইলে সিইউএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘শনিবার রাত আড়াইটা থেকে আমরা ইউরিয়া উৎপাদন শুরু করেছি। কারখানায় উৎপাদন শুরু হওয়ায় শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তারা আনন্দিত।’